বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে সফরের জন্য একটি নয়, বরং দুটি আলাদা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ভারতে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরের এবং অপরটি বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নয়াদিল্লির এই স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন:“আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। পরবর্তীতে তাকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ তিনি ভারতের পক্ষ থেকে দুটি ভিন্ন আমন্ত্রণ পেয়েছেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফর এবং অপরটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ নেওয়ার পর পরই তারেক রহমানকে স্ত্রী ও সন্তানসহ ভারতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য প্রথম আমন্ত্রণটি পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক বক্তব্যে ভারত কর্তৃক আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “(প্রধানমন্ত্রী) কীভাবে ভারতে যাবেন? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।”
প্রতিমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরই নয়াদিল্লি থেকে এই দ্বৈত আমন্ত্রণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হলো।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস (BRICS)-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা সহযোগী দেশ নয়। তবে বিমসটেক জোটের বর্তমান চেয়ার বা সভাপতি পদটি বাংলাদেশের কাছে থাকায় জোটটির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকসের 'আউটরিচ সেশন'-এ আমন্ত্রণ জানায় আয়োজক দেশ ভারত।
গত ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্রিকসভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের নেতারাও অংশগ্রহণ করেন।
মতামত