ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সূর্যনগর গ্রামের জোসনা বেগম নামে এক বিধবা। একই কারনে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বসত বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে জোসনা বেগমের স্বামী আবদুল খালেক ছিলেন দিন মজুর। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। স্বামীর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে বর্তমানে আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
জোসনা বেগম জানান, এনজিওর কিস্তি পরিশোধের চাপ ও পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ঋণের দায়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচ্ছে আমাকে। তিনি বলেন,ঋণ পরিশোধের আশায় নিজের একটি কিডনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সম্ভাব্য ক্রেতা কিংবা সহায়তাকারীর সন্ধানে বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।
জোসনা বেগম দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জননী। দুই ছেলেই দিনমজুর। মেয়েরা বিবাহিত। স্বামীর সংসার করছে। সামান্য একটু বসতভিটা ছাড়া তার আর কিছুই নেই।
তিনি জানান সুদের টাকার সহ তার প্রায় ২ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। পাওনাদারদের তাগিদে জোসনা বেগম নিজের কিডনি বেচার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার নার্গিস বেগম বলেন, জোসনা বেগমের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ঋণের দায়ে তার কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।
বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মীর্জা সোহেল সোহেল বলেন, সহায় সম্পদ না থাকায় জোসনা বেগম অন্যের বাড়ি ঘরে গৃহ কর্মীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্বামীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বর্তমানে ২ লক্ষাধিক টাকা ঋণ করেছেন। অন্য কোন উপায় না থাকায় তিনি কিডনি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।
মতামত