পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে মারধর, দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নির্যাতনের সময় তার শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটানোরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম।
ভুক্তভোগীর দাবি, ধর্ম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালান।
এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন কুলসুম। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রডসহ কুলসুমের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে তার দাঁত ভেঙে যায়। পরে ব্লেড দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা তার ধর্মান্তর ও বিয়ের কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে নষ্ট করে এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার বর্তমান স্বামীকেও মারধর করা হয়।
এ ছাড়া ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি নগদ টাকা ও বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে কুলসুম দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর অভিযান চালিয়ে রাকিব ইসলাম, সোহেল রানা ও সাহেল খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসা মিয়া জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মতামত