আকস্মিক গ্যাস সংকট সামাল দিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে টার্মিনালটি স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই সঙ্গে মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।
আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতে যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে জন্য একদিকে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনালের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় কুতুবজোমে নতুন ভাসমান টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক জরিপ চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এতে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি–২০২৬’ প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মতামত