কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের আলেয়ার বাজার চৌধুরীপাড়া এলাকায় ক্ষমতার দাপট, অস্ত্রের ভয় ও প্রভাব খাটিয়ে অসংখ্য মানুষের জমি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে খয়বর আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে তিনি এলাকার সহজ-সরল মানুষ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় পরিবারের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি আপন ভাইয়ের জমিও নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বহু মানুষ একত্রিত হয়ে নিজেদের জমি হারানোর অভিযোগ তুলছেন। তবে অধিকাংশই নিরাপত্তার শঙ্কায় প্রকাশ্যে নাম বলতে রাজি হননি। অভিযুক্তের প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
আফরোজা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার পৈতৃক জমির কাগজে জালিয়াতি করে জমি দখল করা হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, মামলা করার সামর্থ্যও নেই। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, সঠিক তদন্ত করে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আরেক ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি দেখানো হয়। অনেকেই হুমকির কারণে আদালত বা থানায় যেতে চান না। আমরা নিরাপদে বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খয়বর আলীর নির্দিষ্ট কোনো দৃশ্যমান পেশা নেই। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত নানা জালিয়াতি ও দখলের মাধ্যমে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
গ্রামবাসীর দাবি, জমির দলিল, নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কৌশলী হওয়ায় অনেক অসহায় মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কেউ অজ্ঞতার সুযোগে, আবার কেউ ভয়ভীতির কারণে নিজের জমি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি ও দখলবাজি বন্ধ হবে।
অভিযুক্তের আপন ভাই মকসেদ আলী বলেন, আমারও জমি জালিয়াতি করে খয়বর দখল করেছে। কোন কিছু বললে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমরা সাধারণ মানুষ। জমির কাগজ বুঝি না। এই সুযোগেই অনেকের জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশাসন ছাড়া আমাদের আর কোনো ভরসা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত খয়বর আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়েই ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, জমি জালিয়াতি ও দখল সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত