বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

চরভদ্রাসনে বিএনপি নেতার ওপর হামলা: ৪ লাখ টাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার আপস



চরভদ্রাসনে বিএনপি নেতার ওপর হামলা: ৪ লাখ টাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার আপস

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দলীয় সহকর্মীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় চার লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার খবর পাওয়া গেছে। আলোচিত এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান। হত্যাচেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ এভাবে অর্থের বিনিময়ে রফা হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।  

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিশাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান হত্যার উদ্দেশ্যে রিশাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন।

​হামলায় রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রিশাদকে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা তিন ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে থেকে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

​ঘটনার পর এ নিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠলেও সম্প্রতি বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে স্থানীয় কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলের প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় এক সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ/জরিমানা নির্ধারণ করে পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসা করে দেওয়া হয়।

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাচেষ্টার মতো জামিন-অযোগ্য এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

​এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন বর্বর হামলার পর কোনো ধরনের আইনি বিচার ছাড়া অর্থের জোরে পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষমতার দাপট ও অর্থের বিনিময়ে যদি এমন অপরাধের মীমাংসা হয়, তবে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


চরভদ্রাসনে বিএনপি নেতার ওপর হামলা: ৪ লাখ টাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার আপস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে দলীয় সহকর্মীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় চার লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার খবর পাওয়া গেছে। আলোচিত এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান। হত্যাচেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ এভাবে অর্থের বিনিময়ে রফা হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।  

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিশাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কে এম ওবায়দুল বারী দিপু খান হত্যার উদ্দেশ্যে রিশাদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন।

​হামলায় রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় রিশাদকে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা তিন ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে থেকে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

​ঘটনার পর এ নিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠলেও সম্প্রতি বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে স্থানীয় কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলের প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় এক সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ/জরিমানা নির্ধারণ করে পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসা করে দেওয়া হয়।

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাচেষ্টার মতো জামিন-অযোগ্য এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

​এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন বর্বর হামলার পর কোনো ধরনের আইনি বিচার ছাড়া অর্থের জোরে পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ক্ষমতার দাপট ও অর্থের বিনিময়ে যদি এমন অপরাধের মীমাংসা হয়, তবে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream