বাশার আল-আসাদের পতনের কয়েক মাস পর দামেস্কে সিরিয়ার কুখ্যাত সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হিসসাম লুকিয়ার পরিত্যক্ত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপার্টমেন্টটিতে পাওয়া গেছে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং আসাদের সঙ্গে লুকিয়ারের বিভিন্ন ছবি।
তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল একটি সাদামাটা নোটবুক। সাংবাদিকরা সেখানে হাতে লেখা ১৫৫টি নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে পেয়েছেন। ‘দ্য স্পাইডার’ নামে পরিচিত লুকিয়ার যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
আসাদের পতনের পর রাতারাতি উধাও হয়ে যান তিনি। সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
লুকিয়াকে খুঁজে বের করতে লন্ডনে ফিরে নোটবুকের নম্বরগুলো যাচাই শুরু করেন সাংবাদিকরা। সামরিক কমান্ডার ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে সাড়া না পেয়ে একজন রিপোর্টার সিরিয়ায় গিয়ে নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান মেলে।
মাহমুদ জানান, সরকার পতনের আগের রাতে রাজধানী থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন লুকিয়া। পরবর্তীতে লেবাননের সূত্র এবং অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার ও নববর্ষের কার্ডের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি ভিন্ন নামে রাশিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে গেছেন।
তদন্তকারীরা অবশেষে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে কল করে নিশ্চিত হন যে লাইনটিতে তিনিই কথা বলছেন। পরে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে কল করলে লুকিয়া ফোন ধরে ভয়ের সুরে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কথা বলার মতো ঝুঁকিতে নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে আরেকটি সিরিয়ান নম্বর ও মেসেজিং অ্যাপের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয় যে হিসসাম লুকিয়া এখন মস্কোর উপকণ্ঠে দুটি আলাদা উপশহরে লুকিয়ে আছেন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণ বা কোনো মন্তব্য না পাওয়ায়, হোমসের নিহত শিশু ওয়ায়েলের বাবা মোহাম্মদের মতো যারা ন্যায়বিচারের আশায় আছেন, তাদের জন্য এই খবর নতুন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
মতামত