কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদটি দীর্ঘ ২০ দিন ধরে খালি পড়ে আছে। উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদে কর্মকর্তা না থাকায় ই-নামজারি (খারিজ), ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভূমি-সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও।
উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসিল্যান্ড না থাকায় অনলাইনে জমা পড়া নামজারির আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমি বেচাকেনা, ব্যাংকে বন্ধক দেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নামজারি করতে আসা সাধারণ মানুষ প্রতিদিন অফিসে এসে ঘুরে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, “এসিল্যান্ড স্যার না থাকায় গত ২০ দিন ধরে কোনো নামজারির কাজ এগোচ্ছে না। এতে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও প্রশাসনিকভাবে জটিলতার মধ্যে পড়েছি।”
উপজেলার চান্দলা ইউনিয়ন থেকে নামজারির কাজ করাতে আসা সেবাগ্রহীতা আব্দুল খালেক আক্ষেপ করে বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে অনলাইনে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। জমি নিয়ে জরুরি কাজ আটকে আছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ. বি. এম. মশিউজ্জামান বলেন, “ব্রাহ্মণপাড়া এসিল্যান্ড পদটি বর্তমানে খালি রয়েছে। নতুন কোনো কর্মকর্তা এ পদে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসিল্যান্ডের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নতুন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হলেই সেখানে দ্রুত নতুন কর্মকর্তা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পদটি শূন্য থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের ভূমিসংক্রান্ত সেবা পেতে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মতামত