নিজস্ব প্রতিবেদক প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এখন নির্বাচিত সরকারের উচিত বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও নির্যাতনের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। নুরুল হক আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশে উগ্রবাদী রাজনীতির বিস্তার ঘটতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও দলটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট তৎপরতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি। নুরুল হক আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য থাকলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনগতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। জামায়াতের কয়েকজন নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াত বর্তমান সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে নুরুল হকের এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরুল হকের
মতামত