সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

স্পেনের অভিবাসননীতি ইউরোপের জন্য ‘মডেল’ : পেদ্রো সানচেজ


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

স্পেনের অভিবাসননীতি ইউরোপের জন্য ‘মডেল’ : পেদ্রো সানচেজ


ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী নীতি জোরালো হলেও তুলনামূলক উদার অভিবাসননীতি ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মনে করেন, অভিবাসন স্পেনের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

মাদ্রিদে স্পেনের রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে সানচেজ বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অভিবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। তার দাবি, গত ছয় বছরে স্পেনের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে অভিবাসীদের অবদান থেকে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আয়েরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে অভিবাসীদের কাছ থেকে।

আবারও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ


স্পেন সরকার মনে করছে, ইউরোপের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা ও কম জন্মহারের কারণে শ্রমবাজারে যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণে বৈধ অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রিদ।

তবে সরকারের এই নীতির বিরোধিতা করছে দেশটির ডানপন্থি দলগুলো। তাদের অভিযোগ, তুলনামূলক উদার অভিবাসননীতি অনিয়মিত অভিবাসীদের স্পেনে আসতে উৎসাহিত করছে। বিরোধীদের এই যুক্তিকে ‘পুল ইফেক্ট’ তত্ত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, স্পেনের অভিবাসন মডেল কার্যকর এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসন আগের বছরের তুলনায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ওই বছর দেশটিতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৭৭৫ জন।

বিশেষ করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত আটলান্টিক অভিবাসন রুটে আগমন কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসন হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মানবপাচার ঠেকাতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়িয়েছে স্পেন। সীমান্ত নজরদারি, তথ্য বিনিময় এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করছে দেশগুলো।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও স্পেন সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোজোনের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়।

সানচেজের মতে, মানবিকতা, বৈধ অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে স্পেন যে নীতি অনুসরণ করছে, তা ইউরোপের ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত সংকট মোকাবিলায় একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


স্পেনের অভিবাসননীতি ইউরোপের জন্য ‘মডেল’ : পেদ্রো সানচেজ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী নীতি জোরালো হলেও তুলনামূলক উদার অভিবাসননীতি ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মনে করেন, অভিবাসন স্পেনের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

মাদ্রিদে স্পেনের রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে সানচেজ বলেন, গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অভিবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। তার দাবি, গত ছয় বছরে স্পেনের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে অভিবাসীদের অবদান থেকে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আয়েরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে অভিবাসীদের কাছ থেকে।

আবারও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ


স্পেন সরকার মনে করছে, ইউরোপের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা ও কম জন্মহারের কারণে শ্রমবাজারে যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণে বৈধ অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রিদ।

তবে সরকারের এই নীতির বিরোধিতা করছে দেশটির ডানপন্থি দলগুলো। তাদের অভিযোগ, তুলনামূলক উদার অভিবাসননীতি অনিয়মিত অভিবাসীদের স্পেনে আসতে উৎসাহিত করছে। বিরোধীদের এই যুক্তিকে ‘পুল ইফেক্ট’ তত্ত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, স্পেনের অভিবাসন মডেল কার্যকর এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসন আগের বছরের তুলনায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ওই বছর দেশটিতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৭৭৫ জন।

বিশেষ করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত আটলান্টিক অভিবাসন রুটে আগমন কমে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসন হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, মানবপাচার ঠেকাতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়িয়েছে স্পেন। সীমান্ত নজরদারি, তথ্য বিনিময় এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করছে দেশগুলো।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও স্পেন সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোজোনের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়।

সানচেজের মতে, মানবিকতা, বৈধ অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে স্পেন যে নীতি অনুসরণ করছে, তা ইউরোপের ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত সংকট মোকাবিলায় একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream