দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো, জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনায় বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের (বাকেশি) প্রাঙ্গণে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদ ও অন্যান্য স্থাপনা কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোগী হতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ খরচ কমবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের কর ছাড় এবং উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি দক্ষতাকে উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় প্রতিটি ছাদ ও স্থাপনাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জ্বালানি সাশ্রয়ী ও টেকসই করে গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাকেশির রুফটপ সোলার প্ল্যান্টের ফলে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং খুলনা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুয়াই জাহানাত।
১ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ টাকা। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্ল্যান্টটি চালুর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আর প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত