শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বেরোবির ‘জুলাই প্রতিনিধি’ তালিকায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নাম থাকার অভিযোগ



বেরোবির ‘জুলাই প্রতিনিধি’ তালিকায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নাম থাকার অভিযোগ
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি), রংপুরের পাঠানো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি’ তালিকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে ১১ জন শিক্ষকের নামের তালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ওই শিক্ষকদের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের নাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তালিকায় থাকা ১১ শিক্ষক হলেন- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস প্রামাণিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ-উল-হাসান, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা জান্নাত তসি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইফফাত আরা বাঁধন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফা আক্তার নিপা।

তালিকায় থাকা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রংপুরের সমাবেশে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ওই সমাবেশের একটি ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। তাদের মধ্যে গণিত বিভাগের শিক্ষক ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি মশিউর রহমান, নীল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. আপেল মাহমুদসহ আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ-উল-হাসানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে বেরোবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইফফাত আরা বাঁধন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফা আক্তার নিপা নীল দলের সদস্য ছিলেন বলেও দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তালিকায় থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবনকে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই পিএইচডি করার অভিযোগ রয়েছে।

তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ জুলাই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে তালিকাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, যাচাই-বাছাই করে তাঁদেরই প্রতিনিধি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান, "নিজের চোখে দেখা, নেতৃত্ব দেওয়া জুলাইয়ের এত বড় বিকৃতি কখনোই মেনে নিতে পারবো না।" তিনি তালিকাটি দ্রুত প্রত্যাহার ও সংশোধন করে এই তালিকায় থাকা শিক্ষকদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার তথ্য প্রকাশ্যে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদুল হক আলবির বলেন, “এখানে বেশিরভাগ শিক্ষকই আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। এখানকার কিছু শিক্ষক অতীতে ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিলেন। এভাবে জুলাই যোদ্ধাদের বিকৃতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “এখানে অনেক শিক্ষক আমাদের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা না করলেও বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন। তারপরও এই তালিকা প্রকাশের আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। আর যারা জুলাইবিরোধী ছিলেন, তাদের তালিকাও প্রশাসনের প্রকাশ করা উচিত।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “তালিকায় নীল দল ও হলুদ দলের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের রাখা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যাদের অবদান আছে, তাদের নাম যুক্ত করা হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”

তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা সংশোধন করা হবে।” প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে তিনি জানান, আগের তালিকা স্থগিত করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধিত তালিকা পাঠানোর কথা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বেরোবির ‘জুলাই প্রতিনিধি’ তালিকায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নাম থাকার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি), রংপুরের পাঠানো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি’ তালিকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে ১১ জন শিক্ষকের নামের তালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ওই শিক্ষকদের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের নাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তালিকায় থাকা ১১ শিক্ষক হলেন- ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস প্রামাণিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ-উল-হাসান, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা জান্নাত তসি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইফফাত আরা বাঁধন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফা আক্তার নিপা।

তালিকায় থাকা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ২ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রংপুরের সমাবেশে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ওই সমাবেশের একটি ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। তাদের মধ্যে গণিত বিভাগের শিক্ষক ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি মশিউর রহমান, নীল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. আপেল মাহমুদসহ আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ-উল-হাসানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে বেরোবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইফফাত আরা বাঁধন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফা আক্তার নিপা নীল দলের সদস্য ছিলেন বলেও দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তালিকায় থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবনকে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই পিএইচডি করার অভিযোগ রয়েছে।

তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ জুলাই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে তালিকাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, যাচাই-বাছাই করে তাঁদেরই প্রতিনিধি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানান, "নিজের চোখে দেখা, নেতৃত্ব দেওয়া জুলাইয়ের এত বড় বিকৃতি কখনোই মেনে নিতে পারবো না।" তিনি তালিকাটি দ্রুত প্রত্যাহার ও সংশোধন করে এই তালিকায় থাকা শিক্ষকদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার তথ্য প্রকাশ্যে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদুল হক আলবির বলেন, “এখানে বেশিরভাগ শিক্ষকই আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। এখানকার কিছু শিক্ষক অতীতে ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিলেন। এভাবে জুলাই যোদ্ধাদের বিকৃতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “এখানে অনেক শিক্ষক আমাদের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা না করলেও বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন। তারপরও এই তালিকা প্রকাশের আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। আর যারা জুলাইবিরোধী ছিলেন, তাদের তালিকাও প্রশাসনের প্রকাশ করা উচিত।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “তালিকায় নীল দল ও হলুদ দলের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের রাখা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যাদের অবদান আছে, তাদের নাম যুক্ত করা হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”

তালিকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা সংশোধন করা হবে।” প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে তিনি জানান, আগের তালিকা স্থগিত করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধিত তালিকা পাঠানোর কথা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream