শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সাহিত্য

শ্রীমঙ্গলে তিন মাসের বইপড়া উৎসবের সমাপ্তি

শ্রীমঙ্গলে তিন মাসের বইপড়া উৎসবের সমাপ্তি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন মাসব্যাপী ‘বইপড়া উৎসব-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থী ও পাঠকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন;মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,শিক্ষক-শিক্ষার্থী,প্রতিযোগী,অভিভাবক, সাধারণ পাঠকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,গত ২১ জুলাই ‘বই পড়ি,মন গড়ি’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা,জ্ঞানচর্চায় আগ্রহ বাড়ানো এবং সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম তৈরি করা। এ আয়োজনে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক,অভিভাবক ও সাধারণ পাঠকদেরও উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।উৎসবের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকসহ ৭৬০ জন অংশ নেন বলে আয়োজক-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,ল্যাপটপ বা পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়;বই পড়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান,চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোই এ উৎসবের মূল সার্থকতা। তরুণেরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।তিনি বলেন,প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি তরুণদের বইয়ের সঙ্গেও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ উৎসব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে উৎসাহিত করবে এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।উৎসবে ল্যাপটপ বিজয়ী দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী হালদার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,ল্যাপটপ পেয়ে তিনি খুব আনন্দিত। তবে এর চেয়েও বেশি আনন্দের বিষয় হলো,বই পড়ার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছেন।রাজশ্রী বলেন,তিনটি পর্বে নির্ধারিত বইগুলো পড়ার মাধ্যমে তাঁদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে। আগে অনেক সময় মোবাইল ফোনে আসক্ত থাকলেও এখন বই পড়ে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছেন এবং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারছেন। বিশেষ করে ‘জিবরাইলের ডানা’ ও ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’ বই দুটি পড়ে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছেন।উচ্চমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে ল্যাপটপ বিজয়ী শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাসনুভা সুহা বলেন,তিন মাসে তিনটি পর্বে তিনটি ব্যতিক্রমধর্মী বই পড়তে হয়েছে। বইগুলো পড়ে তাঁর খুব ভালো লেগেছে। পাওয়া ল্যাপটপটি পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করবেন। এর মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করা এবং পড়াশোনার বিভিন্ন কাজে সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।এ উৎসবের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল,এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়,বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ। শিক্ষক,প্রভাষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান,সরকারি কর্মকর্তা,ব্যাংকার,সাংবাদিক,ফার্মাসিস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, গৃহিণী ও সাধারণ পাঠকেরাও বই পড়ার এ উদ্যোগে যুক্ত হন।অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রভাষক,শিক্ষার্থী,সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক আহম্মদ আলী রুবেল,হাফছা খাতুন,নূর মোহাম্মদ (মুশফিক),রুমা আক্তার,গৌরী রানী শীল, তামভীর হোসেন ফরহাদ,কাজী শওকত হোসেন,মিঠু চন্দ্র পাল,মিনারুল ইসলাম, কাকলী পুরকায়স্থ,তমা দাশ,বাদশাহ ফয়সাল,নিশান চৌধুরী,সুমন,শুভ রায়, হাবিবুর রহমান ও জহিরুল ইসলাম মিঠু।এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম,উজ্জ্বল সূত্রধর ও রাজু বিশ্বাস, ব্যাংকার শাহীন সিরাজী,ফার্মাসিস্ট কংকন পুরকায়স্থ,ইলেকট্রিশিয়ান সোহানুর রহমান রনি,শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার ও সমীরণ সরকার,গৃহিণী রত্না চক্রবর্তী ও ফারহানা আফরোজ, সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস,প্রথম আলোর শিমুল তরফদার এবং দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জলি পালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ উদ্যোগে অংশ নেন। উন্মুক্ত বিভাগে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে একটি করে বই ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে।বইপড়া উৎসবের অন্যতম আয়োজক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেবাশীষ দাশ শিক্ষার্থীদের বই পর্যালোচনা বা বুক রিভিউ লেখার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে,চূড়ান্ত পর্বের মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা যে মানের বুক রিভিউ লিখেছে, তা তাদের চিন্তা,সৃজনশীলতা ও কল্পনার জগতের পরিচয় দেয়।তিনি জানান,প্রায় সব বুক রিভিউ তিনি পড়েছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়ে থাকতে পারে, তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজেরাই লিখেছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। একই বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা হলেও শিক্ষার্থীদের রচনাগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্রতা রয়েছে,যা তাদের নিজস্ব চিন্তা ও উপলব্ধির পরিচয় বহন করে।দেবাশীষ দাশ আরও জানান,শ্রেণিভিত্তিক সেরা বুক রিভিউগুলো নিয়ে পৃথক দেয়ালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে,যাতে শিক্ষার্থীসহ বইপ্রেমীরা সেগুলো পড়ার সুযোগ পান।তিনি এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ফোকাল পারসন,শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,এ অর্জনের কৃতিত্ব তাদেরই।তিন মাসব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও বই পড়াকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন, চিন্তার বিকাশ এবং সৃজনশীলতা চর্চার এ উদ্যোগ শ্রীমঙ্গলে পাঠাভ্যাস বিস্তারে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন।আয়োজকদের প্রত্যাশা,বইপড়ার এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী পাঠকের মধ্যে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ আরও বাড়বে। বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত গভীর হবে,ততই জ্ঞাননির্ভর,মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের পথ সুগম হবে।

শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের চূড়ান্ত পরীক্ষা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুই মাসের পথচলার পর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে ‘শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব-২০২৬’। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবের চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৭৪০ জন ও উন্মুক্ত বিভাগে শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া এ উৎসবের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিভাগেও শিক্ষক,সাংবাদিক,ব্যাংকার, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।চূড়ান্ত পরীক্ষা পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় তিনি উৎসবে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। বই পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।উন্মুক্ত বিভাগে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন ভূনবীর দশরথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক জহিরুল ইসলাম মিঠু, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির ব্যাংকার শাহীন সিরাজী, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান ও শুভ রায়, ভূজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সীমা রাণী সরকার ও সহকারী শিক্ষক সুমি চক্রবর্তী,দ্বারীকাপাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জলি পাল,প্রথম আলোর সাংবাদিক শিমুল তরফদার, বাংলা এফএম ও দৈনিক এই বাংলার সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস,একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, দৈনিক যায়যায়দিনের রুমানুর রহমান, আল-শরীফাইন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. ইয়াছারুজ্জামান মিতুল,মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার এবং এভারলাইফ ব্যাটারির সহকারী ম্যানেজার মাহমুদ রাফিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।পরীক্ষা শেষে জহিরুল ইসলাম মিঠু কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ প্রসঙ্গে বলেন,নজরুল আদালতে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরেছিলেন।উন্মুক্ত বিভাগের পরীক্ষার্থী সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসের মূল ভাব ও শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে বলেন,আত্মপরিচয়ের সংকট, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও মানবিকতার দ্বন্দ্ব উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান বিষয়। গোরা চরিত্রের আত্মপরিচয়ের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতপাত ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন মানবতার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। নারী মুক্তি,সংস্কারমুক্ত চিন্তা এবং সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে আপন করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতার প্রকাশ ঘটেছে।এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম,শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরীন শারমিন,শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম,ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সংসদ সদস্য হাজী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,বই মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি। এ কারণে উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। ‘বই পড়ি,মন গড়ি’ স্লোগানের এ আয়োজন শ্রীমঙ্গলে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে,উৎসবের বিজয়ীদের মধ্যে ১০ জনকে ল্যাপটপসহ মহামূল্যবান গাছের চারা,সার্টিফিকেট, শুভেচ্ছা সার্টিফিকেট,ক্রেস্ট দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এসব পুরস্কার দেওয়া হবে।আয়োজকদের আশা,এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের চূড়ান্ত পরীক্ষা

মৌলভীবাজারে নজরুল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহি উদ্দিন,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি নন,তিনি আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা,মানবতা,সাম্য ও দ্রোহের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য,সংগীত ও জীবনদর্শন তুলে ধরতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান বলেন,শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে এ প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ আয়োজন বিশেষ কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান পরিবেশন করে।প্রতিযোগিতায় সংগীত,আবৃত্তি,চিত্রাঙ্কন, অভিনয়,হামদ-নাত,উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।

মৌলভীবাজারে নজরুল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডোমারে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নীলফামারীর ডোমারে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (তারিখ) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতেই এ আয়োজন।

ডোমারে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

নজরুল সাহিত্য পুরস্কার পেলেন এম.আব্দুল কাইয়ুম

এ বছর নজরুল গবেষণায় ''নজরুল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬'' পেলেন ফ্রান্স প্রবাসী কবি ও লেখক এম আব্দুল কাইয়ুম।গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ কর্নারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য, গবেষণা, সংগীত, আবৃত্তি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ গুণীজনকে এ পুরস্কার দেওয়া লোক গবেষণায় শাহ সাইফুল আলম পান্নু, নজরুল গবেষণায় এম. আব্দুল কাইয়ুম, কবিতায় আলী আকবর বাবুল ও মাকসুদা আননাহাল, উপন্যাসে খায়রুন্নেসা রিমি, সঙ্গীতে সৈয়দ সাইফুল্লাহ রুমী, সমাজসেবায় মো. আবুল বাসার, সাহিত্যে নন্দিনী লুইজা, আবৃত্তিতে ফারজানা করিম অর্পিতা এবং কথাসাহিত্যে শাম্মী তুলতুল এ পুরস্কার লাভ করেন।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ ও বরণের লক্ষ্যে বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং ‘নজরুল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নজরুল একাডেমির সভাপতি মসউদ মান্নান। আলোচক ছিলেন মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম কাদের এবং লেখক ও অনুবাদক মাহবুবুল হক। অধ্যাপক ড. সন্তোষ ঢালীর সভাপতিত্বে ও আবৃত্তি শিল্পী ফারজানা করিম অর্পিতার সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে   স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আরিফ নজরুল।অনুষ্ঠানে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কবি, লেখক, শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল সাহিত্য পুরস্কার পেলেন এম.আব্দুল কাইয়ুম

বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিলেন এমপি মুজিবুর রহমান

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘বই পড়া উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) মনাইউল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকশিত করার আহ্বান জানান।আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,‘বই হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বই পড়লে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, চিন্তার জগৎ প্রসারিত হয় এবং ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই পড়লেই হবে না,জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ভালো বই পড়তে হবে।’তিনি আরও বলেন,‘বর্তমানে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই অবসর সময় মোবাইলে না কাটিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে। তাদের জ্ঞানী, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।’সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।সভাপতির বক্তব্যে মো. জিয়াউর রহমান বলেন,‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। একটি ভালো বই একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দিতে পারে। নিয়মিত বই পড়লে জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।’তিনি বলেন,‘প্রযুক্তির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার যেন বই পড়ার অভ্যাসকে নষ্ট না করে,সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি শিক্ষার্থী বই পড়াকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করুক।’অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসব-২০২৬’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক বই পড়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিলেন এমপি মুজিবুর রহমান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream