শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধনের (২১) জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম,বিভিন্ন অনুষদের ডিন,দপ্তর ও বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
জানাজার আগে বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন,বাঁধনের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন বা পাওনা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানকে জানাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাঁধনের ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী জানান,বাঁধন গত ৪ অক্টোবর রাতে বিষপান করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। বাঁধনের স্থায়ী বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা এলাকায়।
বিভাগীয় প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিরোধের জেরে বাঁধন বিষপান করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে শাবিপ্রবির সাত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে,দুজন সড়ক দুর্ঘটনায়,একজন অসুস্থ হয়ে এবং একজন বিষপানে মারা গেছেন। একের পর এক শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে শোকাহত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
সর্বশেষ সোমবার (১২ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিসান হাসান।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রতন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের চৌকিদিখি এলাকার একটি সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ। সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গত ১৫ মে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে মারা যান পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত বণিক (২২)। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানির স্রোত ও গভীরতায় তলিয়ে যান তিনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের লালাখালে গোসল করতে নেমে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। তিনি সাঁতার জানতেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
একের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন,প্রতিটি ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হারানো শাবিপ্রবির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার,সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জানাজা শেষে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যরা বাঁধনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মতামত