রাশিয়ার নাগরিকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ভিসা নীতিতে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন।
ইউরোপীয় কমিশনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মার্কুস ল্যামার্ট জানিয়েছেন, বৈরী রাষ্ট্রগুলোর কর্মকাণ্ড থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে তাদের নাগরিকদের ভিসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইইউর ভিসা নীতিমালা পর্যালোচনার সময় এসব পরিবর্তন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এর আগে জানিয়েছিলেন, রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা সীমিত করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক রুশ সেনাদের ইউরোপে প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রুশ নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে ইইউ। ওই বছর রাশিয়ার সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ চুক্তি স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি ভিসা আবেদন যাচাই ও সীমান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয় সদস্য দেশগুলোকে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিবছর রুশ নাগরিকদের প্রায় ৪০ লাখ ভিসা দেওয়া হলেও গত বছর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৬ লাখ ১৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কমিশন মনে করছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনা প্রয়োজন।
তবে ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এখতিয়ারে রয়েছে। প্রতিটি আবেদন জাতীয় কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।
কায়া কালাসের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটন ভিসার মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকানো জরুরি। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংক্ষেপে: ইউক্রেন যুদ্ধ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা আরও সীমিত করার দিকে এগোচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মতামত