শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির সাবেক শিক্ষার্থী



টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ  বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির সাবেক শিক্ষার্থী
ড. খালিদ হোসাইন

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো স্থান পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খালিদ হোসাইন।

সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে তার অবস্থান পঞ্চম। এ ছাড়া সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণার ভিত্তিতেও তিনি তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসভিয়ার’ বিশ্বসেরা গবেষক তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও গবেষকও স্থান পেয়েছেন।

প্রকাশিত তালিকায় ড. খালিদ হোসাইনের নাম দুটি ক্যাটাগরিতেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ১০৫ জন গবেষকের মধ্যে তার অবস্থান ৫৫তম। অন্যদিকে, সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৩৪৭ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে তিনি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন।

জানা গেছে, স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা নিবন্ধের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ২০টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও ১৭৪টি উপক্ষেত্রে শ্রেণিবদ্ধ করে এ তালিকা তৈরি করা হয়। এতে গবেষকদের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, গবেষণার প্রভাব ও উদ্ধৃতির মতো সূচক বিবেচনা করা হয়। তালিকায় সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণা এবং সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের তথ্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

ড. মো. খালিদ হোসাইন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (বর্তমান ইইই বিভাগ) ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে জাপান সরকারের মনবুকাগাকুশো/এমইএক্স (Monbukagakusho/MEXT) বৃত্তি নিয়ে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাডভান্সড এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স থেকে নিউক্লিয়ার এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস বিষয়ে ২০২১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খালিদ জানান, গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এএসএম ইন্টারন্যাশনাল থেকে ‘মোস্ট পপুলার প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠানটি আগে আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটালস নামে পরিচিত ছিল। ড. খালিদ হোসাইন ১১টি বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের লেখক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তার ৩৫০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণা নিবন্ধগুলো এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে। তার এইচ-ইনডেক্স ৭৫।

ড. খালিদ হোসাইনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়ার এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস, সোলার সেল, ফুয়েল সেল, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস ও সিরামিকস। বিশেষ করে হাইড্রোজেন এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস, ইলেকট্রোকেমিক্যাল ডিভাইস, প্রোটন পরিবাহী অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন আইসোটোপের আচরণ নিয়ে গবেষণা করছেন বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. মো. খালিদ হোসাইন বলেন, “আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রাখা আমার দেশের প্রতি কর্তব্য। সে কারণেই ডিগ্রি শেষ করে জাপানে চাকরি বা অবস্থান না করে দেশে ফিরে আসি। আমি বিশ্বাস করি, আজ আমি আমার দেশকে কিছুটা হলেও প্রতিদান দিতে পেরেছি। আমি মনে করি, এটি আমার জন্য একটি বড় অর্জন।”


0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির সাবেক শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো স্থান পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খালিদ হোসাইন।

সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে তার অবস্থান পঞ্চম। এ ছাড়া সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণার ভিত্তিতেও তিনি তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসভিয়ার’ বিশ্বসেরা গবেষক তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক ও গবেষকও স্থান পেয়েছেন।

প্রকাশিত তালিকায় ড. খালিদ হোসাইনের নাম দুটি ক্যাটাগরিতেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ১০৫ জন গবেষকের মধ্যে তার অবস্থান ৫৫তম। অন্যদিকে, সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৩৪৭ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে তিনি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন।

জানা গেছে, স্কোপাস-ইনডেক্সড গবেষণা নিবন্ধের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ২০টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও ১৭৪টি উপক্ষেত্রে শ্রেণিবদ্ধ করে এ তালিকা তৈরি করা হয়। এতে গবেষকদের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, গবেষণার প্রভাব ও উদ্ধৃতির মতো সূচক বিবেচনা করা হয়। তালিকায় সমগ্র কর্মজীবনের গবেষণা এবং সর্বশেষ এক বছরের গবেষণাকর্মের তথ্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

ড. মো. খালিদ হোসাইন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (বর্তমান ইইই বিভাগ) ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে জাপান সরকারের মনবুকাগাকুশো/এমইএক্স (Monbukagakusho/MEXT) বৃত্তি নিয়ে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাডভান্সড এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স থেকে নিউক্লিয়ার এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস বিষয়ে ২০২১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খালিদ জানান, গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এএসএম ইন্টারন্যাশনাল থেকে ‘মোস্ট পপুলার প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠানটি আগে আমেরিকান সোসাইটি ফর মেটালস নামে পরিচিত ছিল। ড. খালিদ হোসাইন ১১টি বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের লেখক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তার ৩৫০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণা নিবন্ধগুলো এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি বার উদ্ধৃত হয়েছে। তার এইচ-ইনডেক্স ৭৫।

ড. খালিদ হোসাইনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়ার এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস, সোলার সেল, ফুয়েল সেল, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস ও সিরামিকস। বিশেষ করে হাইড্রোজেন এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস, ইলেকট্রোকেমিক্যাল ডিভাইস, প্রোটন পরিবাহী অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন আইসোটোপের আচরণ নিয়ে গবেষণা করছেন বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. মো. খালিদ হোসাইন বলেন, “আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রাখা আমার দেশের প্রতি কর্তব্য। সে কারণেই ডিগ্রি শেষ করে জাপানে চাকরি বা অবস্থান না করে দেশে ফিরে আসি। আমি বিশ্বাস করি, আজ আমি আমার দেশকে কিছুটা হলেও প্রতিদান দিতে পেরেছি। আমি মনে করি, এটি আমার জন্য একটি বড় অর্জন।”



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream