শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, মারা গেলেন সহকারী বাবুর্চিও



গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, মারা গেলেন সহকারী বাবুর্চিও

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাবার দিতে দেরি হওয়ায় চুলার লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফজের আলী সরদার (৭০) নামে এক বাবুর্চিকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বাবুর্চিকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি (৭০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা গেছেন।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় অবস্থিত আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদরাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে ঘটনাস্থলেই ফজের আলীর মৃত্যু হয়। পরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোনাবান বিবি।

 

নিহত সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মাদরাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদার ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি রান্না শেষ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে ফজের আলীর কাছে খাবার চান। খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি (লাকড়ি) তুলে নিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এ সময় ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও মারধর করেন ওই ব্যক্তি। তাঁদের চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন।

 

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৬টার দিকে সোনাবান বিবির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার সুপার মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্ত সেন্টু বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ওসি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খাবার চেয়ে না পেয়ে ওই ব্যক্তি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন। ঘটনার পরপরই তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। পরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সেন্টু।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, মারা গেলেন সহকারী বাবুর্চিও

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাবার দিতে দেরি হওয়ায় চুলার লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফজের আলী সরদার (৭০) নামে এক বাবুর্চিকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বাবুর্চিকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি (৭০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা গেছেন।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় অবস্থিত আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদরাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে ঘটনাস্থলেই ফজের আলীর মৃত্যু হয়। পরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোনাবান বিবি।

 

নিহত সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মাদরাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদার ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি রান্না শেষ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে ফজের আলীর কাছে খাবার চান। খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি (লাকড়ি) তুলে নিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 

এ সময় ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও মারধর করেন ওই ব্যক্তি। তাঁদের চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন।

 

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৬টার দিকে সোনাবান বিবির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার সুপার মো. লুৎফর রহমান বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্ত সেন্টু বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ওসি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, খাবার চেয়ে না পেয়ে ওই ব্যক্তি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন। ঘটনার পরপরই তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। পরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সেন্টু।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream