একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান মনির (৪৮) মারা গেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন মিললেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল বা কারাগার থেকে বের হতে পারেননি।
মিজানুর রহমান খান মনির পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালী মিলিয়ে মোট আটটি মামলা ছিল। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রায় ১১ মাস তাকে কারাগারে রাখা হয়। তার স্ত্রী সালমা জাহানও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাবন্দী ছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
সালমা জাহান জানান, ৩০ জুলাই তার স্বামীর বিরুদ্ধে থাকা সর্বশেষ মামলায়ও জামিন মঞ্জুর হয়। এর আগে অন্য মামলাগুলোতেও তিনি জামিন পেয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, হাতকড়া পরা ছবি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে তা খুলে নেওয়া হলেও ততদিনে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মতামত