রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী সাজিদ শাহরিয়ার শানমকে (২৩) ৩ ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার শিলছড়ি সীতারঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ সাজিদ শাহরিয়ার শানম নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মাহমুদপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ৯ পর্যটকের একটি দল কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি এলাকার সীতার পাহাড় ও জুম পাহাড় ঘুরতে যান। ঘোরাঘুরি শেষে দুপুর ২টার দিকে তারা শিলছড়ি সীতারঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য যান।
এ সময় হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যান সাজিদ। মুহূর্তেই নদীর তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান।তার সঙ্গে থাকা অপর আট পর্যটক হলেন,শাকিব মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম, জুনায়েদ আহমেদ, আবদুল নূর তুষার, এনামুল সরকার, জুবায়ের হুসাইন, এমরান হোসেন ও নূর মোহাম্মদ শাকিল।ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পরবর্তীতে, নৌবাহিনীর ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজনের যৌথ সহায়তায় কর্ণফুলী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই নৌবাহিনীর একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, এলাকাবাসী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্র সমাজের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এ বিষয়ে শিলছড়ি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন এবং কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আহমেদ স্বপন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় পর্যটকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
মতামত