রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

সৈয়দপুরে নিম্ন মানের ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার



সৈয়দপুরে নিম্ন মানের ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার
সৈয়দপুরে নিম্ন মানের ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার সংষ্কার কাজ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা নির্বিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ঠিকাদার প্রকাশ্যেই সিডিউল বহির্ভূত উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। 

জানা যায়, সৈয়দপুর সেনানিবাসের পূর্ব পাশ ঘেষে যাওয়া সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের কদমতলী থেকে উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া পর্যন্ত সড়কটির সংষ্কার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, (জিআরআরআইআইপি) এর আওতায় এই কাজ চলছে। 

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর তত্বাবধানে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার রাস্তার সংষ্কার বাস্তবায়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'বাবর ট্রেডার্স এন্ড সন্স' কার্যাদেশ পেয়ে গত মাসের প্রথম থেকে কাজ শুরু করেছে। এখন খোয়া বিছানোর কাজ চলছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার পাশে যে ইটের খোয়া (গিট্টি) রাখা আছে, তা একেবারে মেটে বা ধুসর লাল রংয়ের। স্থানীয় ভাষায় গুড়িয়া নামে পরিচিত এই ইটগুলো মূলত: ৩ নম্বরের চেয়েও নিম্নমানের। যা একটু পানি দিয়ে ভেজালেই গাঢ় লাল হয়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী। আর কিছু খোয়া ঝামা (অতিরিক্ত পোড়া) ইটের। 

এসময় এলাকার আনোয়ার হোসেন নামে একজন বলেন, এই যে দেখছেন ইট। এগুলো দিয়ে কোনভাবেই রাস্তার কাজ করা যায়না। ভাটার ফেলে দেওয়া পোড়া মাটি মাত্র। সামান্য চাপেই ভেঙ্গে ধুলা হয়ে যায়। এই ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। এতো দূর্নীতি হলেও কর্তৃপক্ষ চুপ। তাদের সাথে সমঝোতা করেই ঠিকাদার এই হরিলুট করছে। নয়তো কেন তাদেরকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? 

সামসুল হক নামে স্থানীয় আরেকজন বলেন, জীবনেও এমন খারাপ ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার করা দেখিনি। অথচ এখন দেদারসে এতো দূর্নীতি চলছে। কেউ কিছু বলছেনা। মনে হচ্ছে সবাই মিলেই এই অনিয়ম করছেন। এভাবে কাজ হলেতো কয়েক মাসও টিকবেনা রাস্তাটা। তখন ভোগান্তি আরও বাড়বে। আর সরকারি বরাদ্দ লুটে আয়েশ করবে কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও নেতারা। এই কি উন্নয়ন? এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রতিকারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ঠিকাদার বাবর ট্রেডার্স এন্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী ফয়জুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ইটের মান নিয়ে অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা শতভাগ ভালো কাজ করছি। আর ইটের ভালো মন্দ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন প্রশ্ন না থাকলেও সাধারণ মানুষের এতো মাথাব্যথা কেন? আর আপনারাও (সাংবাদিক) না বুঝে তাদের কথায় অযথা দৌড়ান বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।  

এব্যাপারে সাইট অফিসার (এসও) সহকারী প্রকৌশলী শওকত কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, ইতোমধ্যে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়ে আমরা ওই সড়কের ইটের খোয়া সংগ্রহ করেছি। এগুলো ল্যাবে টেস্ট করে মান নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি কাজ করা হবে। তবে ইটের মান ভালো বলেই আমরা জানি। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই এই পরীক্ষা করা। 

সংশ্লিষ্ট একটা সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সাইট অফিসার (এসও) সহকারী প্রকৌশলী শওকত কবির এর তত্বাবধানে চলা সবগুলো প্রকল্পেই এমন অনিয়ম যেন নির্ধারিত ব্যাপার। তার দায়িত্বে চলা সব সড়ক সংষ্কার কাজেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। আর অজ্ঞাত কারণে তা জেনেও নির্বাহী প্রকৌশলী নিশ্চুপ থাকেন। সঠিকভাবে তদন্ত করলেই এর নিশ্চিত সত্যতা মিলবে। এজন্য বিষয়টা গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তের দাবি করেছে সূত্রটি। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে নিম্ন মানের ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার সংষ্কার কাজ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা নির্বিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ঠিকাদার প্রকাশ্যেই সিডিউল বহির্ভূত উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। 

জানা যায়, সৈয়দপুর সেনানিবাসের পূর্ব পাশ ঘেষে যাওয়া সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের কদমতলী থেকে উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া পর্যন্ত সড়কটির সংষ্কার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, (জিআরআরআইআইপি) এর আওতায় এই কাজ চলছে। 

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর তত্বাবধানে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার রাস্তার সংষ্কার বাস্তবায়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'বাবর ট্রেডার্স এন্ড সন্স' কার্যাদেশ পেয়ে গত মাসের প্রথম থেকে কাজ শুরু করেছে। এখন খোয়া বিছানোর কাজ চলছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার পাশে যে ইটের খোয়া (গিট্টি) রাখা আছে, তা একেবারে মেটে বা ধুসর লাল রংয়ের। স্থানীয় ভাষায় গুড়িয়া নামে পরিচিত এই ইটগুলো মূলত: ৩ নম্বরের চেয়েও নিম্নমানের। যা একটু পানি দিয়ে ভেজালেই গাঢ় লাল হয়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী। আর কিছু খোয়া ঝামা (অতিরিক্ত পোড়া) ইটের। 

এসময় এলাকার আনোয়ার হোসেন নামে একজন বলেন, এই যে দেখছেন ইট। এগুলো দিয়ে কোনভাবেই রাস্তার কাজ করা যায়না। ভাটার ফেলে দেওয়া পোড়া মাটি মাত্র। সামান্য চাপেই ভেঙ্গে ধুলা হয়ে যায়। এই ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। এতো দূর্নীতি হলেও কর্তৃপক্ষ চুপ। তাদের সাথে সমঝোতা করেই ঠিকাদার এই হরিলুট করছে। নয়তো কেন তাদেরকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? 

সামসুল হক নামে স্থানীয় আরেকজন বলেন, জীবনেও এমন খারাপ ইট দিয়ে রাস্তা সংষ্কার করা দেখিনি। অথচ এখন দেদারসে এতো দূর্নীতি চলছে। কেউ কিছু বলছেনা। মনে হচ্ছে সবাই মিলেই এই অনিয়ম করছেন। এভাবে কাজ হলেতো কয়েক মাসও টিকবেনা রাস্তাটা। তখন ভোগান্তি আরও বাড়বে। আর সরকারি বরাদ্দ লুটে আয়েশ করবে কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও নেতারা। এই কি উন্নয়ন? এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রতিকারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

ঠিকাদার বাবর ট্রেডার্স এন্ড সন্স এর স্বত্বাধিকারী ফয়জুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ইটের মান নিয়ে অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা শতভাগ ভালো কাজ করছি। আর ইটের ভালো মন্দ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন প্রশ্ন না থাকলেও সাধারণ মানুষের এতো মাথাব্যথা কেন? আর আপনারাও (সাংবাদিক) না বুঝে তাদের কথায় অযথা দৌড়ান বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।  

এব্যাপারে সাইট অফিসার (এসও) সহকারী প্রকৌশলী শওকত কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, ইতোমধ্যে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়ে আমরা ওই সড়কের ইটের খোয়া সংগ্রহ করেছি। এগুলো ল্যাবে টেস্ট করে মান নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি কাজ করা হবে। তবে ইটের মান ভালো বলেই আমরা জানি। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই এই পরীক্ষা করা। 

সংশ্লিষ্ট একটা সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সাইট অফিসার (এসও) সহকারী প্রকৌশলী শওকত কবির এর তত্বাবধানে চলা সবগুলো প্রকল্পেই এমন অনিয়ম যেন নির্ধারিত ব্যাপার। তার দায়িত্বে চলা সব সড়ক সংষ্কার কাজেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। আর অজ্ঞাত কারণে তা জেনেও নির্বাহী প্রকৌশলী নিশ্চুপ থাকেন। সঠিকভাবে তদন্ত করলেই এর নিশ্চিত সত্যতা মিলবে। এজন্য বিষয়টা গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তের দাবি করেছে সূত্রটি। 



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream