মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের দামে বড় কারসাজি



গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের দামে বড় কারসাজি
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের দামে বড় কারসাজি

গাজীপুরের জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সরাসরি বড় বড় ডিলারশিপ নিজেদের নামে বরাদ্দ নিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী চক্র। অধিক মুনাফা ও বাজার একচেটিয়া করতে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার প্রভাবে জয়দেবপুরের মূল ডিলারশিপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হয়েছে। তার ইশারা ও সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হয়। কোম্পানি থেকে সরাসরি আনা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে উক্ত নেতার বিশ্বস্ত কয়েকজন উপ-নেতা ও ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন জোনের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে পুরো সরবরাহ চেইনটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ নেতার অধীনে থাকা কয়েকজন স্থানীয় নেতা গাজীপুরের বিভিন্ন স্পটে এই অবৈধ বাজারজাতকরণ তদারকি করেন।

জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, মাওনা, জাজর বাইপাস, কড্ডা এবং বোর্ডবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় ওই নেতার অনুসারী কয়েকজন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী সরাসরি স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। কোম্পানি থেকে আসা বড় লরি বা ট্রাকগুলো প্রথমে তাদের নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু গুদামে ডিপো নেওয়া হয়।

সরাসরি মূল ডিলারদের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্যাস কিনতে গেলে তাদের 'স্টক নেই' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই নেতার অধীনস্থ সাব-ডিলার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রতিটি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ২৭০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাঠ পর্যায়ের চুনোপুঁটিদের জরিমানা করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল রাজনৈতিক গডফাদার এবং ডিলারশিপের প্রকৃত সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ নেতারা এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের দামে বড় কারসাজি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সরাসরি বড় বড় ডিলারশিপ নিজেদের নামে বরাদ্দ নিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী চক্র। অধিক মুনাফা ও বাজার একচেটিয়া করতে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার প্রভাবে জয়দেবপুরের মূল ডিলারশিপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হয়েছে। তার ইশারা ও সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হয়। কোম্পানি থেকে সরাসরি আনা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে উক্ত নেতার বিশ্বস্ত কয়েকজন উপ-নেতা ও ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন জোনের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে পুরো সরবরাহ চেইনটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ নেতার অধীনে থাকা কয়েকজন স্থানীয় নেতা গাজীপুরের বিভিন্ন স্পটে এই অবৈধ বাজারজাতকরণ তদারকি করেন।

জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, মাওনা, জাজর বাইপাস, কড্ডা এবং বোর্ডবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় ওই নেতার অনুসারী কয়েকজন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী সরাসরি স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। কোম্পানি থেকে আসা বড় লরি বা ট্রাকগুলো প্রথমে তাদের নির্ধারিত নির্দিষ্ট কিছু গুদামে ডিপো নেওয়া হয়।

সরাসরি মূল ডিলারদের কাছ থেকে সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্যাস কিনতে গেলে তাদের 'স্টক নেই' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই নেতার অধীনস্থ সাব-ডিলার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রতিটি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ২৭০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাঠ পর্যায়ের চুনোপুঁটিদের জরিমানা করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল রাজনৈতিক গডফাদার এবং ডিলারশিপের প্রকৃত সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ নেতারা এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অবৈধ সিন্ডিকেটের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream