আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা জারি ও রায় ঘোষণার পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় (Extradition) চুক্তির আওতায় তাকে প্রত্যর্পণের এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতকে এখনই হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য করা যাবে না।
২০১৩ সালের বন্দি বিনিময় চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো বিচার বা মামলা যদি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয় কিংবা অভিযুক্তের অপরাধ ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বলে মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশকে ফেরত দিতে বাধ্য নয় অপর পক্ষ।
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারে যদি শতভাগ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় না থাকে, তবে প্রত্যর্পণ আবেদন খারিজ করা সম্ভব। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত সাজা বা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের ১৯৬২ সালের নিজস্ব ‘প্রত্যর্পণ আইন’ (Extradition Act 1962) অনুযায়ী সাজানো বা রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে কাউকে অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া আটকানোর আইনি বিধান রয়েছে।দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান:আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন দিল্লির রাজনৈতিক হিসেব-নিকাশকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। সংকটের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সাজা খাটার জন্য ঢাকা কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার চিঠি পাওয়ার পরও চুক্তির আইনি অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী করতে পারে বা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সরাসরি না বলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মতামত