প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম দিল্লি সফর।
ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্ভাব্য সফরটি দুই দিনের হতে পারে। সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই সম্ভাব্য এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
সম্প্রতি সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতও মিলেছে। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্ভাব্য দিল্লি সফরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়েও দুই দেশের আলোচনায় নতুন গতি আসতে পারে।
তবে সম্ভাব্য এই সফরে সব বিরোধের সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা নেই। বরং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফেরানোই সফরের বড় লক্ষ্য হতে পারে।
সবকিছু চূড়ান্ত হলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হতে যাচ্ছে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা। মোদি-তারেক বৈঠক তাই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতামত