বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

রংপুরের পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম (৪৮)। 

অভিযোগে মারধরের পাশাপাশি টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। 

সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের নবু হাড়িয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (৩০), তাঁর স্ত্রী জয়নব জয়গন (৫২), মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে রনজু মিয়া (৪২), রনজুর ছেলে সাকিব ওরফে সাক্কু (২০), রমজান আলীর ছেলে ফাহিম মিয়া (২১), রমজান আলীর মেয়ে রুজিনা ওরফে রুজি (২৫) এবং রনজু মিয়ার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৩২)।

প্রায় ছয় বছর আগে রেহেনা বেগমের বড় মেয়ে নিপা আক্তার রিতুর সঙ্গে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে নিপা  আক্তার রিতু আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো ছোরা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ভূক্তভূগী  রেহেনা বেগমকে ঘিরে ধরে পথরোধ করে তাঁকে গালিগালাজ করেন অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

এ সময় রেহেনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ভাগ্নি মোরশেদা বেগমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে মোরশেদার নাকের বাঁ পাশে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে নিপা আক্তার রিতু এগিয়ে এলে তাঁকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা।

মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ভূক্তভূগী রেহেনা বেগমকেও ধাক্কা দিয়ে আবারও ফেলে দেন অভিযুক্তরা। পরে তাঁর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক এগিয়ে এলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে মারধর করেন অভিযুক্তরা।

ভূক্তভূগী রেহেনা বেগম বলেন,অভিযুক্তরা আমাকে,আমার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে,আমার ভাগ্নী ও আমার বড় ভাইকে মারপিট করে গুরুতর জখম করেছে। ওই সময়ে আমার কোমরে প্যাচানো জমি বন্ধকের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও আমার ভাগ্নীর দুইটি কানের দুল যাহার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা 

ছিনিয়ে নেন অভিযুক্তরা।পরে আমি স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আমার মেয়ে নিপা আক্তার রিতু ও ভাগ্নী মোরশেদা বেগমকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই। আমি এবং আমার বড় ভাই  আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রংপুরের পীরগাছায় পূর্ববিরোধের জেরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম (৪৮)। 

অভিযোগে মারধরের পাশাপাশি টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। 

সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের নবু হাড়িয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (৩০), তাঁর স্ত্রী জয়নব জয়গন (৫২), মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে রনজু মিয়া (৪২), রনজুর ছেলে সাকিব ওরফে সাক্কু (২০), রমজান আলীর ছেলে ফাহিম মিয়া (২১), রমজান আলীর মেয়ে রুজিনা ওরফে রুজি (২৫) এবং রনজু মিয়ার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৩২)।

প্রায় ছয় বছর আগে রেহেনা বেগমের বড় মেয়ে নিপা আক্তার রিতুর সঙ্গে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে নিপা  আক্তার রিতু আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো ছোরা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ভূক্তভূগী  রেহেনা বেগমকে ঘিরে ধরে পথরোধ করে তাঁকে গালিগালাজ করেন অভিযুক্তরা। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

এ সময় রেহেনাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ভাগ্নি মোরশেদা বেগমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে মোরশেদার নাকের বাঁ পাশে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে নিপা আক্তার রিতু এগিয়ে এলে তাঁকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা।

মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ভূক্তভূগী রেহেনা বেগমকেও ধাক্কা দিয়ে আবারও ফেলে দেন অভিযুক্তরা। পরে তাঁর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক এগিয়ে এলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে মারধর করেন অভিযুক্তরা।

ভূক্তভূগী রেহেনা বেগম বলেন,অভিযুক্তরা আমাকে,আমার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে,আমার ভাগ্নী ও আমার বড় ভাইকে মারপিট করে গুরুতর জখম করেছে। ওই সময়ে আমার কোমরে প্যাচানো জমি বন্ধকের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও আমার ভাগ্নীর দুইটি কানের দুল যাহার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা 

ছিনিয়ে নেন অভিযুক্তরা।পরে আমি স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আমার মেয়ে নিপা আক্তার রিতু ও ভাগ্নী মোরশেদা বেগমকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই। আমি এবং আমার বড় ভাই  আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream