লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কলিম উদ্দিন পন্ডিত বাড়িতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গভীর নলকূপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। নলকূপটি স্থাপনের পর একটি পক্ষ শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে জাকির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের দফায় দফায় মারধর ও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গভীর নলকূপটি তাদের হাজারী জমিতে স্থাপন করা হলেও রাজু, নাফিজ ও নুরুল আলমসহ কয়েকজন সেটিতে শিকল দিয়ে তালা লাগিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
জাকির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, তার জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক পানি নামানোর পাইপ স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় রাজু ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন শাবল দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন বলে দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে জাকির হোসেন মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেও সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া ধানের জমিতে জালা তুলতে গেলে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা রাজু, নাফিজ ও নুরুল আলমসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এসব ঘটনার পর আদালতে মামলা করা হলে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি জাকির হোসেনের মেয়েকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে রাজু (৩৫), পিতা শাহ আলম; নুর আলম, পিতা অজ্ঞাত; নাজিম (৫২), পিতা মৃত আমীন; নবী উল্লাহ (৬০), পিতা মৃত তৈয়ুব আলী; রিপন (৩৫), পিতা মহিন উদ্দিন; রুমা (২৮), স্বামী রাজু; জোছনা, রীনা, বীথি, নারগিস, সাজেদা, সাজু বেগম ও সুমনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বসেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধের কারণে এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে গেলে রাজু ও তার স্ত্রী রুমা দুজন দুইদিক থেকে মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করে। তারা মব সৃষ্টি করার হীনচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, কিন্তু কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। এমতাস্থায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এ বিরোধের দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকায় উত্তেজনা কমবে।
বর্তমানে জাকির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
মতামত