মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানছবি: প্রথম আলো

দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে।

সরকারের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এই কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি বিশেষ করে রান্নার গ্যাস, ‘এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, এটা সরকার বোঝে। বুঝতেই হবে। তারপরও সরকার এ কাজটা (মূল্য বৃদ্ধি) করল। এখন আপনি প্রশ্ন করছেন আমরা তো জনগণের কল্যাণের কথা বলি, তারপরও কেন করছি? আমি যদি এভাবে বলি, এই মূল্যবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘কী হতে পারে? এটার মূল্য কমানোর জন্য সরকারকে এখন ভর্তুকি দিতে হতে পারে, তাই তো। যেমন আমরা অনেকেই প্রায়ই ভারতের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি আছে আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু দাম তুলনা করি যে সেখানে দাম কম। তো সরকারের একটা অপশন হতে পারে ভর্তুকি দিতে পারে, দিয়ে দামটা একটা নাগালের মধ্যে রাখতে পারে।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, যে জিনিসগুলো আমদানি করা হয়, সেগুলো আর দেশের প্রস্তুত জিনিসের ভর্তুকি এক রকম নয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসের মধ্যে পার্থক্য হলো এটার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়। এখন সরকার ভর্তুকি আসলে কতটা দিতে পারবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা জিনিস জানিয়ে রাখি, আগেও বলেছি, আমাদের এই চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একটি পরিকল্পনা। আমি একটা ব্রিফিংয়ে আড়াই মাসের মাথায় জানিয়েছিলাম, ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আমরা এখন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছি প্রতি ইউনিট ৩০ ডলারে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলার।’

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও এ সংকটকে বৈশ্বিক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এখন বিপদ হয়েছে বাংলাদেশের মতো একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির দেশে সরকারকে বেছে নিতে হচ্ছে কোথায় কতটুকু ছাড় দেবে, কতটুকু করবে। এর আঁচ কারও না কারও, কোনো না কোনোভাবে নিতে হবে। ঘটনা হচ্ছে এই।

জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপরও এটা যদি বড় প্রভাব পড়ে থাকে, পড়ছে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার যদি অন্য ক্ষেত্রে আরও ভালো কিছু করতে পারে, এ ক্ষেত্রে সরকার বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আবারও বলছি, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম।

বিষয় : গ্যাস গ্যাস সংকট এলপিজি গ্যাস সরবরাহ সিলিন্ডার গ্যাস তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে।

সরকারের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এই কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি বিশেষ করে রান্নার গ্যাস, ‘এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, এটা সরকার বোঝে। বুঝতেই হবে। তারপরও সরকার এ কাজটা (মূল্য বৃদ্ধি) করল। এখন আপনি প্রশ্ন করছেন আমরা তো জনগণের কল্যাণের কথা বলি, তারপরও কেন করছি? আমি যদি এভাবে বলি, এই মূল্যবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘কী হতে পারে? এটার মূল্য কমানোর জন্য সরকারকে এখন ভর্তুকি দিতে হতে পারে, তাই তো। যেমন আমরা অনেকেই প্রায়ই ভারতের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি আছে আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু দাম তুলনা করি যে সেখানে দাম কম। তো সরকারের একটা অপশন হতে পারে ভর্তুকি দিতে পারে, দিয়ে দামটা একটা নাগালের মধ্যে রাখতে পারে।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, যে জিনিসগুলো আমদানি করা হয়, সেগুলো আর দেশের প্রস্তুত জিনিসের ভর্তুকি এক রকম নয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসের মধ্যে পার্থক্য হলো এটার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়। এখন সরকার ভর্তুকি আসলে কতটা দিতে পারবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা জিনিস জানিয়ে রাখি, আগেও বলেছি, আমাদের এই চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একটি পরিকল্পনা। আমি একটা ব্রিফিংয়ে আড়াই মাসের মাথায় জানিয়েছিলাম, ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আমরা এখন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছি প্রতি ইউনিট ৩০ ডলারে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলার।’

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও এ সংকটকে বৈশ্বিক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এখন বিপদ হয়েছে বাংলাদেশের মতো একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির দেশে সরকারকে বেছে নিতে হচ্ছে কোথায় কতটুকু ছাড় দেবে, কতটুকু করবে। এর আঁচ কারও না কারও, কোনো না কোনোভাবে নিতে হবে। ঘটনা হচ্ছে এই।

জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপরও এটা যদি বড় প্রভাব পড়ে থাকে, পড়ছে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার যদি অন্য ক্ষেত্রে আরও ভালো কিছু করতে পারে, এ ক্ষেত্রে সরকার বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আবারও বলছি, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। এটা মাথায় রাখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream