স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর মানচিত্রে সব রাষ্ট্রপ্রধান ও সকল মানুষের নিকট আলোচিত এবং পরিচিত একটি নাম। দেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ২১শে সেপ্টেম্বর বিশেষ বিমানযোগে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে দেশবাসীর দোয়া নিয়ে যাত্রা করে সেখানে ইতোমধ্যে ভালোভাবে পৌঁছে অবস্থান করছেন। তিনি দেশ পরিচালনায় দক্ষতার ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে অল্প দিনে মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র প্রধানদের নিকট তার ব্যক্তিগত গুণাবলীর উৎকর্ষতা ও আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাইতো তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ। যার প্রমাণ জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের জয় লাভ। এ জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা চির ভাস্বর হয়ে থাকবে। যার অংশীদার বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণ।
জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সম্মানিত সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের জয়লাভের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। পরাশক্তি দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীন ও রাশিয়ার বৈরিতা বা মতবিরোধ থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র চীন ও রাশিয়ার সমর্থনে বাংলাদেশ এ গৌরব উজ্জ্বল সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন রশিদ এ সম্মান লাভে সমর্থ হয়েছিলেন ।সুদীর্ঘ প্রায় চার দশক পর ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এমন একজন ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আলোকিত করেছেন তিনি শুধু বাংলাদেশের নন সারা পৃথিবীর সম্পদ। তিনি হলেন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি পৃথিবীর সকল দেশ ও মানুষের নিকট বরণীয় ও সমাদৃত একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার অনুপ্রেরণা একটু পরামর্শ, সুপারিশ বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দিতে পারে। তার প্রতি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অগাধ বিশ্বাস, আস্থা , শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এর সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গুলোতে ডঃ মোঃ ইউনুস সব সময় আমন্ত্রিত হয়ে থাকেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার পিছনে ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস এর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
জাতিসংঘের ৮১ তম অধিবেশনে জনাব তারেক রহমান ২৪ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্বমঞ্চে বক্তৃতা প্রদান করবেন । এটা যেমন গৌরবের তেমনি সম্মানের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৭শে আগস্ট ১৯৮০ সালে জাতিসংঘে তার প্রদত্ত ভাষণে বৈশ্বিক সমতার ডাক দিয়েছিলেন। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের পহেলা অক্টোবর জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ বিরল সম্মানের অধিকারী হবেন তাদের উত্তরসূরী জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য (১৯৮০---২০২৬) জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র ,দারিদ্র্য বিমোচন, বৈশ্বিক শান্তি , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে মতবিনিময় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রনে নৈশ ভোজে অংশগ্রহণ করবেন।
জাতিসংঘে তার অংশগ্রহণ ,প্রদত্ত ভাষণ, বাংলাদেশের জনগণের জন্য কল্যাণ ও সম্মান বয়ে আনুক । তার সফর হোক সফল ও সার্থক। দেশের জনগণ এটাই প্রত্যাশা করে।
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান , সমাজকর্ম বিভাগ,
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা
মতামত