নওগাঁ জেলার বিলাঞ্চলের জন্য বিখ্যাত আত্রাই উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ২ হাজার ৫০০ টি তালবীজ রোপণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলার ৫ নম্বর বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী-থলওলমা সেতু থেকে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাছাকাছি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের পাশে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়। নওগাঁ জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্টের নিজস্ব অর্থায়নে এবং স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। তালবীজ সংগ্রহে সহযোগিতা করেন বৃক্ষপ্রেমীরা এবং নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলাল।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. হুমায়ুন কবীর, পিভিএম।তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বজ্রপাতের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোপণ করা ২ হাজার ৫০০ তালবীজের নিয়মিত তদারকি ও পরিচর্যার জন্য আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।তিনি তালবীজ সংগ্রহে সহযোগিতার জন্য নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলালকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিশা ইউনিয়নে পরিবেশের উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি আনসার-ভিডিপির এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সড়কের পাশে তালবীজ রোপণের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোপণ করা বীজগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় আত্রাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. খুশি খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তিনি রোপণ করা বীজগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোপণ করা তালবীজগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যা করে বড় করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মতামত