‘বাঁচিয়ে রাখার জন্য’ ইরানকে সমর্থন দেওয়া যে কোনো দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্স লিখেছে, ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন তার অবসান চান।
কয়েক হাজার মানুষ এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে আর এটি দ্রুত পারস্য উপসাগারীয় দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে তেল, গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বৈশ্বিক বাজারগুতে জোর ধাক্কা লেগেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হতো ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিল ও জুনে, দুইবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহের ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্য সামনে রেখে। যুদ্ধ থেকে ইসরায়েল অনেকাংশে সরে যাওয়ার পরও প্রতিবারই দ্রুত ভেঙে পড়ে যুদ্ধবিরতি।
ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নকরণের’ ঘোষণা দেন। তবে তার বার্তায় বিস্তারিত তথ্য ছিলনা।
টানা প্রায় ৫০ বছর ধরে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে টিকে আছে ইরান অর্থনেতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করে।
বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, “কোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর অথবা সরকারি সংস্থা ইরানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোনো ধরনের সহযোগিতার অনুমোদন দেয় তবে তাকে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।”
তবে কোনো দেশ এমনটি করলে সেই দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো কী হবে পরিষ্কার করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
রয়টার্স লিখেছে, সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প যেসব হুমকি ও ঘোষণা দেন, সেগুলো সবসময় লিখিতভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয় না অথবা সফলভাবে কার্যকর করাও হয় না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বিনিময় ও অর্থনৈতিক লেনদেন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইরান থেকে ছোড়া ও সাগরে পড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা শনাক্ত করেছে, আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন কথা জানানোর পর ওই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় আবু ধাবি।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপালারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশ কেনে চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে নতুন করে আরও অর্থনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ চীন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক আর দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা খনিজও সরবরাহ করে।
মতামত