জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন, “মনে হচ্ছে ৯৬-এর পুরাতন প্রেম আবারও জেগে উঠেছে। জানি না, এই প্রেমের মাঝখানে এনসিপির অবস্থান কী হবে!”
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের অবস্থান ও বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারকে একই সাথে দুটি বিরোধী শক্তির অপতৎপরতা মোকাবিলা করে দেশ চালাতে হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া দেশেও বাস-ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এই অপতৎপরতা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন থাকলেও জামায়াত এ বিষয়ে ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ।
জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে লেখেন:
নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে দেশ-বিদেশের অনেকে তাদের কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে মানতে পারছে না। এই দুর্বলতা ঢাকতেই দলটি রাজপথ গরম করে নিজেদের শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জাহির করতে চাচ্ছে।
এনসিপি জামায়াতের সাথে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে তাদেরও পৃথক ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার মুখে জামায়াতের নীরবতাকে ১৯৯৬ সালের তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণের সাথে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন যে, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সেই পুরনো রাজনৈতিক সখ্য বা 'প্রেম' পুনরায় জাগ্রত হচ্ছে।
একদিকে আওয়ামী লীগের সহিংস অপতৎপরতা এবং অন্যদিকে জামায়াতের হঠকারী রাজনীতি—এ দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বর্তমানে বিএনপি সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মতামত