নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রেলপথ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ চত্বরে সকাল-সন্ধ্যা বসছে মাদকসেবী ও কারবারীদের আড্ডা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সংলগ্ন এলাকার সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং মাদকমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, স্কুলের দুইটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু অসাধু ও বখাটে ব্যক্তি বিদ্যালয় ভবন দুটির প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য গ্রহণ এবং আড্ডা দিয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা এতে বাধা দিলে মাদকসেবিরা মারমুখী হয়ে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নানাভাবে নেতিবাচক সামাজিক ও মানসিক প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের আশেপাশে বহিরাগত ও অসৎ ব্যক্তিদের যাতায়াত ও মাদকের আড্ডা বাড়ে। এতে শুধু শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীরাও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। আমরা দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ এবং কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম(রেজা) জানান, রেলপথ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিক। ওই এলাকায় অতি দ্রুত পুলিশের নৈশ ও বিশেষ টহল জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, মাদকসেবনকারী বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ যে কেউ আমাদের তথ্য দিলে সাথে সাথে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাদকের বিষয়ে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
মতামত