বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা ও বাগেরহাট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারে মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়ক পথে খুলনা যাবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। মোংলার কর্মসূচি শেষ করে সড়ক পথে খুলনায় যাবেন তিনি। খুলনা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

আবারও চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ফেসবুক পেজ

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসিয়াল অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পুনরায় চালু করা হবে। ট্রাস্টের উপবৃত্তি ও বিবিধ আর্থিক সহায়তায় সেবা গ্রহীতাদের সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেককে পাঠানো হয়েছে। এতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট/Prime Minister's Education Assistance Trust’ পেজটি গত ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট এরপর থেকে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজ স্মৃতি কর্মকারের মৌখিক নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি ও বিবিধ আর্থিক সহায়তায় সেবা গ্রহীতাদের সেবা দেওয়ার জন্য ট্রাস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পুনরায় সক্রিয় করা প্রয়োজন।

আবারও চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ফেসবুক পেজ

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’ এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। গবেষণা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।’ যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’ দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী লীগের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো।সাক্ষাৎকালে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে মৈত্রী লীগের ভূমিকার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ সময় ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ওই সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁর।অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন তারো আসো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশই তরুণ। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তাঁর সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোও প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাপানের সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী লীগের বৈঠক

যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশেও দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সব শহীদদের স্মরণে আমরা গতকাল (সোমবার) ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।’ তিনি বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে চব্বিশকে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সব দলগুলোর কোনও প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে হাজারও মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে। আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ জনগণ তাদের টিকিট খায় না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের তো কিছু যায় আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করবো কি না।’ তিনি বলেন, ‘উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী ৫ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। সেই সব ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’ এর আগে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বাটন টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রদান করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেবো। চাপটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষি ভাইদের অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষিদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি, কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’ প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন। তারা হলেন- আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশেও দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের আশা টোকিওর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মাধ্যমে ঢাকা–টোকিওর মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাপান। পাশাপাশি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো এবং হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়’ (এফওআইপি) কৌশল বাস্তবায়নে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বিষয়টি জানিয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এই সরকারি সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন। জাপানে অবস্থানকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।’ এতে আরও বলা হয়েছে, ‘জাপানের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার বাংলাদেশ। দুই দেশই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতিতে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এফওআইপি) কৌশল’ বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের আশা টোকিওর

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজও করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবে, এটাই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা। মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীরে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ডও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য গুরুজনদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি উৎসবের সময়। এ উৎসবকে সামনে রেখে তিনি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলে দেশকে স্বাধীন করেছে। একইভাবে এখন দেশের উন্নয়ন ও গঠনের কাজেও সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ সবার। তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী সফরে তারেক রহমান, বিকেল ৩টায় জনসভা

রাজশাহী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে।তিনি  সফরকালে নগরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন। পরে বেলা ৩টায় নগরের মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে সামরিক বাহিনীর বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনে যাবেন তিনি। এরপর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা শেষে বিকেলে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফিরবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাজশাহী নগরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক সংস্কার ও সড়ক বিভাজকে রং করার কাজ করা হয়েছে। জনসভা উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বড় মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে কখনো রাজশাহী আসেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন। তিনি তাঁদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জনসভায় রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা হবে ঐতিহাসিক।’ মিজানুর রহমান মিনু জানান, জনসভায় রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী-কলকাতা, রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমান অবতরণের স্থান, ভিআইপিদের যাতায়াতের পথ, ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউস ও জনসভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কথাও জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।

রাজশাহী সফরে তারেক রহমান, বিকেল ৩টায় জনসভা

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর মঙ্গলবার, থাকছে যেসব কর্মসূচি

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আগামী মঙ্গলবার চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে গত ৯ আগস্টের সভার তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীর সংখ্যা কম রাখা হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে চট্টগ্রামে আসবেন। সন্ধ্যা ৬টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন তিনি। সেখানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সভা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সভায় দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে ৯ আগস্টের সভার তুলনায় এবার দলীয় নেতা-কর্মীর সংখ্যা কম রাখা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এর আগে, ৯ আগস্ট হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুর হলরুমে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে একই হোটেলে আবারও দলীয় সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর মঙ্গলবার, থাকছে যেসব কর্মসূচি

চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এবং সুশাসনের রূপরেখা

আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে শিকড় গেড়ে বসা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং অপরাধমূলক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরকার ও দলের প্রধানের আসন থেকে যে নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশার মাঝে এক ফালি স্বস্তির আলো হয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সুনির্দিষ্ট ও আপসহীন নির্দেশনা দিয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা নয়; এটি এক নতুন ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যে আর পার পাবে না এবং সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় অপরাধীদের প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবেন-এই বার্তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।   রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানান যে, দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চাঁদাবাজ ও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হলো। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সার্বিক পরিস্থিতি ও জবাবদিহির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।   প্রধানমন্ত্রী তিনি মুখে নয়, নিজের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে প্রতিমুহূর্তে প্রমাণ করে চলেছেন যে, তিনি এ দেশকে ও দেশের মানুষকে কতটা ভালোবাসেন। এর আগেও তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ও জঞ্জালের পাহাড় জমেছে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সেই পাহাড় ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন নারী সংসদ সদস্যকে সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল মুখের বুলি নয়, কাজের মাধ্যমেই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছেন।   চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হলে শুধু ‘লেজ ধরে টানাটানি’ করলে চলবে না, সোজা ‘মাথা ধরে টান’ দিতে হবে। আমাদের দেশে দীর্ঘকাল ধরে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দু-একজন চুনোপুঁটি বা স্থানীয় মাস্তানকে গ্রেপ্তার করে কিংবা দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে দায়সারা কাজ করার সংস্কৃতি চলে আসছে। কিন্তু এই ছোট অপরাধীদের পেছনে যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক তোষামোদির চক্র কাজ করে, তাদের গায়ে হাত না দিলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাজনীতি যখন জনসেবার পরিবর্তে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চাঁদাবাজিকে নিজেদের ‘অধিকার’ বলে মনে করতে শুরু করে। এই চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা অবৈধ ক্ষমতার নানা সিঁড়ি বেয়ে বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং ওপরতলা থেকে আসা সবুজ সংকেত মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার ঠিক সেই মূল শিকড় বা মাথাতেই হাত দিয়েছেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মূলত ক্ষমতার মূল স্রোত থেকে অপরাধের উচ্ছিষ্টভোগীদের বিচ্ছিন্ন করার মহড়া শুরু করেছেন। সংসদ সদস্যরা যদি তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, তবে অপরাধীদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে বাধ্য।   চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি-একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য এসব অপরাধই যথেষ্ট। সাধারণ মানুষ যখন নিজের উপার্জন, ব্যবসা, জমি কিংবা নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়, তখন উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতিও তাদের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। একজন ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবেন কি না, একজন কৃষক তাঁর জমি ও ফসলের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন কি না, একজন সাধারণ নাগরিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিরাপদ থাকতে পারবেন কি না-এসব প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হয় একটি সরকার মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য।   এমন বাস্তবতায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিঃসন্দেহে জনমনে স্বস্তি ও প্রত্যাশা জাগানোর মতো একটি বার্তা। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করে পার পাবে না, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই-প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা বন্ধ করতে না পারলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন।   জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি এবং জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকার প্রতি দায়িত্বশীলতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে না দেখে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য কেবল আইন প্রণয়নের জন্য নির্বাচিত হন না; তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশারও একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাঁর এলাকায় দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তিনি নীরব থাকতে পারেন না। অপরাধী নিজের দলের লোক হলেও তাঁকে প্রশ্রয় না দেওয়া, অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা তাঁর দায়িত্বের অংশ।   বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দায়িত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি দখল এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের যে ঝুঁকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বারবার সামনে এসেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসবে। মানুষ শুধু নতুন মুখ বা নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায় না; তারা চায় দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা, ব্যবসায় স্বস্তি, সম্পত্তির নিশ্চয়তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচারের বাস্তব অভিজ্ঞতা। কোনো ব্যবসায়ীকে যদি দোকান চালাতে গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কারও অন্যায় দাবির মুখোমুখি হতে হয়, কোনো জমির মালিক যদি প্রভাবশালীদের কারণে নিজের সম্পত্তি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, কিংবা কোনো সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশোধের আশঙ্কা করেন, তাহলে সেই বাস্তবতায় সুশাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে বলা যায় না।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যে অবস্থান ঘোষণা করেছেন, সেটিকে কেবল একটি দলীয় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করা যাবে না। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ, অপরাধের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগের ওপর।   তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে তাঁর সামনে যেমন ঐতিহাসিক প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সেই প্রত্যাশার যথার্থতা প্রমাণের দায়িত্বও। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য কিংবা নির্বাচনী বিজয় একজন নেতাকে মানুষের আস্থা অর্জনের সুযোগ দিতে পারে; কিন্তু সেই আস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয় কাজের মাধ্যমে, বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সাফল্য তাই শুধু সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর, তার একটি বড় মাপকাঠি হবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন-এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন দেখতে হবে, সেই সতর্কবার্তা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা কী ভূমিকা পালন করেন।   বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করা কোনো সহজ কাজ নয়। কারণ, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যের মধ্যে কখনো কখনো এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারকে জটিল করে তোলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখার উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। আবার কোথাও প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেবল মৌখিক নির্দেশনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা, স্বাধীন তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃশ্যমান শাস্তি।   এখানে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নজর রাখতে বলেছেন। কিন্তু এই নজরদারির অর্থ হওয়া উচিত অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করা, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং নাগরিকদের অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো সংসদ সদস্যের কাজ হবে না ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা কিংবা প্রশাসনকে আইনবহির্ভূত নির্দেশ দেওয়া। একইভাবে, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়, আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় যেমন জরুরি, তেমনি একে অপরের বৈধ এখতিয়ার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মানও অপরিহার্য।   প্রধানমন্ত্রী নিজেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার এবং স্বজনপ্রীতি পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা না থাকলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়; আর জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে পেশিশক্তি, অর্থের প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রাধান্য পেলে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি হবে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিকার অর্থে স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করা এবং জনগণের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাহলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এই অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের প্রার্থীরাও একই নিয়মের আওতায় থাকছেন কি না, তার ওপর।   চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনীতি। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানমালিক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, নির্মাণ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সেবা খাতের মানুষ যদি অবৈধ আর্থিক দাবির মুখে পড়েন, তাহলে তাঁদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম, সেবার মূল্য কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও এমন পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অনাগ্রহী হতে পারেন, যেখানে সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও পূর্বশর্ত।   সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পৌঁছানোর পর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা প্রত্যাহার, তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা কিংবা অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কতগুলো অভিযোগ তদন্ত হলো, কতগুলো প্রমাণিত হলো এবং কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো-এসব বিষয়ে নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রকাশ করলে সরকারি অঙ্গীকারের বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে।   মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগের পর সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার যে তথ্য আলোচনায় এসেছে, সেটিও দলীয় জবাবদিহির প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। তবে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য তখনই স্থায়ী হয়, যখন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে নেওয়া ব্যবস্থা একটি ধারাবাহিক নীতিতে পরিণত হয় এবং একই ধরনের অভিযোগে অন্যদের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন নিশ্চিত হয়েছে বলা যায় না।   আসন্ন দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটিও নাগরিক অধিকারের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে ধর্ম পালন, উপাসনালয় রক্ষা এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে, তাদের সম্পত্তি দখল করে কিংবা উৎসব পালনে বাধা দিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের; কোনো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা যেন কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল না থাকে।   বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই আমরা রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নিয়ে অপরাধীদের পুনর্বাসিত হতে দেখেছি। এক দলের আমলে কোণঠাসা হওয়া চাঁদাবাজ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দলের ব্যানার জড়িয়ে পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে-এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। অপরাধীকে যদি এক দল বহিষ্কার করে, তবে সে অন্য দলের ব্যানারে আত্মপ্রকাশ করে। এই চক্রাকারে ঘুরতে থাকা অপরাধের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সাধারণ ইস্যুতে এক টেবিলে বসতে হবে এবং স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে-চাঁদাবাজ ও অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারবে না। চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য করা যাবে না এবং তাদের আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আপনি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এক টেবিলে বসুন। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি সর্বসম্মত ‘জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়ে তুলুন এবং এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চূড়ান্ত জাতীয় অভিযান ঘোষণা করুন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি যদি নিজের দলের নেতাকর্মীদের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পারেন যে, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস কিংবা দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই সুরক্ষা দেবে না, তাহলে তাঁর ঘোষিত অবস্থান সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। এ জন্য সংসদ সদস্যদের শুধু সতর্ক করলেই হবে না; তাঁদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করতে হবে, অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে।   আমি বিশ্বাস করি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। তবে কোনো সরকার বা নেতার প্রতি আস্থা কেবল প্রশংসা কিংবা প্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; তার ভিত্তি গড়ে ওঠে বাস্তব ফলাফলে। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার প্রতিফলন যদি বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জমি-সম্পত্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়, তাহলেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য প্রতিষ্ঠিত হবে। বস্তুতপক্ষে বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ে পার পাবে না এবং ন্যায়বিচারের জন্য সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাবান কারও দ্বারস্থ হতে হবে না। তারেক রহমানের ঘোষিত কঠোর অবস্থান সেই প্রত্যাশা পূরণের একটি সম্ভাবনাময় সূচনা বলেই মনে হচ্ছে। এখন প্রয়োজন ঘোষণাকে কার্যকর নীতিতে,ধারাবাহিক পদক্ষেপে এবং দৃশ্যমান জনস্বস্তিতে রূপান্তর করা। সুতরাং আমি মনে করি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সাফল্যই হবে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের সবচেয়ে বড় বিজয়। পরিশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের এই যাত্রায় যদি আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি, তবে অচিরেই বাংলাদেশ চাঁদাবাজ-দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে-ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ সুবাহানাতালা আমাদের সহায় হোন।   লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন। ই-মেইল: [email protected]    বিডি-প্রতিদিন/বিএম

চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এবং সুশাসনের রূপরেখা

হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান। ওই চিকিৎসককে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ সময় হাসপাতালে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে ৭ দিনের সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে ৭ দিনের সময় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন পরিদর্শনে বের হন তিনি। এ সময় এ নির্দেশনা দেন। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়  হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের সময় দেন তিনি।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে ৭ দিনের সময় দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরেও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব কথা জানান। তিনি জানান, সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। সরকার প্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে। পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বের বাইরেও কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে : প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর। মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তিনি ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে। শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালু করার কথা জানান তিনি। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের শুধু সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী করে তুলতে হবে। একটি শিশুর শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তার মতে, একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে। শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ভাষাজ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; তাদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তোমাদেরকে কিন্তু মানবিক হতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।

শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে : প্রধানমন্ত্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream