মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

গভীর রাতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, জিডি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি



গভীর রাতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, জিডি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি
গভীর রাতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, জিডি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নবদম্পতিকে গভীর রাতে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁদের থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান ও বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন গত ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশে নুসরাতকে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ১৪ জুলাই নুসরাতের মা, নানী ও খালা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এর সাত দিন পর, ২১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে থানায় নিয়ে যায়।

নবদম্পতির পরিবারের দাবি, তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে কী অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁদের গভীর রাতে থানায় নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁদের আগে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরবর্তী সময়ে নুসরাতের মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের আগে নবদম্পতিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, “সরাইল থানা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা সেই সহযোগিতা করেছি।”

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নবদম্পতিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ওই মামলায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা সরাইল থানার এসআই শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে জিডি কিংবা অভিযোগের কোনো কপি নেই এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

এদিকে, সরাইল থানার মুন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়া জানান, ২১ জুলাইয়ের রেকর্ড খাতায় কোনো জিডি বা অভিযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনায় সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তাদের এসব ভিন্ন বক্তব্যের কারণে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আগে কোনো জিডি বা লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের থানায় নেওয়ার সময় কী ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে

ঘটনাটি সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, “অভিযোগ বা কোনো কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারে অবশ্যই আইনগত কারণ থাকতে হবে।”

সচেতন মহলের দাবী, পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কী অভিযোগ বা আইনগত কারণ ছিল, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে তার উল্লেখ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার প্রকৃত কারণ, জিডি বা অভিযোগের অস্তিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই জরুরি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


গভীর রাতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, জিডি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নবদম্পতিকে গভীর রাতে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁদের থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান ও বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন গত ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশে নুসরাতকে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ১৪ জুলাই নুসরাতের মা, নানী ও খালা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এর সাত দিন পর, ২১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে থানায় নিয়ে যায়।

নবদম্পতির পরিবারের দাবি, তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে কী অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁদের গভীর রাতে থানায় নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁদের আগে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরবর্তী সময়ে নুসরাতের মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের আগে নবদম্পতিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, “সরাইল থানা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা সেই সহযোগিতা করেছি।”

অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নবদম্পতিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে ওই মামলায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা সরাইল থানার এসআই শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে জিডি কিংবা অভিযোগের কোনো কপি নেই এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

এদিকে, সরাইল থানার মুন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়া জানান, ২১ জুলাইয়ের রেকর্ড খাতায় কোনো জিডি বা অভিযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাঁদের দাবি, ওই ঘটনায় সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তাদের এসব ভিন্ন বক্তব্যের কারণে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আগে কোনো জিডি বা লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের থানায় নেওয়ার সময় কী ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে

ঘটনাটি সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, “অভিযোগ বা কোনো কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারে অবশ্যই আইনগত কারণ থাকতে হবে।”

সচেতন মহলের দাবী, পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কী অভিযোগ বা আইনগত কারণ ছিল, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে তার উল্লেখ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার প্রকৃত কারণ, জিডি বা অভিযোগের অস্তিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই জরুরি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream