মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুই মাসের পথচলার পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে ‘শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব-২০২৬’। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবের চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭৪০ জন ও উন্মুক্ত বিভাগে শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া এ উৎসবের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিভাগেও শিক্ষক,সাংবাদিক,ব্যাংকার, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
চূড়ান্ত পরীক্ষা পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় তিনি উৎসবে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। বই পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উন্মুক্ত বিভাগে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন ভূনবীর দশরথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক জহিরুল ইসলাম মিঠু, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির ব্যাংকার শাহীন সিরাজী, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান ও শুভ রায়, ভূজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সীমা রাণী সরকার ও সহকারী শিক্ষক সুমি চক্রবর্তী,দ্বারীকাপাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জলি পাল,প্রথম আলোর সাংবাদিক শিমুল তরফদার, বাংলা এফএম ও দৈনিক এই বাংলার সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস,একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, দৈনিক যায়যায়দিনের রুমানুর রহমান, আল-শরীফাইন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. ইয়াছারুজ্জামান মিতুল,মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার এবং এভারলাইফ ব্যাটারির সহকারী ম্যানেজার মাহমুদ রাফিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরীক্ষা শেষে জহিরুল ইসলাম মিঠু কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রসঙ্গে বলেন,নজরুল আদালতে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরেছিলেন।
উন্মুক্ত বিভাগের পরীক্ষার্থী সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসের মূল ভাব ও শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে বলেন,আত্মপরিচয়ের সংকট, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও মানবিকতার দ্বন্দ্ব উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান বিষয়। গোরা চরিত্রের আত্মপরিচয়ের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতপাত ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। নারী মুক্তি,সংস্কারমুক্ত চিন্তা এবং সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে আপন করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতার প্রকাশ ঘটেছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম,শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরীন শারমিন,শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম,ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,বই মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি। এ কারণে উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। ‘বই পড়ি,মন গড়ি’ স্লোগানের এ আয়োজন শ্রীমঙ্গলে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে,উৎসবের বিজয়ীদের মধ্যে ১০ জনকে ল্যাপটপসহ মহামূল্যবান গাছের চারা,সার্টিফিকেট, শুভেচ্ছা সার্টিফিকেট,ক্রেস্ট দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এসব পুরস্কার দেওয়া হবে।
আয়োজকদের আশা,এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মতামত