মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বাংলাদেশ ম্যাচের পারফরম্যান্সে মিলল কেলির কেন্দ্রীয় চুক্তি

বাংলাদেশ ম্যাচের পারফরম্যান্সে মিলল কেলির কেন্দ্রীয় চুক্তি

নিক কেলি বাংলাদেশের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা করে নিয়েছেন। মাইকেল ব্রেসওয়েল কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর এই সুযোগ পেলেন কেলি। ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কেলির। এখন পর্যন্ত ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৮ ওয়ানডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৭টি টি-টোয়েন্টিতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে টম লাথাম চোটে পড়লে টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্বও দিয়েছেন কেলি। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ব্যাট হাতে ভালো করেছেন কেলি। শেষ চার ওয়ানডেতে তিনটি অর্ধশতক এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। এসব পারফরম্যান্সই কেলিকে কেন্দ্রীয় চুক্তিকে জায়গা করে দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার কেলির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিক বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এমন সময়েও সে পারফর্ম করেছে, যখন ব্যাটিংয়ের কন্ডিশন অনেক সময় কঠিন ছিল।’ ওয়াল্টার আরও বলেন, ‘তার ৩০০টিরও বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সে দেশের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। তাই আমাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের দলে সে অনেক কিছু যোগ করবে।’ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের ১১ বছর পর প্রথমবার জাতীয় কেন্দ্রীয় চুক্তি পেলেন কেলি। সম্প্রতি লেস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি। সব সংস্করণ মিলিয়ে সেখানে ৯৫০ রান করেছেন। মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপের ফাইনালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি ছিল লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তাঁর ষষ্ঠ শতক। কেলির এই উত্থানে খুশি ওয়াল্টার। ওটাগোর হয়ে দুই মৌসুম তাঁকে কোচিং করানো নিউজিল্যান্ডের এই কোচ মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল হিসেবেই এই চুক্তি পেয়েছেন কেলি। ওয়াল্টার বলেন, ‘নিক বেশ কয়েক মৌসুম ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফর্ম করেছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তার প্রথম কেন্দ্রীয় চুক্তি পাওয়াটা তার কঠোর পরিশ্রমেরই প্রমাণ।’

মেসির জায়গা পূরণ করবেন কে, ভাবনায় আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা দলে তাঁর জায়গা কে নেবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি শুধু দলের অধিনায়ক ছিলেন না, গত এক যুগে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগরও ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা।গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড এখন মেসির দখলে।তাই মেসির বিদায় মানে শুধু একজন খেলোয়াড়কে হারানো নয়। একই সঙ্গে একজন নেতা, সৃষ্টিশীল ফুটবলার এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো একজন তারকাকেও হারাবে আর্জেন্টিনা। মেসির পর দলকে এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করতে হবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই বাস্তবতাই সামনে তুলে ধরেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয়ের পর মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেছেন মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘সে (মেসি) চলে গেলে বিশাল একটা শূন্যতা তৈরি হবে। তবে এখানে এমন কিছু ছেলে আছে, যাদের সত্যিকারের ব্যক্তিত্ব আছে।’ মার্তিনেসের কথায় আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের দিকটিও স্পষ্ট। মেসির মতো একজনের বিকল্প খুঁজে বের করার চেয়ে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা। কোচ লিওনেল স্কালোনি ইতিমধ্যেই তরুণদের সুযোগ দিচ্ছেন। তাঁদের দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে দেখছেন মার্তিনেস। তরুণ ফুটবলারদের প্রসঙ্গে মার্তিনেস বলেন, ‘সবকিছু ভালোভাবেই চলছে। আমরা এমন একটি দল, যেখানে নতুনদের খুব দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা অনুশীলনে খুব ভালো করছে। স্কালোনি কাউকে বিনা কারণে সুযোগ দেন না। তিনি তাদের পারফরম্যান্স দেখেন এবং ভালো করলে খেলান। এত দ্রুত এই জাতীয় দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পুরো কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য।’ আগামী ৭ অক্টোবর এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামবেন মেসি। তাঁর বিদায়ের মুহূর্ত উপভোগ করতে চান মার্তিনেস, ‘আমি এর একটা অংশ এবং মঙ্গলবার আমি এটা উপভোগ করতে চাই, তাকে হাসতে দেখতে চাই। একসঙ্গে আমাদের যে অল্প সময় বাকি আছে, আমরা সেটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করব।’

মেসির জায়গা পূরণ করবেন কে, ভাবনায় আর্জেন্টিনা

হারমানপ্রীতদের সিদ্ধান্ত, ট্রফি বিতর্কে যা বললেন কপিল দেব

ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব নারী এশিয়া কাপের ট্রফি বিতর্কে এবার মন্তব্য করলেন। হারমানপ্রীতি কৌরের দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গলফের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার। রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারত। তবে ম্যাচ শেষে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে ভারতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা মাঠে আসেননি। নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান। নাভা রায়পুর ওপেন ২০২৬ গলফ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা নিয়ে কপিলকে প্রশ্ন করা হয়। পেশাদার গলফ ট্যুর অব ইন্ডিয়ার সভাপতি কপিল তখন বলেন, ‘সবাইকে গলফ খেলতে বলুন।’ ভারতের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানের প্রটোকল আগে থেকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বিজয়ী ভারতীয় দলের জন্য ট্রফিও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু নাকভি থাকায় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা ট্রফি না নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। অন্যদিকে রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু নাকভির কাছ থেকে পুরস্কারের অর্থের চেক গ্রহণ করেন। এসিসির সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় দলের ট্রফি তাদের জন্য রাখা হয়েছে। শিরোপা জয়ের পর ভারতীয় খেলোয়াড়রা আলাদাভাবে উদযাপন করেন। দলের প্রধান কোচ আমোল মুজুমদার খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। পরে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ও সহসভাপতি রাজীব শুক্লা সেই উদযাপনে যোগ দেন এবং খেলোয়াড়দের পদক তুলে দেন। এবারের ঘটনার সঙ্গে ২০২৫ সালের পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালেরও মিল রয়েছে। দুবাইয়ে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ভারত শিরোপা জেতার পর নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি ভারতীয় দল।

হারমানপ্রীতদের সিদ্ধান্ত, ট্রফি বিতর্কে যা বললেন কপিল দেব

লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

রিয়াল মাদ্রিদ দুই গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৯১তম মিনিটে শেষ পর্যন্ত কার্লোস এস্পির গোলে লা লিগায় এলচেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের শেষ দিকে একসঙ্গে একাধিক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় মাঠে নামিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। আরদা গুলের ফ্রি কিক এলচের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এরপর ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে দুটি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় এলচে। এরপর মরিনিও কার্লোস এস্পি ও এন্দ্রিককে মাঠে নামান। এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, দিয়োমান্দে ও ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে যোগ দেন এই দুই ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত সেই ঝুঁকিই কাজে দেয়। বেলিংহামের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পেয়ে ক্রস করেন। সেই ক্রস থেকে ৯১তম মিনিটে গোল করেন এস্পি। ম্যাচ শেষে মরিনিও বলেন, ‘শেষ দিকে পরিবর্তনগুলো করার সময় আমি সবকিছুই ঝুঁকিতে রেখেছিলাম। আমরা জিতেছি, তবে হেরেও যেতে পারতাম। আমাদের এটা করতেই হতো, কারণ ড্র যথেষ্ট ছিল না।’ এস্পির প্রশংসাও করেছেন মরিনিও। চলতি মৌসুমে এবার দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করলেন এই ফরোয়ার্ড। এর আগে এস্পানিওলের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন তিনি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক থেকে সমতাসূচক গোল করলেও সেটি বাতিল হয়েছিল। এস্পি সম্পর্কে মরিনিও বলেন, ‘সে (এস্পি) ভালো করছে, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তার সামনে এমন একজন খেলোয়াড় আছে, যিনি স্বাভাবিক কোনো খেলোয়াড় নন (এমবাপ্পে)। দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়।’ তবে দুই গোলের লিড নষ্ট করায় রিয়ালের সমস্যাটাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন মরিনিও। ম্যাচ শেষ করার মতো একাধিক সুযোগ পেয়েও দল সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বলে জানান তিনি, ‘যেসব ম্যাচ দেখে মনে হয় সব শেষ, সেসব ম্যাচে আমরা তিন, চার, পাঁচটি সুযোগ পাই ম্যাচটা শেষ করে দেওয়ার। কিন্তু তা করি না।’ মরিনিও আরও যোগ করেন, ‘আমরা গোল করতে পারিনি, ৩ বা ৪-০ করে ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি। যখন বিষয়টা সহজ মনে হয়, তখনই আপনি এমন সুযোগ দিয়ে বসেন, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে এবং এমন সব স্টেডিয়ামে। ওরা একটি গোল করে এবং ম্যাচটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ভালো বিষয় হলো, কঠিন পরিস্থিতিতে দল প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং জিতে যায়।’

লিড হারিয়ে শেষ মুহূর্তে রিয়ালের বাজিমাত

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অবশেষে মাঠে আর্জেন্টিনা

১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার সবশেষ কোনো ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ এটা লিওনেল মেসিরও। দুই মাসের অপেক্ষা শেষে অবশেষে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর্জন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর সূচি ঠিক করতে পারেনি। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আগামী ফিফা উইন্ডোতে তিন ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল। ৩০ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। ৩ ও ৬ অক্টোবর বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে খেলবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফিফা উইন্ডো। এএফএ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও মুন্দো আলবিসেলেস্তের বরাতে জানা গেছে ম্যাচের ভেন্যুও। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় হবে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া ম্যাচ। ফিফা উইন্ডোর শেষ দুই ম্যাচই স্কালোনির দল খেলবে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। ৩ ও ৬ অক্টোবর মাঠে গড়াবে আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো এবং আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচ। আর্জেন্টিনার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শেষ হয়েছে ১৫ দিন আগে। গত ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু যে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছর খেলেছেন, ভক্ত-সমর্থকদের মনে রাখার মতো অসংখ্য মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, তাঁর জন্য আলাদা কিছু করার পরিকল্পনা করতেই পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে মেসির শেষবারের মতো খেলার কথা জানিয়েছিল আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। স্কালোনিকে নিয়েও আর্জেন্টিনার চিন্তা কম নয়। গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সবকিছু ভেবে দেখবেন। চুক্তি নবায়ন নিয়েও কিছু জানা যায়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। প্রথমে তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। পরে স্কালোনির জাদুর ছোঁয়ায় একের পর এক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর পাশাপাশি মেসি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন পূরণ করেন। মেসি-স্কালোনি জুটি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জিতেছে চার শিরোপা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অবশেষে মাঠে আর্জেন্টিনা

দলবদল বিতর্কের পর নতুন দুঃসংবাদ আলভারেসের

হুলিয়ান আলভারেস দুঃসময়ের বাজে চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এমনিতেই আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে দলবদল ইস্যুতে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এবার আতলেতিকো ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে নিয়ে দুঃসংবাদ শোনাল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় সান সেবাস্তিয়ানে লা লিগায় মুখোমুখি হবে রিয়াল সোসিয়েদাদ-আতলেতিকো মাদ্রিদ। আলভারেস যেন ভক্ত-সমর্থকদের রাগ ভাঙিয়ে এই ম্যাচকেই ফেরার ‘টার্গেট’ করেছিলেন। কিন্তু মাংসপেশির চোটে পড়ায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড খেলতে পারছেন না সোসিয়াদাদের বিপক্ষে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আতলেতিকো সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছে, ‘মাংসপেশির চোটে পড়ায় সান সেবাস্তিয়ানে আলভারেস যেতে পারেনি। অনুশীলনও করেনি গতকাল। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখেছেন যে তার এই ম্যাচ খেলা সম্ভব না।’ বিশ্বকাপের সময়ই মূলত আলভারেস তোপের মুখে পড়েন। তখনই আতলেতিকো ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কাতালান ক্লাবটিও তাঁকে দলে বেড়াতে অনেক চেষ্টা করেছিল। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদও নিতে চেয়েছিল আলভারেসকে। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখার সম্ভাব্য সব চেষ্টা করেছে আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদ ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই ভক্ত-সমর্থকদের রোষানলে পড়েন আলভারেস। কদিন আগে তাঁকে উদ্দেশ্য করে টাঙানো হয়েছিল ‘হুলিয়ান আউট’ ব্যানার। ২৩ আগস্ট রাতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে আলভারেসকে দেখাই করতে দেওয়া হয়নি। সতীর্থদের সঙ্গে না গিয়ে আলাদা ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন ম্যাচ শেষে আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে জানিয়েছিলেন, ক্লাবের সিদ্ধান্তেই আর্জেন্টিনার আলোচিত এই ফুটবলারকে আলাদা রাখা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ লা লিগায় আতলেতিকো চার নম্বরে থেকে শেষ করেছিল। সেই মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ক্লাবটির জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল করেছিলেন। অ্যাসিস্ট ছিল ৯টি। লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ সব টুর্নামেন্টেই তিনি গোল পেয়েছিলেন। আলভারেসকে নিয়ে আতলেতিকোর সঙ্গে বার্সেলোনার টানাটানিতে বন্ধ হয়ে যায় ট্রান্সফারমার্কেট। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেন আতলেতিকোতেই। ২০২৬-২৭ মৌসুমের লা লিগায় ৪ ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে আতলেতিকো। একটি করে ম্যাচ হেরেছে ও ড্র করেছে।৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সাতে এখন আতলেতিকো। চলতি মৌসুমে আতলেতিকোর হয়ে সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে খেলেছেন তিন ম্যাচ। কোনো গোল করতে না পারলেও অ্যাসিস্ট করেছেন এক গোলে।

দলবদল বিতর্কের পর নতুন দুঃসংবাদ আলভারেসের

মেসিহীন আর্জেন্টিনায় শুরু নতুন যুগ

১৩ দিন আগে লিওনেল মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে গত ৩১ আগস্ট অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে একের পর এক আবেগঘন পোস্ট সতীর্থ-পরিবারের সদস্যরা দিতে থাকেন। যে মেসিকে নিয়ে এত দিন আর্জেন্টিনার সমস্ত পরিকল্পনা আবর্তিত হতো, তাঁকে ছাড়াই নতুন যুগ শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। মেসির আগে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি কয়েক জন ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণ যে নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে মারামারি, সেটা তো সবারই জানা। তাতে করে নতুন প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণায় আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকে অনেক চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে, প্রতিপক্ষ কারা সব এখনো অজানা। দলে চমক হিসেবে কারা থাকছেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। স্কালোনি সাধারণত এক সপ্তাহ আগে দল ঘোষণা করেন। তবে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে ২০ দিনের মতো সময় বাকি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের গতকালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অ্যাস্টন ভিলার এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, রোমার লিওনার্দো বালের্দি, লোবার স্ট্রাইকার সান্তি কাস্ত্রো ডাক পেতে পারেন। পাশাপাশি দেশটির রিভার প্লেট ক্লাবের কয়েকজন খেলোয়াড় নতুন তালিকায় আসতে পারেন। ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা লেয়ান্দ্রো পারেদেস, ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা নাউয়েল মলিনা, এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞায় থাকা থিয়াগো আলমাদা—এই তিন ফুটবলারকে শিগগিরই পাচ্ছে না আর্জেন্টিনা। স্কালোনি চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে যে প্রাথমিক দল দেন, সেটা অনেক সময় আগেভাগে ফাঁস হলেও এবার তা হয়নি। আর বালের্দি গত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে থাকলেও চোটে পড়ায় তখন খেলতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন মার্কোস সেনেসি। মেসি পরবর্তী আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের দলে বাজপাখি নামে পরিচিত এমিলিয়ানো মার্তিনেস, রদ্রিগো দি পলের মতো তারকারা থাকছেন বলে টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। স্কালোনিকে নিয়েও আর্জেন্টিনার চিন্তা কম নয়। গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সবকিছু ভেবে দেখবেন। চুক্তি নবায়ন নিয়েও কিছু জানা যায়নি। এদিকে আর্জেন্টিনার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ওয়ালতার স্যামুয়েল জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। আর নতুন যুগ আলবিসেলেস্তেরা শুরু করতে যাচ্ছে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নেতৃত্বে। ২০১৮ বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। প্রথমে তাঁর নিয়োগ নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন। পরে স্কালোনির জাদুর ছোঁয়ায় একের পর এক শিরোপা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতে আলবিসেলেস্তেরা। কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা ফুরানোর পাশাপাশি মেসি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্ন পূরণ করেন। মেসি-স্কালোনি জুটি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জিতেছে চার শিরোপা।

মেসিহীন আর্জেন্টিনায় শুরু নতুন যুগ

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে নিজের দাবিটা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোরালোভাবেই তুলে ধরলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন ফরাসি তারকা। তিনি সব মিলিয়ে এ বছর নিজের পারফরম্যান্সকে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে করছেন। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেছেন, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু করেছেন। তাঁর মতে, দলীয় সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূলত ব্যক্তিগত পুরস্কার। আর এ বছর তিনি নিজেও তেমন কিছু করে দেখিয়েছেন। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। অবশ্যই দলগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল একটি দলীয় খেলা। কিন্তু এটি একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার ধারণাটা মেসি ও রোনালদোর যুগের মতো। আমরা কখনো সাধারণ মানের কোনো খেলোয়াড়কে এটি দিই না, বরং এমন খেলোয়াড়কে দিই, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। আর আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি, যা আলাদা। তাই আমি মনে করি, এটি আমি জিততে পারি।’ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। এরপর উত্তর আমেরিকায় হওয়া বিশ্বকাপে ১০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে কি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ব্যালন ডি’অর ছাড়াই ক্যারিয়ার শেষ করার কথা ভাবতে পারে? হ্যাঁ। মাঠেই সবকিছু অর্জন করতে হয়। অবশ্য ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে ভোটও আছে। কিন্তু ১০ বছর পর কী হবে, সেটা দেখার আগে আমাদের এখনকার দিকে তাকাতে হবে। এ বছর ব্যালন ডি’অর জেতার দারুণ সুযোগ আমার আছে।’ এখনো ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি এমবাপ্পের। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আধিপত্য তাঁর অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ করেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘হ্যাঁ, কিন্তু ১০ বছর আগে তো আমরা বলিনি যে মেসি ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত খেলবে এবং আরও তিন বছর ধরে পুরস্কারটি জিতবে। ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রেও তারা খুব বেশি সুযোগ ছাড়েনি। আবার এমন সময়ও গেছে, যখন ভোট দেওয়া হয়েছে সেরা দলের সেরা খেলোয়াড়কে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে নয়।’

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে

লাল-হলুদের সঙ্গে যুক্ত হলো ব্ল্যাক কার্ড

ব্ল্যাক কার্ড এবার ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে যুক্ত হলো। তবে এটি খেলোয়াড়দের জন্য নয়। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন যুব ফুটবলের ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে এই কার্ড চালু করেছে। ১১ সেপ্টেম্বর নতুন নিয়মটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং চলতি মৌসুম থেকেই ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় কার্যকর হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য, গ্যালারি থেকে আসা গালিগালাজ, হুমকি, শারীরিক আগ্রাসন ও অতিরিক্ত চাপ থেকে শিশু খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের মতে, শিশুদের ফুটবল হওয়া উচিত আনন্দ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জায়গা। সেই লক্ষ্যেই অভিভাবক ও দর্শকদের আচরণের সীমা নির্ধারণে এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে দর্শক বা অভিভাবকদের আচরণ অনুপযুক্ত মনে হলে রেফারি প্রথমে দুই দলের কোচকে গ্যালারির দর্শকদের সতর্ক করতে বলবেন। লাউডস্পিকারের মাধ্যমেও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। আচরণ অব্যাহত থাকলে ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হবে এবং দুই দলকে ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে। খেলা পুনরায় শুরুর পরও একই ধরনের আচরণ হলে শেষ পর্যন্ত রেফারি দেখাবেন ব্ল্যাক কার্ড। আর এই কার্ড দেখানোর অর্থ হলো ম্যাচ সেখানেই স্থায়ীভাবে শেষ। ম্যাচটি আর পুনরায় শুরু করা যাবে না। ফেডারেশনের প্রটোকলে বলা হয়েছে, ‘খেলা পুনরায় শুরুর পরও যদি আপত্তিকর আচরণ অব্যাহত থাকে, রেফারি ম্যাচ শেষ করার জন্য বাঁশি বাজাবেন। ম্যাচটি চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং আর পুনরায় শুরু করা যাবে না।’ নতুন নিয়মে গালিগালাজ ও অপমানজনক মন্তব্যের পাশাপাশি শিশু খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা স্টাফকে আঘাত, ধাক্কা কিংবা অপমান করাও শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়ানো এবং অভিভাবক বা দর্শকদের মধ্যে মৌখিক কিংবা শারীরিক সংঘর্ষও এর আওতায় রয়েছে। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগের মূল বার্তা পরিষ্কার—গ্যালারিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চাপ কিংবা হতাশার বোঝা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যুব ফুটবলকে নিরাপদ ও আনন্দময় রাখতে সেই সীমা অতিক্রম করলেই এবার ম্যাচ থামিয়ে দেবে ব্ল্যাক কার্ড।

লাল-হলুদের সঙ্গে যুক্ত হলো ব্ল্যাক কার্ড

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের কপালে যেন বিতর্কই সঙ্গী

এবারের ইংল্যান্ড সফরটা যে করেই হোক, পাকিস্তান ক্রিকেট দল ভুলেই থাকতে চাইবে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বরং বাইরের ঘটনায় বেশি সমালোচিত। জাতীয় দলকে নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে ঘটল আরেক আলোচিত ঘটনা। এমনকি বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে ক্রিকেটারদের। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়ে আলোচিত ঘটনা ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে ঘটেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানে’র গতকালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। গত পরশু বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার-স্টাফরা। পোর্টসমাউথের ম্যারিয়ট হোটেলে প্রায় ৪০ পুরুষ গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের দেখে আশ্রয়প্রার্থী বলে মনে করেন বিক্ষোভকারীরা। প্রথমে আশ্রয়প্রার্থী থাকার খবরে হোটেলের সামনে জড়ো হলেও পরে ভুল ভাঙে বিক্ষোভকারীদের। আসলে সেখানে ছিলেন পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ক্রিকেটার- স্টাফরা। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিব্রতকর অবস্থায় পড়লে ম্যারিয়ট হোটেলে যান ইংল্যান্ডের রিফর্ম পার্টির কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডউইক। হোটেলে অবস্থানরত পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার-স্টাফ ও বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে আস্তে আস্তে সরে যান বিক্ষোভকারীরা। পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটাররা হেনস্তার শিকার হওয়ায় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) যোগাযোগ করছেন পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখছে তারা। ম্যারিয়ট হোটেলে তখন কী ঘটেছিল, সেটা নিয়ে ‘গার্ডিয়ানে’র সঙ্গে কথা বলেন ম্যাডউইক। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমকে রিফর্ম পার্টির কাউন্সিলর বলেন, ‘‘কোচের সঙ্গে কথা বলেছি আমি।তারপর বিক্ষোভকারীদের বলেছি, ‘আপনারা ভুল করছেন। তারা ক্রিকেট দলের অংশ।” আগে থেকেই বিদেশি আসার খবর পান বলে সেদিন বিক্ষোভকারীদের জড়ো হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন ম্যাডউইক। গার্ডিয়ানকে রিফর্ম পার্টির কাউন্সিলর বলেন, ‘পোর্টসমাউথের মানুষ আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। একই কোম্পানির একটা কোচে প্রায় ৪০ জন বিদেশি আসার খবর শোনা গিয়েছিল। ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা চলে যান।’ ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল একটি চার দিনের ম্যাচে হেরেছে ১০ রানে। গতকাল শুরু হয় চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। আরুন্ডেলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে পাকিস্তান পায় ১৭৭ রানের বিশাল জয়। আরও তিন ওয়ানডে বাকি রয়েছে। এদিকে হেডিংলি ও লর্ডসে হেরে পাকিস্তান জাতীয় দল এরই মধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে। এজবাস্টনে গতকাল শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড খেলছে সফরকারীদের ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্যে।

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের কপালে যেন বিতর্কই সঙ্গী

ফিফার বিশেষ বার্তা, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সেপ্টেম্বরের শেষে শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান কাপে অংশ নেবে। খেলবে ১৪ দল ইন্দোনেশিয়া-হংকংয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে। আসিয়ান কাপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ফিফা। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপে আসিয়ান কাপের ১১ সদস্য ও তিন অতিথি দল। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আজ সকালে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। ফিফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডারের মধ্যেই জাতীয় দলগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সুযোগ দিতেই চালু করা হয়েছে ফিফা আসিয়ান কাপ। এর মাধ্যমে ফুটবলাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আঞ্চলিক লড়াইয়ে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফুটবলীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভক্ত-সমর্থকদের স্মরণীয় মুহূর্ত ও দারুণ ফুটবল উপহার দেবে।’ ২০২৬ ফিফা আসিয়ান কাপ হবে দুই ডিভিশনে। প্রথম ডিভিশনে আয়োজক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে থাকছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তান। দ্বিতীয় ডিভিশনে থাকছে আরেক আয়োজক হংকং, ব্রুনেই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে। অংশগ্রহণকারী এই ১৪ দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ২০০ কোটিরও বেশি। এসব অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক তরুণ ফুটবল-সমর্থক রয়েছেন। তাতে করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফুটবলের অনেক প্রসার হবে বলে মনে করছে ফিফা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও হংকংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আসিয়ান কাপে। ভারত ও চীন নাম প্রত্যাহার করায় তাদের জায়গায় খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। প্রত্যেক ডিভিশনকে ভাগ করা হবে দুই গ্রুপে। প্রত্যেক দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে গ্রুপের অন্য দলগুলোর বিপক্ষে একবার করে খেলবে। প্রত্যেক গ্রুপের শীর্ষ দল নিজ নিজ ডিভিশনের ফাইনালে উঠে শিরোপার জন্য লড়বে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রথম ডিভিশনে দুই গ্রুপের রানার্স-আপ দল অংশ নেবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও। ২৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ। জামাল ভূঁইয়াদের পরের ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। একই মাঠে একই সময়ে ম্যাচটি শুরু হবে। এই ভেন্যুতেই হামজা চৌধুরী-জামালরা ১ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবেন। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

ফিফার বিশেষ বার্তা, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ

ইয়ামালের বাঁ পায়ের জাদুতে হতভম্ব ফেইনুর্ড

লামিন ইয়ামাল ফ্রি কিক থেকে বাঁ পায়ে শট নিলেন। ফেইনুর্ডের ডিফেন্ডাররা বোকা বনে গিয়েছেন, গোলরক্ষক টিআর্ক আর্নেস্টও হতভম্ব হয়ে গেলেন। ইয়ামাল গোলের পর এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে ক্যামেরার দিকে কী যেন ছুড়ে মেরেছেন। স্প্যানিশ তারকার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিকও। ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল লিগ পর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ফেইনুর্ডকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে বার্সেলোনা। বার্সার দুর্দান্ত জয়ের রাতে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছেন ইয়ামাল। ৭৭ মিনিটে তাঁর জাদুকরী ফ্রি কিক অনেকেরই নজর কেড়েছে। পরবর্তীতে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দিয়ে একটা গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়াতে অবদান রেখেছেন। ছন্দে থাকা ইয়ামাল কি এবার ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য দাবিদার—চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে ফেইনুর্ডকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিকের কাছে এসেছে এমন প্রশ্ন। ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘অবশ্যই সে আমার খেলোয়াড়। বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়। তার ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্যতা আছে। আমার কাছে এটা দারুণ ব্যাপার।’ বার্সার হয়ে তিনটি লা লিগা, দুইবার স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একবার কোপা দেল রে জিতেছেন ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতেও এরই মধ্যে দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর গত জুলাইয়ে নিউজার্সিতে জিতেছেন বিশ্বকাপ। স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্টও করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এরই মধ্যে ১২ গোল করে ফেলেছেন তিনি। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে প্রথম গোলেই অবদান রেখেছেন ইয়ামাল। ৩ মিনিটে তাঁর অ্যাসিস্টে গোল করেন রাফিনিয়া। শেষভাগে এসে আরও দুটি গোলে অবদান রেখেছেন। ৭৭ মিনিটে জাদুকরী গোল করা ইয়ামাল ৮৫ মিনিটে গোল করিয়েছেন জেসুসকে দিয়ে। ইয়ামালের বাতাসে ভাসা বলে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জেসুস। প্রতিভাবান ইয়ামালকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচেই আপনি দেখতে পারেন, সে কতটা দুর্দান্ত। তার মতো প্রতিভা আর কারও নেই।’ ফেইনুর্ডকে গতকাল ৫-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। রাফিনিয়া করেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেন করিম আদেয়েমি, ইয়ামাল ও জেসুস। ফেইনুর্ডের একমাত্র গোল করেন মিডফিল্ডার স্যাম স্টেইন। তাঁকে অ্যাসিস্ট করেন গনসালো বোর্জেস। এদিকে তারকা ইয়ামাল ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সেই বার্সেলোনার হয়ে একশরও বেশি গোলে অবদান রেখেছেন। বার্সার জার্সিতে ১৫৬ ম্যাচে ৫৪টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

ইয়ামালের বাঁ পায়ের জাদুতে হতভম্ব ফেইনুর্ড

মেসি-রোনালদোর চেয়ে এখন কত দূরে এমবাপ্পে

ফুটবল বিশ্বকাপের ছন্দটা কিলিয়ান এমবাপ্পে ধরে রেখেছেন ক্লাব ফুটবলেও। নতুন মৌসুমে এরই মধ্যে গড়ে একটি করে গোল করেছেন তিনি। যার সবশেষটা গতকাল করেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। তাতে করে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে আরও একধাপ এগিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই এমবাপ্পের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোল্ডেন বুট। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার হিসেবে জিতেছিলেন এই পুরস্কার। গোল্ডেন বুট পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ব্রাহিম দিয়াজের ব্যাক পাস থেকে স্লাইড করে ইন্টার মিলানের জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। তাতে করে চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপ্পের গোল হয়ে গেল ৭১। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে পাঁচে এখন তিনি। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি রাউলও চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ৭১ গোল। তিন বছর আগে ইউরোপ ছেড়ে চলে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখনো সবার ওপরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে রোনালদো করেছেন ১৪০ গোল। দ্বিতীয় দফায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা ২০২৩ সালে চলে যান আল নাসরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুইয়ে থাকা লিওনেল মেসির গোল ১২৯। রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসিও ২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে চলে যান ভিন্ন মুলুকে। যেখানে আজ থেকে ২০ বছর আগে স্প্যানিশ ফুটবলে মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ এখনো ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয়ে আলাদা শিহরণ জোগায়। রোনালদো তখন খেলতেন রিয়াল মাদ্রিদে। মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত তিন ফুটবলার গোলের সেঞ্চুরি করেছেন। তিনে থাকা রবার্ট লেভানডফস্কি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে করেছেন ১০৬ গোল। মেসি-রোনালদো-লেভার পরেই অবস্থান করছেন করিম বেনজেমা। চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনজেমা করেন ৯০ গোল। এমবাপ্পের আগে যে চার ফুটবলার আছেন, তাঁরা কেউই এখন আর ইউরোপে নেই। মেসি দুই দশক বার্সায় খেলার পর ২০২১ সালে চলে যান প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি)।

মেসি-রোনালদোর চেয়ে এখন কত দূরে এমবাপ্পে

কোচদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য, মুখ খুললেন মিসবাহ

স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটে একরকম আচরণ করা হয় না বলে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন দেশটির সাবেক টেস্ট অধিনায়ক ও সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মিসবাহ উল হক। মিসবাহর দাবি, ব্যর্থতার দায়ে স্থানীয় কোচদেরই বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয় যেখানে  বিদেশি কোচদের তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে মিসবাহ বলেন, ‘এটা সত্য যে পাকিস্তান ক্রিকেটে স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে ভিন্নভাবে আচরণ করা হয়। বিদেশি কোচদের তুলনায় স্থানীয় কোচদের বেশি পর্যালোচনা ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।’ বিদেশি কোচ নিয়োগে আপত্তি না থাকলেও তাঁদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থক, সমালোচক, সংবাদমাধ্যম ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক ধরনের পক্ষপাত রয়েছে বলে মনে করেন মিসবাহ, ‘বিদেশি কোচ নিয়োগে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। তবে যে বিষয়টি আমাকে ভাবায়, তা হলো—আমরা (সমর্থক, সমালোচক, গণমাধ্যম ও পিসিবি) বিদেশি কোচদের প্রতি এক ধরনের সফট কর্নার দেখাই।’ বিদেশি কোচদের বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করে মিসবাহ আরও বলেন, ‘আমরা বিদেশি কোচদের বেশি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দিয়ে থাকি এবং দল খারাপ করলে তাদের তুলনামূলকভাবে কম দায়ী করা হয়। বিপরীতে, স্থানীয় কোচদের সবসময় সবার কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।’ শুধু কোচ নয়, বাজে পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দেরও মানসিকভাবে চাপে ফেলার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিসবাহ। তাঁর মতে, কোনো খেলোয়াড় খারাপ করলে তাকে সমালোচনার মুখে ফেলায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ‘এর ফলে আমাদের খেলোয়াড়দের ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। চাপের মুখে আমাদের আতঙ্কিত হয়ে লোকদেখানো পরিবর্তন করা উচিত নয়। পারফরম্যান্স ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এরপর কীভাবে এগোব, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

কোচদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য, মুখ খুললেন মিসবাহ

ওয়ানডেতে বাদ পড়েও টেস্টে টিকে গেলেন লাবুশেন

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও মারনাস লাবুশেনের ওপর আস্থা হারায়নি। এই ব্যাটার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। যদিও ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। দুই টেস্টের তিন ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে লাবুশেনের রান ছিল ১, ৩১ ও ৪। এমন পারফরম্যান্সের পর ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর তাঁর টেস্ট দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রদবদলের পথে না গিয়ে লাবুশেনকে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল দিয়েছে সিএ। সবশেষ তিন বছর আগে টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন লাবুশেন; ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দীর্ঘ সময় ধরে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও নিজেদের টেস্টের পরিকল্পনায় এখনো আছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অস্ট্রেলিয়া তিনটি টেস্ট খেলবে। ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় টেস্ট ১৮ অক্টোবর গকেবেরহার সেন্ট জর্জ’স পার্কে। ২৭ অক্টোবর কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে হবে সিরিজের শেষ টেস্ট। লাবুশেনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ম্যাথু রেনশও। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিং করবেন তিনি। আগের শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ১০ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন রেনশ। তবে ম্যাকাইতে নিজের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান করে আউট হন। ২০১৮ সালের আলোচিত বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ওই সফরের দলের পাঁচ ক্রিকেটার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, স্টিভ স্মিথ ও ম্যাথিউ রেনশ এবারও দলে আছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোলান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, মাইকেল নেসার, ম্যাথিউ রেনশ, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বিউ ওয়েবস্টার।

ওয়ানডেতে বাদ পড়েও টেস্টে টিকে গেলেন লাবুশেন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream