দিনাজপুরে গত কয়েকদিন ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। একই সঙ্গে গ্যাসের কিছু ডিলার ও বিক্রেতা সিলিন্ডার মজুত করে রাখছেন এবং পরিচিত ব্যক্তি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সাধারণ গ্রাহক।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক দোকানে স্বল্পসংখ্যক সিলিন্ডার রাখা হলেও সেগুলো সবার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না। পরিচিত ব্যক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মৌখিক সুপারিশ বা নির্দেশনা থাকলেই সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের সুযোগে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। আবার কোথাও কোথাও সিলিন্ডার মজুত করে রাখার অভিযোগও উঠেছে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
দিনাজপুর শহরের কালীতলা এলাকার রেঞ্জু গ্যাস ডিলার রেঞ্জু বলেন, কয়েকটি গ্যাস কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তার কাছে শুধু উমেরা ও যমুনা গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন তিনি।
রেঞ্জু বলেন, ‘প্রায় ১০ দিন আগে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্য কোম্পানিগুলো গ্যাস সরবরাহ না করায় তাদের সিলিন্ডারও আমাদের কাছে নেই।
আরেক ডিলার মোকসেদ আলী বলেন, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদিন প্রায় ৫০০ সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিপো থেকে ২০০ থেকে ২৩০টির বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অনেক সময় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে ডিপো থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিক, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হচ্ছে।
গ্যাস ডিলার মো. আবু সাঈদ বিপ্লব বলেন, গত তিনদিন ধরে ডিপোতে চাহিদা পাঠিয়েও তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। গতকাল থেকে আরও কয়েকটি কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ না করায় সংকট আরও বেড়েছে। বর্তমানে তার চাহিদার প্রায় অর্ধেক সিলিন্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক গ্রাহককে গ্যাস না দিয়েই ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।
দিনাজপুর শহরের জামাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েকটি গ্যাসের ডিপো ও ডিলার পয়েন্টে গিয়েছি। পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত দিয়েও নতুন গ্যাস পাচ্ছি না। দুইটি ডিলার পয়েন্টে গিয়েও ফিরে এসেছি। তারা বলছে, সরবরাহ নেই। কোনো কোনো দোকান আবার বন্ধ করে চলে যাচ্ছে। কয়েকটি দোকান ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
আরেক ক্রেতা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিলে কিছু বিক্রেতা অন্য জায়গা থেকে সিলিন্ডার এনে দিচ্ছেন। কিন্তু নির্ধারিত দামের মধ্যে গ্যাস চাইলে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমাকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৫০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
মতামত