মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সায়মা ওয়াজেদ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সায়মা ওয়াজেদ
ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সায়মা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং পারিবারিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা অস্ট্রেলিয়ার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে-তে তার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। ‘আই ওয়াজ রিডিউসড টু মাই ফ্যামিলি নেম অ্যান্ড ডিনাইড ডিউ প্রসেস বাই ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের লেখায় সায়মা দাবি করেন, তার পেশাগত পরিচয় ও অর্জনের চেয়ে পারিবারিক পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সায়মার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ওই সময়ের পর তাকে নিজের পেশাগত যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে শেখ হাসিনার মেয়ে হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন সায়মা। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চলছে বলে জানার পরও সংস্থাটির প্রধান নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারেননি।

বাংলাদেশে জমি বরাদ্দ এবং চীন সফর নিয়ে ৯০১ ডলারের ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত চাওয়ার অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। এসব অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সায়মা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

ডব্লিউএইচওতে দায়িত্ব, তদন্ত ও পদত্যাগ

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। সংস্থাটির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন ও নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনি এ পদে আসেন।

পরে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বাংলাদেশে জমি বরাদ্দসংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে তার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব বিষয়ে তদন্তের মধ্যে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায়ও ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ‘হোয়েন পলিটিকস ওভারটেকস ডিউ প্রসেস: মাই ইয়ার অব প্রফেশনাল এক্সাইল অ্যাট ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের ওই লেখায় সায়মা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটির নেতৃত্ব।

সর্বশেষ লেখায় আগের অভিযোগগুলো পুনরায় তুলে ধরার পাশাপাশি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সমালোচনাও করেন।

ডব্লিউএইচওর দায়িত্ব ছাড়লেও মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সায়মা।

নতুন এই লেখার মধ্য দিয়ে ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে তার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে আবারও সামনে এলো।

বিষয় : শেখ হাসিনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং পারিবারিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা অস্ট্রেলিয়ার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে-তে তার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। ‘আই ওয়াজ রিডিউসড টু মাই ফ্যামিলি নেম অ্যান্ড ডিনাইড ডিউ প্রসেস বাই ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের লেখায় সায়মা দাবি করেন, তার পেশাগত পরিচয় ও অর্জনের চেয়ে পারিবারিক পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সায়মার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ওই সময়ের পর তাকে নিজের পেশাগত যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে শেখ হাসিনার মেয়ে হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন সায়মা। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চলছে বলে জানার পরও সংস্থাটির প্রধান নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারেননি।

বাংলাদেশে জমি বরাদ্দ এবং চীন সফর নিয়ে ৯০১ ডলারের ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত চাওয়ার অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। এসব অভিযোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সায়মা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

ডব্লিউএইচওতে দায়িত্ব, তদন্ত ও পদত্যাগ

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। সংস্থাটির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন ও নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনি এ পদে আসেন।

পরে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বাংলাদেশে জমি বরাদ্দসংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে তার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব বিষয়ে তদন্তের মধ্যে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায়ও ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ‘হোয়েন পলিটিকস ওভারটেকস ডিউ প্রসেস: মাই ইয়ার অব প্রফেশনাল এক্সাইল অ্যাট ডব্লিউএইচও’ শিরোনামের ওই লেখায় সায়মা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটির নেতৃত্ব।

সর্বশেষ লেখায় আগের অভিযোগগুলো পুনরায় তুলে ধরার পাশাপাশি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সমালোচনাও করেন।

ডব্লিউএইচওর দায়িত্ব ছাড়লেও মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সায়মা।

নতুন এই লেখার মধ্য দিয়ে ডব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে তার অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে আবারও সামনে এলো।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream