মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হামহাম জলপ্রপাত সংলগ্ন সিতাব জলধারা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে বন বিভাগ,পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কয়েকজন মাছ শিকারি রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের গভীরে হামহাম পর্যটন এলাকার মোকাম টিলা সংলগ্ন জলাধারের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই বন বিভাগ,কমলগঞ্জ থানা পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।
কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর শুক্রবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পাহাড়ি গিরিপথ পেরিয়ে সেটি লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের ধারণা,মরদেহটি বেশ কয়েক দিন আগের হতে পারে। মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বছর।
তবে তাঁর নাম-পরিচয়,ঠিকানা ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবল স্রোতে মরদেহটি উজানের কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসে সিতাব জলধারায় আটকে থাকতে পারে। তবে তদন্তের আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উদ্ধার অভিযানের সময় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার,কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করে কার্যক্রম তদারকি করেন। অভিযানে চাম্পারায় চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা,ইউপি সদস্য সজয় কিশোর যাদবসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন, উদ্ধার করা মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মতামত