জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের হোটেল বে অব বেঙ্গলে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের ৪ হাজার ৬শ ইউনিয়নে এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রার্থী ঘোষণা করেছি। আমরা খুব শিগগিরই এনসিপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পদপ্রার্থী ঘোষণা করব। তবে সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে না জেলার পক্ষ থেকে ঘোষণা হবে। আমরা আশা করছি আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এনসিপির প্রার্থী এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপি সরকারের ছয় মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, এখন আর কিন্তু বিএনপির এই সুযোগ নেই যে- তারা মাত্র ক্ষমতায় এসেছে, শিশু সরকার এগুলো বলার। কারণ পাঁচ বছরের মধ্যে ছয় মাস পরেও যদি আপনি শিশু সরকার বলেন, তাহলে আপনি যুবক হবেন কবে? আপনি পরিপূর্ণ বৃদ্ধ বা উপযুক্ত হবেন কবে? সেই জায়গা থেকে এখন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। একইসাথে সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। বিএনপি যদি তাদের জায়গা থেকে সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং তারা যদি বলে আমাদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন, তাহলে তাদের সহযোগিতা করার মানসিকতা আমাদের সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু তাদের অবস্থা যদি এমন হয়, আমরা সমস্যার কথা স্বীকারই করি না। আমরা বললাম, চাঁদাবাজি সবাই মিলে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তারা স্বীকারই করে না কোথায় চাঁদাবাজি হয়। আমরা বললাম প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তারা স্বীকারই করে না দলীয়করণ হয়। তাহলে তো সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব না।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে যারা শুধু মার্কায় ভোট দিয়েছে বা শুভাকাঙ্ক্ষী কিন্তু কোনো অপরাধ করেনায় তারা চাইলে অন্যান্য দলে যেতে পারেন। বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপিতেও যেতে পারে। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিএনপিকে আহ্বান জানাব, তারা যাতে এই প্রশ্নে ছাড় না দেয়। যদি তারা ছাড় দেয় তাহলে তাদের জন্য এটা হিতে বিপরীত হবে। আজকে হয়তো ভোটের জন্য কিংবা প্রার্থী হিসেবে জেতার জন্য ছাড় দিচ্ছি, অভ্যন্তরীণ সমঝোতা করছে, কিন্তু আগামীতে যদি তারা শক্তিশালী হয় তাহলে তাদের জন্যই হিতে বিপরীত হবে; কিন্তু আমরা তাদের শক্তিশালী হতে দেব না ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমরা আর কথার ফুলঝুরি চাই না। আমরা কাজ দেখতে চাই। আমরা আর শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন দেখতে চাই না। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দেখতে চাই- আপনারা এইগুলোকে কাজে পরিণত করেছেন। আমরা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়েছেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় সবসময় ঠিক রাখা উচিত। কারণ সামগ্রিকভাবে দেশের স্থিতিশীলতা ঠিক রাখতে তার নিরাপত্তা ঠিক রাখতে হবে।
আজমিরী হক বাঁধনকে হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধী ও স্বৈরাচারের একদম স্বীকৃত দোসর ছিল, মানুষের ওপর অন্যায় করেছে এবং অপরাধ করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, অনেক জায়গায় তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এটা দেওয়া হচ্ছে বলেই, আমরা দেখলাম সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আজমিরী হক বাঁধন যিনি আমাদের জুলাইয়ের একজন সহযোদ্ধা, স্বৈরাচার ও খুনির বিরুদ্ধে নেমেছিলেন। তাকে যখন ওই পতিত স্বৈরাচারের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে তারা হেনস্তা করে তখন তো আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; কিন্তু আমরা বিএনপির জায়গা থেকে কোনো দলীয় স্টেটমেন্ট ও কোনো ব্যবস্থা দেখলাম না। এটা বাংলাদেশের যারা অফিসিয়াল দায়িত্বে আছেন তারা মিলে ওই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এবং যারা একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।
হামলার শিকার চোখ হারানো অলিফের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভাই অলিফের একটা চোখ রড দিয়ে তুলে ফেলা হয়েছে এবং সারাজীবন সে চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০-৩০ মিলে হামলা করেছে তাদের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু যে একজন রড দিয়ে আঘাত করল তাকে তো অন্তত গ্রেফতার করার দরকার ছিল। বিএনপি যদি শুধু দলীয় কর্মী দেখে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া শুরু করে তাহলে একদিন তারা অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল নাহিয়ান, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহিউদ্দিন রনি এবং বরিশাল অঞ্চলের বিভাগীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামসহ জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত