বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM

নীলফামারীর ডোমারে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ নেসকোর বিরুদ্ধে


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

নীলফামারীর ডোমারে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ নেসকোর বিরুদ্ধে
নীলফামারীর ডোমারে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ নেসকোর বিরুদ্ধে

নীলফামারীর ডোমারে গ্রাহকদের মতামত ও সচেতনতা কার্যক্রম ছাড়াই জোরপূর্বক স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রাহক দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রিপেইড মিটার নেওয়ার জন্য তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিলের কপি আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই নেসকোর নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রকল্পের আওতাধীন বিদ্যুৎ বিতরণ দপ্তরগুলোতে নতুন সংযোগ প্রদান ও নষ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডোমার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহীপাড়ার মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা বাড়িতে না থাকার সময় পুরোনো মিটার খুলে নতুন কার্ড মিটার লাগানো হয়। অনুরোধ করেও মিটার স্থাপন ঠেকাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নতুন মিটারে ৫০০ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে রিচার্জের টাকা থেকে কেটে নেওয়া হবে।

একই এলাকার আমিনা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীর পুরোনো মিটারের প্রায় ১৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাকে জানায়। এরপর নতুন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, মিটারে তার মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়নি।

ডোমার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীমের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের কপি আটকে রেখে তাকে প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একসঙ্গে বকেয়া বিল পরিশোধ করা তার জন্য কঠিন বলেও জানান তিনি।

ডোমার বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা না করেই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নেসকোর ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম বলেন, নতুন সংযোগ কিংবা কোনো মিটার নষ্ট হলে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক। এর বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে অন্যান্য গ্রাহকের ক্ষেত্রেও প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে, তবে গ্রাহকদের বুঝিয়ে তা করা হবে।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে আসেনি। কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও নেসকো কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের অধিকার, স্বচ্ছতা ও যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না - তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


নীলফামারীর ডোমারে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ নেসকোর বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর ডোমারে গ্রাহকদের মতামত ও সচেতনতা কার্যক্রম ছাড়াই জোরপূর্বক স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রাহক দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পুরোনো মিটার খুলে নতুন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রিপেইড মিটার নেওয়ার জন্য তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিলের কপি আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই নেসকোর নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রকল্পের আওতাধীন বিদ্যুৎ বিতরণ দপ্তরগুলোতে নতুন সংযোগ প্রদান ও নষ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডোমার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহীপাড়ার মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা বাড়িতে না থাকার সময় পুরোনো মিটার খুলে নতুন কার্ড মিটার লাগানো হয়। অনুরোধ করেও মিটার স্থাপন ঠেকাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নতুন মিটারে ৫০০ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে রিচার্জের টাকা থেকে কেটে নেওয়া হবে।

একই এলাকার আমিনা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীর পুরোনো মিটারের প্রায় ১৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাকে জানায়। এরপর নতুন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, মিটারে তার মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়নি।

ডোমার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীমের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের কপি আটকে রেখে তাকে প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একসঙ্গে বকেয়া বিল পরিশোধ করা তার জন্য কঠিন বলেও জানান তিনি।

ডোমার বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা না করেই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নেসকোর ডোমার নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম বলেন, নতুন সংযোগ কিংবা কোনো মিটার নষ্ট হলে প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রিপেইড মিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক। এর বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে অন্যান্য গ্রাহকের ক্ষেত্রেও প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে, তবে গ্রাহকদের বুঝিয়ে তা করা হবে।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে আসেনি। কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও নেসকো কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের অধিকার, স্বচ্ছতা ও যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না - তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
২৪/৭ লাইভ অডিও সম্প্রচার