বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সিলভিয়াকে নিয়ে কলকাতায় শাহরিয়ারের বিলাসী জীবন, টাকা আসছে যেভাবে


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিলভিয়াকে নিয়ে কলকাতায় শাহরিয়ারের বিলাসী জীবন, টাকা আসছে যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে রাজশাহী ছাড়েন। পরে ভারতের গেদে সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বর্তমানে শাহরিয়ার আলম ভারতের কলকাতার নিউটাউনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বসবাস করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সেখানে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের। দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে রাজশাহীর তিনটি থানায় চারটি মামলা হয়। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহরিয়ারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পদ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন তার বাবা মো. শামসুদ্দিন, ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল এবং কয়েকজন ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সহযোগী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজলসহ আরও কয়েকজন।

শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈমুল বাশার চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে সাঈদ বলেছেন, শাহরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির একজন শেয়ারহোল্ডার হলেও বর্তমানে তিনি দেশে নেই; অন্যরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এ ছাড়া ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেডেও শাহরিয়ারের বিনিয়োগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তার অনুপস্থিতিতে নাঈমুল বাশার চৌধুরী প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন শাহরিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার বাবা শামসুদ্দিন।

এ ছাড়া রাজশাহীর বাঘায় বরেন্দ্র এগ্রো ফার্মসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার গুলশানে শাহরিয়ারের নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালে বাঘার এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র মূল্যে নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই জমিতে বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়া বাঘা, চারঘাট, লালপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

শাহরিয়ারের বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও দাবিগুলো আরও সতর্কভাবে লিখুনশাহরিয়ারের অবস্থান নিয়ে তথ্য সাজান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


সিলভিয়াকে নিয়ে কলকাতায় শাহরিয়ারের বিলাসী জীবন, টাকা আসছে যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে রাজশাহী ছাড়েন। পরে ভারতের গেদে সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

বর্তমানে শাহরিয়ার আলম ভারতের কলকাতার নিউটাউনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বসবাস করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সেখানে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের। দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে রাজশাহীর তিনটি থানায় চারটি মামলা হয়। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহরিয়ারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পদ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন তার বাবা মো. শামসুদ্দিন, ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল এবং কয়েকজন ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সহযোগী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজলসহ আরও কয়েকজন।

শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈমুল বাশার চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে সাঈদ বলেছেন, শাহরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির একজন শেয়ারহোল্ডার হলেও বর্তমানে তিনি দেশে নেই; অন্যরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এ ছাড়া ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেডেও শাহরিয়ারের বিনিয়োগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তার অনুপস্থিতিতে নাঈমুল বাশার চৌধুরী প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন শাহরিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার বাবা শামসুদ্দিন।

এ ছাড়া রাজশাহীর বাঘায় বরেন্দ্র এগ্রো ফার্মসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার গুলশানে শাহরিয়ারের নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালে বাঘার এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র মূল্যে নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই জমিতে বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়া বাঘা, চারঘাট, লালপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

শাহরিয়ারের বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও দাবিগুলো আরও সতর্কভাবে লিখুনশাহরিয়ারের অবস্থান নিয়ে তথ্য সাজান


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream