নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ সাইফুল ইসলাম সরকার ও তাঁর ছোট ভাই শহীদ রিপন সরকারের ২০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হাজীপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া এলাকায় ‘শহীদ সাইফুল ইসলাম স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ মহালম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মুহসীন হোসাইন বিদ্যুৎ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শহীদ সাইফুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা এবং নরসিংদী সদর থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিদ সরকার। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহীদ দুই ভাইয়ের স্মৃতিচারণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাইফুল ইসলাম সরকার ও শহীদ রিপন সরকারের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় তাঁদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহীদ দুই ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
আয়োজক ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের মতে, তাঁদের স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।
শহীদ সাইফুল ইসলাম সরকার হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর পরিচিতি ও রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ধরে রাখার পাশাপাশি তাঁর ছোট ভাই রিপন সরকারের স্মৃতিও সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে এ আয়োজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকেরা।
আলোচনা সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি শহীদ দুই ভাইকে স্মরণ এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আয়োজকরা জানান, শহীদ সাইফুল ইসলাম সরকার ও শহীদ রিপন সরকারের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের স্মৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিও অব্যাহত রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদ সাইফুল ইসলাম সরকার ও শহীদ রিপন সরকারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করা হয়।
মতামত