শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পদ্মা সেতু দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পদ্মা সেতু দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান
ছবি: সংগৃহীত

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা এ জ্বালানি (ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম) বহনকারী তিনটি লরি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রহরায় ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরি পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আসে। এবারই প্রথম পদ্মা সেতু দিয়ে ইউরেনিয়াম আনা হলো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

সকালে ইউরেনিয়ামবাহী লরিগুলো পৌঁছালে প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান ও বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।

এর আগে নিরাপত্তার জন্য সকাল সোয়া ৭টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের (ইউনিট-২) জন্য কয়েক দফায় রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব জ্বালানি কঠোর নিরাপত্তায় সড়কপথে রূপপুর বিদ‍্যুৎকেন্দ্রে আনা হয়। চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও জ্বালানির চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, গাজীপুর, ঢাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পদ্মা সেতু দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যানজট ছাড়া ভালোভাবে যাতে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিলেন। সড়কে যানযট যাতে না হয়, সে জন্য সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। 

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


পদ্মা সেতু দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা এ জ্বালানি (ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম) বহনকারী তিনটি লরি শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রহরায় ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরি পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আসে। এবারই প্রথম পদ্মা সেতু দিয়ে ইউরেনিয়াম আনা হলো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

সকালে ইউরেনিয়ামবাহী লরিগুলো পৌঁছালে প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান ও বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাড়িবহরকে স্বাগত জানান।

এর আগে নিরাপত্তার জন্য সকাল সোয়া ৭টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের (ইউনিট-২) জন্য কয়েক দফায় রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব জ্বালানি কঠোর নিরাপত্তায় সড়কপথে রূপপুর বিদ‍্যুৎকেন্দ্রে আনা হয়। চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও জ্বালানির চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, গাজীপুর, ঢাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পদ্মা সেতু দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যানজট ছাড়া ভালোভাবে যাতে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিলেন। সড়কে যানযট যাতে না হয়, সে জন্য সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও পাকশী লালন শাহ সেতু দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। 

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream