বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তারা ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। তিনি হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করে ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন সেই পথ তাকে নিজেকেই বেছে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, লং মার্চের গণজোয়ার ঠেকাতে শুক্রবার রাত থেকে কর্মসূচির পথে থাকা ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এ কাজে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের লোকজনও যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে লং মার্চের জনসমাগম বা কর্মসূচি থামানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে জনগণের অধিকার সীমিত করতে যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমান সরকারও সেগুলো ব্যবহার করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ সফল হওয়ার পর এবার রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আট দফা দাবিতে এ লং মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। সমাবেশের সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মতামত