রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগ
লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগ

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চেষ্টার মাঝেই কক্সবাজারের রামুতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ১ থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে অসাধু চক্রের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জাতীয় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানী নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রামুর বিভিন্ন ইউনিয়নের কাল্পনিক ও অস্পষ্ট ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত ১২ জন নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যাদের বয়স ২৬ থেকে ৬৬ বছর পর্যন্ত।

উপজেলার খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ঈদগড় ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে এসব রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো হয়েছে:

পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা বানিয়ে নুর হোসাইন (৬৬), দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলিপাড়ার ফাতেমা বেগম (৪৪), মোক্তার বাপেরপাড়ার ইসমেত আরা সুলতানা (২৬), পূর্ব পানেরছড়ার ফয়সাল (২৬) ও সিরাজুল মোস্তাফা (২২)।

করলিয়ামোরার মুনতাহা (২৫) ও রবিদা (৪১), ছগিরাকাটার খালেদা আক্তার (২৮) ও রফিক (২৩), চরপাড়ার রবিদা (৪১), নয়া পাড়ার রেহেনা হেলাল (৪৩) এবং গর্জনিয়ার ফকিরপাড়ার বাসিন্দা দেখিয়ে জাবের (৩২)।

স্থানীয় ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সিকদার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম সোহেল ও শাকের আহমদ যৌথভাবে জানিয়েছেন, "ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের আমরা চিনি না, এমনকি অতীতে কখনও দেখিনি। এটি নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাল-জালিয়াতির চূড়ান্ত রূপ।"

অনুসন্ধানী সূত্রমতে, প্রতিবছর মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শত শত রোহিঙ্গাকে রামু থেকে ভোটার বানানো হয়। প্রতি ভোটারের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়, যার বড় একটি অংশ কমিশন হিসেবে হাতবদল হয়।

রামু উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সমন্বয়, কাগজপত্র জালকরণ এবং নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রত্যক্ষ অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ বলেন, "অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনি স্বচ্ছতা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। এতে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।"

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চেষ্টার মাঝেই কক্সবাজারের রামুতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ১ থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে অসাধু চক্রের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জাতীয় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানী নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রামুর বিভিন্ন ইউনিয়নের কাল্পনিক ও অস্পষ্ট ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত ১২ জন নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যাদের বয়স ২৬ থেকে ৬৬ বছর পর্যন্ত।

উপজেলার খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ঈদগড় ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে এসব রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানো হয়েছে:

পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা বানিয়ে নুর হোসাইন (৬৬), দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলিপাড়ার ফাতেমা বেগম (৪৪), মোক্তার বাপেরপাড়ার ইসমেত আরা সুলতানা (২৬), পূর্ব পানেরছড়ার ফয়সাল (২৬) ও সিরাজুল মোস্তাফা (২২)।

করলিয়ামোরার মুনতাহা (২৫) ও রবিদা (৪১), ছগিরাকাটার খালেদা আক্তার (২৮) ও রফিক (২৩), চরপাড়ার রবিদা (৪১), নয়া পাড়ার রেহেনা হেলাল (৪৩) এবং গর্জনিয়ার ফকিরপাড়ার বাসিন্দা দেখিয়ে জাবের (৩২)।

স্থানীয় ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সিকদার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম সোহেল ও শাকের আহমদ যৌথভাবে জানিয়েছেন, "ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের আমরা চিনি না, এমনকি অতীতে কখনও দেখিনি। এটি নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাল-জালিয়াতির চূড়ান্ত রূপ।"

অনুসন্ধানী সূত্রমতে, প্রতিবছর মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শত শত রোহিঙ্গাকে রামু থেকে ভোটার বানানো হয়। প্রতি ভোটারের কাছ থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়, যার বড় একটি অংশ কমিশন হিসেবে হাতবদল হয়।

রামু উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সমন্বয়, কাগজপত্র জালকরণ এবং নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রত্যক্ষ অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ বলেন, "অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনি স্বচ্ছতা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। এতে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।"



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream