ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন ও অর্থ গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এতে বিভিন্ন হল সভা ওয়াকআউট, উদ্বেগ ও সাধারণ সম্পাদক পদ-সহ বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করছে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।সংগঠনটির মডারেটর ও সহকারী মডারেটরের ‘একপাক্ষিক’ সিদ্ধান্তের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির সভাপতির বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের পর এসব ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইয়াছিন আলী কর্তৃক নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন ও অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অভিযুক্ত ইয়াছিনকে সতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক এক-পাক্ষিক সিদ্ধান্ত দাবি করে সভা ওয়াকআউট করে সাদ্দাম হোসেন হল ও জুলাই-৩৬ হল ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিনিধি। পরে সন্ধ্যায় এমন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের অফিশিয়াল পেইজ থেকে বিবৃতি দেয় শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটি ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটি। এসময় বিতর্ক অঙ্গনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
পরদিন দুপুরে একে একে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাবিদ ইফতি, সহ-সভাপতি রাহাত আব্দুল্লাহ, প্রেস ও আইটি সেক্রেটারি তানিম তানভীর পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের বিষয়ে সংগঠনটির সহ-সভাপতি রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। এমনকি অর্থসংক্রান্ত তথ্য গোপন করার মতো গুরুতর বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও সেটিকে অপরাধ হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। একটি সংগঠন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে এভাবে পরিচালিত হতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করাকে নিজের জন্য সমীচীন মনে করছি না।
পদত্যাগের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক লাবিদ ইফতি বলেন, প্রথমত, কারণ আমি বিশ্বাস করি যে কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের মধ্যে থাকা অন্তর্নিহিত অসন্তোষ ও অব্যক্ত অসমর্থন সচিব হিসেবে আমার জন্য একটি প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি করবে।
দ্বিতীয়ত, আমার স্নাতক পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি, আমার পড়াশোনার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যার ফলে আমার পক্ষে সংগঠনটিকে পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাদ্দাম হোসেন হল প্রতিনিধির অভিযোগ, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটি গঠন ও অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মডারেটর ও সহকারী মডারেটর একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিনিধি জানান, ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও মডারেটরের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এরকম পরিস্থিতির দীর্ঘায়ন আইইউডিএস ও হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিতর্ক অঙ্গনে। তাই পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সংকটের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।
এছাড়া উদ্বেগ প্রকাশ করে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিনিধি জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও গৃহীত সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক হওয়ায় বিতর্ক অঙ্গনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে মডারেটর ড. জুলফিকার আলীকে একাধিকবার কল করলেও পাওয়া যায় নি।
মতামত