মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা। এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে। এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদয়ের ব্যাটে ট্রিপল সেঞ্চুরির ইতিহাস

তাওহীদ হৃদয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃত ক্রিকেটে বিদেশি কোনো দলের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।  কাকতালীয়ভাবে, ২০২০ সালে এই পচেফস্ট্রুমে খেলেই অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ জিতেছিল বাংলাদেশ, যেখানে শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তাওহীদ। দীর্ঘ ছয় বছর পর সেই একই মাঠে ফিরে এবার করলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। এই ইনিংসের পথে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ২৩ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিয়েছেন তাওহীদ। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের করা ২১৮ রানই ছিল এর আগে ‘এ’ দলের হয়ে বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি। আগের দিন ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বুধবার প্রথম সেশনেই শাহরিয়ারকে ছাড়িয়ে যান তাওহীদ এবং দ্বিতীয় সেশনে পৌঁছে যান স্বপ্নের ট্রিপল সেঞ্চুরিতে। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল কেবল তামিম ইকবাল (৩৩৪) ও রকিবুল হাসানের (৩১৩), তবে তার দুটিই এসেছিল দেশের অভ্যন্তরীণ ঘরোয়া ক্রিকেটে। এ দিন ১৬৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর তৃতীয় দিনের শেষ প্রান্তে বাঁহাতি স্পিনার সিমন্ডসকে কাট করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৩৫ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। পরে  ৪৫০ বলে ২৫টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ঐতিহাসিক তিন শতকের ঘরে পৌঁছান তাওহীদ হৃদয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদয়ের ব্যাটে ট্রিপল সেঞ্চুরির ইতিহাস

বাংলাদেশ-ভারত এমপিদের নিয়ে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ চান দীনেশ ত্রিবেদী

দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে আজ বুধবার পৃথক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বন্ধুত্ব গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে পারেন বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যরা। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে সংসদে। ভারত ও বাংলাদেশসহ যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই সাধারণ মানুষ সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাইকমিশনার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, ভবনটি অত্যন্ত সুন্দর। এর চারপাশের জলাধার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তাকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হোয়্যার দ্য মাইন্ড ইজ উইদাউট ফিয়ার অ্যান্ড দ্য হেড ইজ হেল্ড হাই’- এই ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, উভয়ের সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের সংসদ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিভাবে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সাথে সকালে তার কথা হয়েছে। বাংলাদেশের স্পিকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওম বিড়লা। একই সাথে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফর এবং ভারতের ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’- সংসদ ভবন পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবিত ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপে দুই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা দলীয় বিভাজন অতিক্রম করে অংশ নিতে পারেন। রাজনীতি নিজ নিজ পথে চলবে, তবে সংসদ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রতিষ্ঠান। দুই দেশের সংসদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংসদ ডিজিটাইজেশনের বিষয়েও সাংবাদিকদের অবহিত করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ভারতের সংসদের লাইব্রেরিসহ সংসদীয় কার্যক্রমের বিপুল পরিমাণ তথ্য ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি, অধিবেশনের কার্যসূচি ও পুরোনো বক্তব্য সহজেই দেখতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, বিষয় বা ব্যক্তির বক্তব্য খুঁজতে একটি বোতাম চাপলেই তা পাওয়া সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। আলোচনা একটি প্রবাহমান নদীর মতো- এটি চলতেই থাকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের উদ্দেশ্য যদি জনকল্যাণমুখী হয়, তাহলে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে তিনি আশাবাদী। এর আগে দীনেশ ত্রিবেদী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে পৃথকভাবে তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-ভারত এমপিদের নিয়ে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ চান দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাকেই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন। চীন সরকারের আমন্ত্রণে বুধবার সফররত মাহদী আমিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। সে লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) সহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষাকে সার্বজনীন ও সম্পূর্ণ কর্মমুখী করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, চীনের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়াতে হবে। একইসাথে চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

হামজা-শমিত ছাড়াই শুরু হচ্ছে আসিয়ান কাপের ক্যাম্প

গতকাল মঙ্গলবার ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ থমাস ডুলি। এই তালিকায় নেই হামজা চৌধুরী-শমিত সোম। বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে প্রাথমিক দলের ক্যাম্পে না থাকলেও সরাসরি ইন্দোনেশিয়ায় যাবেন। আবার এমনও হতে পারে ঢাকায় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তারা। আনিসুর রহমান জিকো প্রাথমিক স্কোয়াডে গোলকিপার। বাকি তিন গোলকিপার হলেন মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণ। দলে ফরোয়ার্ড সৌরভ দেওয়ান প্রথমবার ঢুকেছেন।  প্রাথমিক স্কোয়াড: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, জিকো, তপু বর্মণ, শাকিল আহাদ তপু, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, রহমত মিয়া, আবদুল্লাহ ওমর, শাকিল হোসেন, ইসা ফয়সাল, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, হৃদয়, শেখ মোরসালিন, কাজেম শাহ, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, এস এম মঞ্জুরুর রহমান, স্বাধীন, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম, সৌরভ দেওয়ান ও রাব্বি হোসেন রাহুল।

হামজা-শমিত ছাড়াই শুরু হচ্ছে আসিয়ান কাপের ক্যাম্প

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় সুযোগ: স্টুয়ার্ট ব্রড

ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করেন ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখানো বাংলাদেশের সামনে ম্যাকাই টেস্টে আরো বড় সুযোগ ছিল। তার মতে, বাংলাদেশ টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানেই গুটিয়ে দিতে পারত।ম্যাকাই টেস্ট নিয়ে ফোর লাভ অব ক্রিকেট পডকাস্টে কথা বলার সময় এমন মন্তব্য করেন ব্রড। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ বড় সুবিধা নিতে পারত। সেই সামর্থ্য বাংলাদেশের ছিলও বলে বিশ্বাস করেন তিনি।টস জিতে বাংলাদেশের আগে বোলিং করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের মধ্যেই অলআউট করে বড় বিপদে ফেলতে পারত। এটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ উইকেটে বল অনেক বেশি সিম ও মুভ করেছে।’ব্রড অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে, তবে তাদের নিয়েও কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্টার্ক আবারো দুর্দান্ত ছিলেন, বল সুইং করিয়েছেন।’তিবি বলেন, ‘তবে উইকেটে ছিল প্রচুর সিম ও বাউন্স। মনে হচ্ছে, এ বছর উইকেটের চরিত্রে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। ফলে দলগুলোকে সব সময় স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।’ম্যাকাইয়ের উইকেট নিয়ে নিজের অবস্থান আরো পরিষ্কার করে ব্রড বলেন, ‘আমার মতে, কোনো দল যদি মনে করে ম্যান-টু-ম্যান বিবেচনায় তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো, তাহলে তাদের তুলনামূলক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা উচিত।’উল্লেখ্য, ম্যাকাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২১০ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং আবারো ভেঙে পড়ে—৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে ম্যাচ হারে তারা।মাত্র ১২৫ ওভারের মধ্যেই ৩০ উইকেট পড়ে এই টেস্টে। দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক।

ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় সুযোগ: স্টুয়ার্ট ব্রড

বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়: অজি কোচ

ডারউইনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা দল অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের কাছে শোচনীয় হার মানতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্বাগতিকদের নিজস্ব মাঠে এমন অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর নিজের হতাশা ও ক্ষোভ গোপন রাখতে পারেননি। দেশটির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়াতে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এমন বিপর্যয় মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং দল হিসেবে নিজেদের নির্ধারিত মান ধরে রাখতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিং এবং চলমান ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের চেনা কন্ডিশনে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধির সামনে একপ্রকার ধসে পড়েছিল অজিরা।অজি প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড নিজের দলের এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্সে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের কম করা প্রমাণ করে দলকে নিজেদের খেলায় অনেক বেশি উন্নতি করতে হবে। প্রথম টেস্টে হারের পর একাদশ ও দল নির্বাচন নিয়ে চতুর্দিক থেকে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠলেও আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। এই কোচ ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা সাজিয়ে এবং প্রয়োজনে একাদশে পরিবর্তন এনে সাফল্য পাওয়ার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যাকাইয়ে আগামী ২২ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া দল। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটি মোটেও সহজ হবে না বলে অকপটে মেনে নিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। বর্তমানে দুর্দান্ত ফরমে থাকা ও আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশকে হারাতে স্বাগতিকদের শতভাগ সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সিরিজ হারের বড় লজ্জা এড়াতে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বরূপে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্যাঙ্গারু কোচ।

বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়: অজি কোচ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান। ডারউইনে স্বাগতিকদের হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার দিনই দাপট দেখিয়েছে টাইগাররা। বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের সামনে এমন জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই প্রতিশোধের গল্প লিখল শান্ত-তাসকিনরা। সিরিজে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল লাল-সবুজ।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইটের পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের  মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই তথ্য জানিয়েছেন। সৌদি আরব সফর শেষে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দফতরে সাংবাদিকদের তিনি ব্রিফ করেন। এসময় মোস্তফা মাহমুদ জানান, নতুন এ ব্যবস্থা আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ কমবে, বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন আরো সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে হজ কার্যক্রম অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে।’ এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশী হজ পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশী যাত্রী পরোক্ষ রুটে সৌদি আরব যাতায়াত করেন। সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাড়লে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয়- উভয়ই কমবে। সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘ফিফথ ফ্রিডম’ ট্রাফিক অধিকারও পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশী এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ পাবে। বাংলাদেশী এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পরিবহন করতে পারবে। একইভাবে সৌদি আরব চীনের দু’টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে। মো: মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এ ব্যবস্থা বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারের সাথে বাংলাদেশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন আরো দক্ষ ও সহজ হবে। তিনি পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এ ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রফতানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপের বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ হলেও বর্তমানে সেখানে বছরে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন। এইচএসআইএর ওপর চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান বিমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো আরো বেশি ব্যবহার করার জন্য এয়ারলাইনসগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে হজ কার্যক্রমের জন্য টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবছর হজ মৌসুমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিমানবন্দরে গোলাবারুদ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। বিমানবন্দরে খোলা জায়গায় কার্গো রাখার কারণে বৃষ্টিতে পণ্য ভিজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরো উন্নতি প্রয়োজন। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান এবং আমদানিকারকদের সেবা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সূত্র : বাসস

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো: মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক

মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশের বড় জয়

মিরপুরে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ এইচপি দল।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জাওয়াদ আবরারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পেলেও মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে এইচপি। শেষ দিকে অধিনায়ক এস এম মেহেরব হোসেনের ২২ বলে ৪০ রানের আগ্রাসী ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জাওয়াদ করেন ১৮ বলে ২৮ রান, সাকলাইন ২৬ বলে ৩২। বাংলাদেশের ১৫৮ রানের জবাবে মাত্র ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। তাদের হয়ে বিজয় উনি ৩ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই নাজমুল সাকিবকে বোল্ড করে ফেরান আবু হায়দার রনি। এরপর আসলাম খান বিন মালিকও ৫ বলে কোনো রান না করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।তিন নম্বরে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আহমেদ আকীল ওয়াহিদ। ২৫ বলে ২৯ রান করেন তিনি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় মালয়েশিয়ার রান তোলার গতি থেমে যায়। ১০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪২ রান। এরপর মোহাম্মদ আমির আজিম ও বিজয় উনি কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। বিজয় ১৫ বলে ১৪ রান করে আবদুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন। আর আমির আজিম ২২ বলে ১৫ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ রুবেল হাসানের বলে। ৬৩ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় মালয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় তারা। ফলে ৮৯ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ এইচপি।সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী ১০ আগস্ট, সোমবার, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। 

মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশের বড় জয়
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream