শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ডিজেল ও সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়াল মস্কো

ডিজেল ও সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়াল মস্কো

দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিজেল ও সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে রাশিয়া। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।রাশিয়ার সরকার জানিয়েছে, সরাসরি জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ডিজেল ও সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে অনুমোদিত কিছু ক্ষেত্র ও উৎপাদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হবে।সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। শনিবার, ৩১ অক্টোবর মন্ত্রীপরিষদ নিশ্চিত করেছে যে এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি সামুদ্রিক জ্বালানি এবং গ্যাস অয়েলের ওপরও প্রযোজ্য হবে। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরাসরি উৎপাদকদের রাশিয়া থেকে ডিজেল, সামুদ্রিক জ্বালানি এবং গ্যাস অয়েল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহকারী নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুবিধা নিয়ে কাজ করছে, যা নভেম্বরের মধ্যেই কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রাশিয়ান জ্বালানির সরবরাহ ফিরিয়ে আনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় মস্কো। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ সম্পর্কিত একটি চুক্তির পর রাশিয়ান সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেয়।  নোভাক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নভেম্বরে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ বেড়ে ২১ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে, যা অক্টোবরে ছিল মাত্র ৫ লাখ ১০ হাজার টন। ফলে নির্ধারিত সরবরাহে একটি বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। তবে সর্বশেষ এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সরাসরি উৎপাদকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যদিও সরকার মনোনীত নির্দিষ্ট কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে। সূত্র: আল মায়াদিন

পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বললেন ইউরোপীয় প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য মহাদেশের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছে। এই অবস্থায় পেন্টাগন লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াকে বক্তব্য সংযত করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়াকে ‘উসকানি’ না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য সংযত করার জন্য ন্যাটোর কয়েকটি দেশকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের ও কর্মকর্তাদের কিছু বক্তব্য মহাদেশটির নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মধ্যে তিনজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও একজন মার্কিন কর্মকর্তা। তাঁদের ভাষ্য, যেসব দেশকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে এসব বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সরকারকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই অনুরোধ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। ওয়াশিংটনের সর্বশেষ উদ্যোগে রাশিয়াকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে, যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত আলোচনা ব্যক্তিগতই থাকে। তাই এসব অভিযোগ নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।’ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে আসা বক্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের এমন কিছু মন্তব্য, যেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়া এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযান কার্যত স্থবির হয়ে আসায় মস্কো ক্রমেই মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কর্মকর্তা এই বার্তা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি অন্যতম। ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতির মাত্রা পুনর্মূল্যায়নের চলমান প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। তবে এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন কোন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন, তা জানতে পারেনি রয়টার্স। সূত্রগুলোর কেউই বলেননি যে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে দেওয়া পরামর্শ কোনো বিরোধপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক অবস্থানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কীভাবে বক্তব্য দেওয়া উচিত, তা নিয়ে ন্যাটোর অভ্যন্তরে মতপার্থক্য রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক বার্তা সেই বিতর্ককেই সামনে এনেছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের একাংশের যুক্তি, রাশিয়ার হুমকিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরলে তা ক্রেমলিনের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। তাঁদের মতে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করাই রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ মনে করে, রাশিয়ার হুমকির বিষয়টি ইউরোপীয় সরকারগুলোর জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। কারণ, মস্কোকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগ স্বীকার ও সম্পদ ব্যয়ের বিষয়ে নিজ নিজ দেশের জনগণকে অবহিত রাখা জরুরি। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার গোপন নাশকতামূলক তৎপরতা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া এ ধরনের নাশকতামূলক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সম্প্রতি বাল্টিক অঞ্চলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে এলব্রিজ কলবি বলেছিলেন, রাশিয়াকে কোনোভাবেই ‘খোঁচানো’ বা উসকানি দেওয়া উচিত নয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় নেতাদের প্রকাশ্যে রাশিয়াকে ‘কোণঠাসা ইঁদুরের’ সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন কলবি। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সহায়ক নয়। তবে কলবি ঠিক কোন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ায় পুতিন ইউরোপে নাশকতামূলক তৎপরতার আশ্রয় নিচ্ছেন। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত বার্তাগুলো সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে আরেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আপনাদের সহায়তা করছি। আমেরিকানরা সেখানে আছে। শুধু বেশি উচ্চবাচ্য করবেন না। কোনো শোরগোল তৈরি করবেন না।’ সম্প্রতি আরেকটি পৃথক বৈঠকে পেন্টাগন এস্তোনিয়ার একটি প্রতিনিধিদলকে তাদের বক্তব্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পরিমিত’ থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন কি না, তা তিনি জানাননি।

পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বললেন ইউরোপীয় প্রধানমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আনতে ইরানের ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের গোপন নেটওয়ার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির জন্য পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরান হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে। তবে এত অস্ত্র ব্যবহারের পরও কীভাবে দেশটি নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত গড়ে তুলেছে, রয়টার্সের অনুসন্ধানে তার বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইরানের এই গোপন সরবরাহ নেটওয়ার্ক বেশ পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘বুনিয়াদ’ নামে পরিচিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে।২০১৬ সাল থেকেই জাহাজে পণ্য পরিবহন ও খালাসের বিলসহ বিভিন্ন নৌপরিবহণ সংক্রান্ত নথিতে এই নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এ নেটওয়ার্কের নম্বরযুক্ত কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে পশ্চিমা সরকারগুলো কখনো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেভাবে কাজ করে নেটওয়ার্কটি ইসরাইলি-আমেরিকান ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকসের সহযোগিতায় রয়টার্স প্রথমবারের মতো এ নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়। অনুসন্ধান অনুযায়ী, এটি তেহরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। নেটওয়ার্কের সংস্থাগুলোর নামের শুরুতে ইংরেজি ‘এমওডি’ অক্ষরগুলো রয়েছে। ফারসিতে এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ভিওডিজেএ’। এর পর পাঁচ বা ছয় অঙ্কের একটি সংখ্যা শব্দে লেখা থাকে। সব সংস্থার ঠিকানা ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তেহরানের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আয়াতুল্লাহ খোমেনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তবে করপোরেট নথিতে দেখা গেছে, এসব সংস্থার অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই সময় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও মুদ্রাব্যবস্থা চরম চাপে ছিল। সংস্থাগুলো বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী ও বিদেশি ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সম্মিলিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘ট্রাস্টি’ বলা হয়। অবৈধ তেল বিক্রির আয় ব্যবহার করে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত পুনরায় পূরণে সহায়তা করে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা চালানের ৯৭ শতাংশের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে ‘মুদ্রা স্থানান্তর ছাড়াই’। ফলে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর নজরে আসতে পারে, এমনভাবে সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়নি। এসব সংস্থার মাধ্যমে আমদানি করা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মধ্যে রয়েছে রকেটের জ্বালানি, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং ভারী লঞ্চার। চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যেভাবে সন্ধান মিলল ২৪০ অ্যানালিটিকসের অর্থনীতিবিদ নোয়াম বিনস্টক ২০২৫ সালের জুনে এ নেটওয়ার্কের ধরন শনাক্ত করেন। টেলিগ্রাম ও উইকিইরান ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়া ব্যাংক সেপাহর ফাঁস হওয়া নথি বিশ্লেষণের সময় তিনি বিষয়টি খুঁজে পান। ব্যাংকটি আইআরজিসির সদস্যদের বেতন-ভাতা পরিচালনা করে। নথিতে থাকা অর্থের পরিমাণ তাকে বিস্মিত করে। দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৩৬টি সংস্থার কাছে ১২০ কোটি ডলার ছিল। বাকি সংস্থাগুলোর কাছে ছিল আরও প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা। পরে তিনি জানতে পারেন, এসব সংস্থা তেল বিক্রির অর্থ পাচ্ছে এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম কিনছে। প্রতিটি সংস্থার জন্য রয়েছে ১১ অঙ্কের আলাদা পরিচিতি নম্বর। জাহাজের নথি, চালান ও ব্যাংক হিসাবেও একই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভুয়া কোম্পানির আড়ালে থাকলেও নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর রয়টার্স প্রায় ১৯ হাজার আমদানি নথির একটি অংশ জাহাজ চলাচলের কাগজপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, স্যাটেলাইট চিত্র এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। সবচেয়ে বড় ক্রেতা যে সংস্থা নেটওয়ার্কের একটি সংস্থা বিশেষভাবে নজরে এসেছে। এর নাম ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে সংস্থাটির আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। এর ফলে ইরানের শীর্ষ ১০ আমদানিকারকের মধ্যে জায়গা করে নেয় সংস্থাটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংস্থাটি ২৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল রকেটের জ্বালানি তৈরির উপাদান, বিস্ফোরক ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাটি চীন থেকে ৮৮৬ টন রাসায়নিক আমদানি করে। এর মধ্যে ছিল সোডিয়াম ক্লোরেট ও অন্যান্য পারক্লোরেট। এগুলো কঠিন জ্বালানিচালিত রকেটের জ্বালানি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। বন্দর আব্বাস দিয়ে এসব পণ্য ইরানে আনা হয়। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল দক্ষিণ ইরানের শহীদ রাজায়ি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ ছিল এসব চালানের একটি থেকে আসা সোডিয়াম পারক্লোরেট। বন্দরের কনটেইনারে থাকা রাসায়নিকটিতে আগুন ধরে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, রাসায়নিকগুলো সংরক্ষণ করেছিল সিনা পোর্ট অ্যান্ড মেরিন সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বুনিয়াদ মোস্তাজাফান। এটি কয়েকশ কোটি ডলারের একটি ফাউন্ডেশন, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই বিস্ফোরণে অন্তত ৭০ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হন। ট্রাক ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান এ সংস্থাটি ৪৩৫টি আইভেকো ট্রাকও আমদানি করেছে। সামরিক বাহিনী এসব ট্রাককে ছদ্মবেশী ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে ব্যবহার করে। এর আগে ২০২২ সালে একই ধরনের ছয়টি ট্রাক কেনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেগুলো সরবরাহ করা হয় সাহারা থান্ডার নামের একটি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমওডি ৩৪৬৪২৮ হাজার হাজার টয়োটা হাইলাক্স ও ল্যান্ড ক্রুজার পিকআপও আমদানি করেছে। আইআরজিসি এসব গাড়িতে ভারি মেশিনগান সংযুক্ত করে ব্যবহার করে। আইভেকো জানিয়েছে, ইরানে তাদের কোনো গাড়ি থাকলে তা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অন্যদিকে টয়োটা বলেছে, ইরানে তাদের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। যুদ্ধের মধ্যেও চলেছে আমদানি রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও ইরানে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগের কয়েক সপ্তাহে চীন থেকে ৯৩ টন টাইটানিয়াম আমদানি করে ইরান। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এ ধাতু ক্ষেপণাস্ত্রের বাইরের কাঠামো ও রকেটের ইঞ্জিনের আবরণ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া চীন থেকে ২৬৮ টন নাইট্রোসেলুলোজ এবং আরও ২৭৬ টন রাসায়নিক আমদানি করা হয়। এসব রাসায়নিকের মধ্যে পারক্লোরেট শ্রেণির উপাদানও রয়েছে, যা রকেটের জ্বালানি ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। মার্চে মাসিক আমদানির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে মে মাসে তা আবার বেড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। রাশিয়া থেকে ৭৬ লাখ ডলার মূল্যের ডেটোনেটর বা বিস্ফোরক সক্রিয় করার যন্ত্রও পাঁচটি চালানে ইরানে পৌঁছায়। এর সর্বশেষ চালানটি আসে জুনে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্যও ইরানে পৌঁছেছে। এসব পণ্যের সর্বশেষ চালানটি আসে জুনে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে অবরোধ স্থগিত করার কয়েক দিন পর। ইরান কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লেদ মেশিন ও ইলেকট্রন-বিম ফার্নেসের মতো নিখুঁত যন্ত্রপাতিও কিনেছে। এসব সরঞ্জাম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা অনুসন্ধানের তথ্য পর্যালোচনা করা বিশেষজ্ঞরা একে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বহর পুনর্গঠনে ‘শিল্পপর্যায়ের প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব উপকরণের বড় একটি অংশ দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ সামরিক কাজের পাশাপাশি বেসামরিক কাজেও এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব। রয়টার্সের অনুসন্ধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি সরকারের অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা, সামরিক ও অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য ইরানি সরকার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। তবে আমরা সব সময় তাদের চেয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে রয়েছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি এ ব্যবস্থাকে ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘লাইফলাইন’ এবং তাদের বাণিজ্যের ‘সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা করা মালেকি রয়টার্সকে বলেন, ‘এখানে আমরা যা দেখছি, তা হলো এই সংঘাতের সময় এবং তার বহু বছর আগে থেকেই ইরানি সরকারের সামরিক বাহিনীর লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা ‘অবগত নয়’। রয়টার্সকে ফ্যাক্সের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণভাবে চীনকে জড়ানোর চেষ্টা কিংবা চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টার আমরা দৃঢ় বিরোধিতা করি।’ ইরানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এ অনুসন্ধানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম আনতে ইরানের ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের গোপন নেটওয়ার্ক

রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাত নিয়ে আবারও অবস্থান বদলেছেন। তিনি বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো ও দেশে দাম নিয়ন্ত্রণের চাপে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কয়েক দিন পরই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার ট্রাম্প জানান, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এ ধরনের সমঝোতার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না। ফলে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারও জেলেনস্কি দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় তেল ও ডিজেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে জ্বালানির দাম কমাতে না পারলে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। কী এই ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত জানাননি তিনি। সোমবার ওয়ারশতে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কী শর্তে সমঝোতা হয়েছে, তা জানতে তারা অপেক্ষা করছেন। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা, এমনকি খারকিভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে সমঝোতা মানতে বাধ্য করলে এটি যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্সি মুরাভিয়েভ সমঝোতার আওতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি যদি শুধু তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা অসম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের তেল শোধনাগারের সক্ষমতা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের চাপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৯১ ডলারে নেমে আসে। তবে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় ডিজেল সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। পরিবহন, কৃষি ও পণ্য উৎপাদনে ডিজেল অপরিহার্য হওয়ায় এর দাম বাড়লে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে জি-৭ জোট জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্না স্ট্রিটার বলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সরবরাহ কমিয়ে পরিবহন, কৃষি ও ব্যবসার ব্যয় বাড়াচ্ছে। প্রকৃত যুদ্ধবিরতি সরবরাহ সুরক্ষিত করতে এবং দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে জেলেনস্কির অজ্ঞাতসারে ঘোষিত সমঝোতাকে এখনই বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়: কেন বদলাচ্ছেন ট্রাম্প ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর রুশ জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কয়েকবার বদলেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ওই বছরের মার্চে রুশ জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করে এবং জি-৭-এর সঙ্গে রুশ তেলের ওপর মূল্যসীমা আরোপে সমর্থন দেয়। লক্ষ্য ছিল, বিশ্ববাজারে সরবরাহ বজায় রেখেও মস্কোর আয় কমানো। ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। পরে রুশ জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পর চলতি বছরের মার্চে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়, যাতে ভারত সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে। পরে ট্যাংকারে তোলা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনার সুযোগও বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে; পরে আরও ১৫ লাখ টন দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা এবং দেশে জ্বালানির দাম কমানো- দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জনের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। মুরাভিয়েভের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের আলোচনা ট্রাম্পের ঘোষণার অনেক আগেই এগিয়ে থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। পুতিনেরও স্বার্থ রয়েছে রাশিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক লাভের বিষয় নয়। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করেছেন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা বজায় রেখে মস্কো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। ব্যবসা ও বিনিয়োগে প্রভাব রুশ ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও উৎপাদনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহসংকট অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব সীমিত হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থার পরিকল্পনা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর- রুশ জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কতটা কমানো যায় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সত্যিই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে কি না। সমঝোতা বাস্তবায়িত না হলে তার ঘোষণার কূটনৈতিক সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। সূত্র: আল-জাজিরা

রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চুক্তির বিস্তারিত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জানতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধে ট্রাম্পের কয়েক দিন ধরে চাপ প্রয়োগের পর এ ঘোষণা এলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনের এসব হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এছাড়া আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তার রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। উভয়পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না!’ এর আগে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি এমন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, মস্কোর সঙ্গে সমঝোতার কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে ইউক্রেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির দাবি, হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক ইউক্রেনীয় চাহিদা তালিকা (পিইউআরএল) ব্যবস্থার আওতায় অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন জেলেনস্কি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, বিস্তারিত জানেন না জেলেনস্কি

পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলাকে ইউক্রেনের ওপর অন্যতম ‘জঘন্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবারের এ হামলায় শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভের প্রিলুকি শহরে। সেখানে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেয়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার সকালে টেলিগ্রামে জানায়, প্রিলুকিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রাজধানী কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে রুশ বিমান হামলায় আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা চারে উন্নীত করেছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহভস্কি দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা ২৮ বলে জানিয়েছিলেন। যার মধ্যে প্রিলুকির হামলায় নিহত ২০ জন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় কিয়েভের প্রসিকিউটররা জানান, একটি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে কিয়েভের উপকণ্ঠে দুই জন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সারাদেশে হামলায় আহত হয়েছেন ১০০ জন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে হামলার সময় মিলে গেছে। রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিন নিজেকে যে জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন, তা হলো শিশু ও মানুষ হত্যা’। এর আগে অনলাইনে দেওয়া মন্তব্যে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ব্যাপক এই হামলায় রাজধানী কিয়েভ এবং মধ্যাঞ্চলের ওলেক্সান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুক শহরেও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, রাতভর ইউক্রেনে মোট ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এ ছাড়া ছোড়া হয়েছে কয়েক ডজন শাহেদ হামলাকারী ড্রোন। জেলেনস্কি বলেন, রুশরা বেদনাদায়ক ও প্রদর্শনমূলকভাবে আঘাত হানতে চেয়েছিল। এটি ছিল অন্যতম এক জঘন্য হামলা।

পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো

কিয়েভকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করতে সেতুতে রাশিয়ার হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, রাজধানীকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো—এমনটাই দাবি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইউকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো বলেছেন, গতকাল শনিবার সকালে পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে হামলা চালিয়ে মস্কো ‘কিয়েভকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।’ এ হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পিভদেনি (সাউদার্ন) সেতুতে পাঁচবার হামলা চালানো হয়। রাশিয়া জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে ইউক্রেনের বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেনবিরোধী অভিযানে এটি নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শীত আসার আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। ইউক্রেনের অন্যান্য অনেক এলাকার মতো কিয়েভও দিনিপ্রো নদীর দুই পাশে বিস্তৃত। শহরের অধিকাংশ মানুষ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পূর্ব অংশ থেকে কাজের জন্য পশ্চিম অংশে যাতায়াত করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোবল ভেঙে যায়। সম্মুখযুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এ কৌশল নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করা হয় বলেই তাদের ড্রোন দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে। রুশ হামলায় দিনিপ্রো নদীর ওপর দিয়ে চলাচলকারী সড়ক, রেলপথ ও ট্রলিবাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে কার্যত কিয়েভ শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সেতুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলে কিয়েভের দুই পাশের যোগাযোগ চালু রাখতে ফেরি ব্যবহার কিংবা ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনগুলোকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করার উপায় ইউক্রেনের হাতে নেই। যুদ্ধ শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পর এসব ড্রোনের ব্যবহার দেশটির বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিয়েভে কোনো কোনো বিমান হামলার সতর্কতা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জারি থাকছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজধানীর বাসিন্দারা রসিকতা করে বলছেন, হামলার আতঙ্ক থেকে বাঁচতে তাঁরা খারকিভে ছুটি কাটাতে যেতে চান। শহরটি সম্মুখযুদ্ধের রেখা থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘রুশরা আমাদের দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন তারা ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের সেতু ধ্বংস করতে চায়...আমাদের ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। তারা চায় মানুষ যেন নিজেদের শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য পাঁচ ধরনের পরীক্ষামূলক অস্ত্রের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব ড্রোন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ মাইল গতিতে চলতে পারে। এত দ্রুতগতির ড্রোনকে প্রপেলারচালিত প্রতিরোধী ড্রোন দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হয় না। জেলেনস্কির ভাষ্য, বর্তমানে কিয়েভ রাশিয়ার জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোনের ৫৭ শতাংশ ধ্বংস করতে পারছে। তুলনামূলকভাবে পুরোনো ধরনের ড্রোনের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে কিয়েভে যান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার জানিয়েছে, শান্তি আলোচনা এখন কয়েক শ কোটি ডলারের একটি তেল চুক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ চুক্তি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী লাভবান হতে পারেন, যাঁদের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের সম্পর্ক রয়েছে। তবে দূত দুজন নিজেরা এই চুক্তি থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন চুক্তিটির প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের কাছে তিনি সম্ভবত এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানির মালিকানাধীন তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পেট্রলপাম্প কিনে নেওয়া হলে ক্রেমলিনের সঙ্গে আস্থা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব সম্পদকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে এবং জ্বালানির দাম কমতে পারে। মার্কিন ধনকুবের টড বোহলি এ চুক্তির প্রধান সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি ট্রাম্পের একজন সমর্থক এবং আগে চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক ছিলেন। এ ছাড়া কাতারভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীও চুক্তিতে বড় অংশীদার হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গোষ্ঠীটি নিয়ন্ত্রণ করেন মুতাজ আল-খাইয়াত ও তাঁর ভাই রামেজ আল-খাইয়াত। গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁদের দুজনকেই দেখা গিয়েছিল। উইটকফের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘তিনি কোনো বেতন নেন না। নিজের বিমানে, নিজের খরচে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জিম্মিদের তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে তাঁর কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই এবং আর্থিক কোনো অংশীদারত্বও নেই।’

কিয়েভকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন করতে সেতুতে রাশিয়ার হামলা

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে আমার মূল সমস্যা হলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ ডিজেল আসে রাশিয়া থেকে, আর সেই রাশিয়ার প্ল্যান্টগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ডিজেল প্ল্যান্ট ও শোধনাগারগুলোতে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’ রাশিয়া থেকে ডিজেল বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

রুশ হামলার ধ্বংসস্তূপে অক্ষত এক টুকরো স্মৃতি

ইউক্রেনের টেনিস তারকা দায়ানা ইয়াস্ত্রেমস্কার ফ্লাট ধ্বংস হয়ে গেছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। হামলার পর শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেনের বিখ্যাত ‘রোলাঁ গারোঁ’ তোয়ালে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া ভবনের ছবি প্রকাশ করে ২৬ বছর বয়সী ইয়াস্ত্রেমস্কা লেখেন, ‘রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের ওডেসার অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতীকী ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্ব টেনিসের একটি অংশ রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেও টিকে গেছে। আমাদের বাড়ি টেকেনি।’ আরেকটি ছবিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঝুলতে দেখা যায় রোলাঁ গারোঁর স্বাক্ষর আছে এমন কমলা রঙের একটি তোয়ালে। ইয়াস্ত্রেমস্কা লেখেন, ‘এটাই ‘‘রুশ বিশ্বের’’ চেহারা। কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত। একমাত্র যে জিনিসটি টিকে আছে, সেটি হলো একটি রোলাঁ গারোঁ তোয়ালে।’ হামলার এসব ছবি টেনিস বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইয়াস্ত্রেমস্কা লিখেছেন, ‘এই ছবিগুলো আমাদের চোখ দিয়ে দেখুন।’ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওডেসা ও আশপাশের চর্নোমর্স্ক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপারের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রুশ হামলার ধ্বংসস্তূপে অক্ষত এক টুকরো স্মৃতি

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র ভারত সফর শেষে সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন। রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়। পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন।  বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ‘ডুমসডে প্লেনে’ ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

প্রথম সড়ক সেতু  রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে । রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতুটি পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য ‘মূলত একটি গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশুস্তিন বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরের মে মাসে বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির কারণে সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। সেতুটির মাধ্যমে বিপরীত দিক থেকে রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় প্রবাহের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে অনুমতি পাওয়ার পর থেকে সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটি এখনো প্রবেশের সুযোগ সীমিত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভিক্টর চা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণের প্রতিফলন।’ ভিক্টর চা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের কারণেই মূলত এ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় যোগাযোগগুলোর একটি।’

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূতের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সামনে শীতের সময়েও গড়াতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ওই বৈঠক শেষে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনে সফর করলেন। এর আগের দিন তারা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছিলেন। উইটকফ বলেছেন, কিয়েভে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি ‘আশাব্যঞ্জক’ মনে করছেন এবং বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চান, যাতে রাশিয়ার জন্য ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ না থাকে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগিরই আবার বৈঠক করবেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান। উইটকফ বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এখানে একটি ভালো সমাধান আসবে।’ তিনি আরো বলেন, মস্কোতে তাদের আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’। মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুশনার বলেন, মার্কিন দল এমন অনেক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ‘এখন পর্যন্ত কাজ করেনি’। এরপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে ‘খুব ভালো সংলাপ’ হয়েছে। পুতিন অনেক প্রশ্ন করেছেন এবং তারাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে তারা পুতিনের সাথে দেখা করেছিলেন, কারণ ‘তার অবস্থান কী, সেটা আমাদের জানতে হতো’। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি মনে করেন, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন মার্কিন-নির্মিত প্যাট্টিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক মজুত ব্যবহার করেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর উৎপাদন বাড়াবে এবং ইউক্রেন সেটির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন দূতরা বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভ যান। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিমানের অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কিয়েভে নামানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সময় তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিলেন পুতিন ও জেলেনস্কি। জেলেনস্কি কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান। ওই এলাকায় শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত করেছিল। এদিকে রাতভর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানায়, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি এবং দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরো সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তা রুদ্ধদ্বার ছিল বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য ‘পারস্পরিক লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উশাকভ বলেন, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান করা প্রয়োজন বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের শহরগুলো বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে গেলেও যুদ্ধের বেশিভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর ছিল এবং এতে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে- যার বেশিভাগই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর পর এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধি

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। তাঁদের বহনকারী বিমান শনিবার (৫ আগস্ট) মস্কোয় অবতরণ করে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র। সূত্রগুলোর মতে, বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে উইটকফ, কুশনার ও দিমিত্রিয়েভকে বহনকারী গাড়িবহর সরকারি বিমানবন্দর থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়। দিমিত্রিয়েভ এর আগেও পুতিন ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সব বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি চলতি বছর রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনাতেও ভূমিকা রেখেছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি নতুন ও নির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও শুক্রবার বলেন, মস্কো সফর শেষে রোববার উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেন সফর করবেন। তবে সাড়ে চার বছরের এই যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শুক্রবার ক্রেমলিন পুনর্ব্যক্ত করে, ২০২৪ সালে পুতিন যে শর্ত দিয়েছিলেন তা এখনো বহাল আছে। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে ইউক্রেন এসব শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ শান্তি আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। সমুদ্রপথেও সংঘাত বেড়েছে। স্থলযুদ্ধে ফ্রন্টলাইন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও রাশিয়া ধীরে ধীরে দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে প্রায় ৩০টি হামলা ভোক্তা অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও আঘাত হানে। এটি টানা দশম দিনের মতো রাজধানীতে ভারী হামলার ঘটনা। জেলেনস্কি এ হামলার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধি

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সদর দফতরে রুশ ড্রোন হামলা

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দফতরে রাশিয়া ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় নয়জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল এসবিইউ প্রধানের ব্যক্তিগত কার্যালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রথমবারের মতো কিয়েভ সফরের দুই দিন আগে দিনের বেলায় এই হামলা চালানো হলো। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলার পর জেলেনস্কি এসবিইউকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব’ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা এই হামলাকে ‘বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলার সময় এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদ ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন না। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে জানান, কিয়েভের ভলোদিমিরস্কা সড়কে অবস্থিত এসবিইউর কেন্দ্রীয় ভবনে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে। ভবনটি সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। তিনি বলেন, ড্রোনটি সরাসরি ওই ভবনে থাকা এসবিইউ প্রধানের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদায় প্রকাশিত একটি ছবিতে এসবিইউ ভবনের সামনের কমপক্ষে দু’টি জানালা দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ভবনের সামনে একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়িও দেখা গেছে। এএফপির এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পেয়েছেন। জেলেনস্কি জানান, হামলার পর তিনি এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান পোকলাদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি তাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটি কার্যকর জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা সম্ভব হলে হামলার ধরন ও মাত্রার দিক থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মতো হবে। এসবিইউ হলো ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের ওপর দিনের বেলাতেও রাশিয়ার হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় কখনো কখনো জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা তুলনামূলক কঠিন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ সাড়ে চার বছর ধরে চলছে। এ যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ও কয়েক লাখ সেনা নিহত হয়েছেন। সূত্র : বাসস

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সদর দফতরে রুশ ড্রোন হামলা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream