রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী ও নারী
নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন,
সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার
দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেবাহুতি চক্রবর্তী।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।
দেবাহুতি চক্রবর্তীর বাবা কুমারেশ
চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ কুটিরে তাঁর জন্ম।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে তাঁর
মরদেহ রাজবাড়ী শহরের আনন্দ কুটিরে নেওয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে সেখান থেকে মরদেহ
নেওয়া হয় রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনে। সেখানে সহকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে মরদেহ নেওয়া হয় শহরের রেলওয়ে মাঠের শহীদ মিনারে। সেখানে জেলার বিভিন্ন সামাজিক,
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো
হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে
ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রাজবাড়ী জেলা শাখা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, রাজবাড়ী জেলা
ছাত্রদল, জেলা জাসাস, উদীচী
শিল্পীগোষ্ঠী, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদ, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, মহিলা পরিষদ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, গহন থিয়েটার,
রাজবাড়ী আবৃত্তি পরিষদ ও রাজবাড়ী একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ২টার দিকে
তাঁর মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর
করা হয়। মৃত্যুর আগেই তিনি নিজের মরদেহ চিকিৎসা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দান
করে গিয়েছিলেন।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ
সম্পাদক, লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন বলেন,
দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন
লেখক, শিশু সংগঠক, নারী নেত্রী ও
অসাম্প্রদায়িক মানুষ। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁকে হারানো সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য
অনেক বড় ক্ষতি।
ফরিদপুর জেলা বারের সাবেক সম্পাদক ও
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার
বলেন, দেবাহুতি দি ছিলেন অনেক বড় মাপের
মানুষ। তিনি ছিলেন বহু গুণের অধিকারী।
মতামত