সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

রুশ তেল স্থাপনায় হামলা নিয়ে জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে আমার মূল সমস্যা হলো বিশ্ববাজারের সিংহভাগ ডিজেল আসে রাশিয়া থেকে, আর সেই রাশিয়ার প্ল্যান্টগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ডিজেল প্ল্যান্ট ও শোধনাগারগুলোতে হামলা না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’ রাশিয়া থেকে ডিজেল বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রুশ হামলার ধ্বংসস্তূপে অক্ষত এক টুকরো স্মৃতি

ইউক্রেনের টেনিস তারকা দায়ানা ইয়াস্ত্রেমস্কার ফ্লাট ধ্বংস হয়ে গেছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। হামলার পর শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেনের বিখ্যাত ‘রোলাঁ গারোঁ’ তোয়ালে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া ভবনের ছবি প্রকাশ করে ২৬ বছর বয়সী ইয়াস্ত্রেমস্কা লেখেন, ‘রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের ওডেসার অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতীকী ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্ব টেনিসের একটি অংশ রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেও টিকে গেছে। আমাদের বাড়ি টেকেনি।’ আরেকটি ছবিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঝুলতে দেখা যায় রোলাঁ গারোঁর স্বাক্ষর আছে এমন কমলা রঙের একটি তোয়ালে। ইয়াস্ত্রেমস্কা লেখেন, ‘এটাই ‘‘রুশ বিশ্বের’’ চেহারা। কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত। একমাত্র যে জিনিসটি টিকে আছে, সেটি হলো একটি রোলাঁ গারোঁ তোয়ালে।’ হামলার এসব ছবি টেনিস বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইয়াস্ত্রেমস্কা লিখেছেন, ‘এই ছবিগুলো আমাদের চোখ দিয়ে দেখুন।’ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওডেসা ও আশপাশের চর্নোমর্স্ক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপারের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রুশ হামলার ধ্বংসস্তূপে অক্ষত এক টুকরো স্মৃতি

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র ভারত সফর শেষে সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন। রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হয়। পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন।  বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ‘ডুমসডে প্লেনে’ ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ‘ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

পুতিনের বর্জ্য নিয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

প্রথম সড়ক সেতু  রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে । রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতুটি পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য ‘মূলত একটি গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশুস্তিন বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরের মে মাসে বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির কারণে সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। সেতুটির মাধ্যমে বিপরীত দিক থেকে রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় প্রবাহের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে অনুমতি পাওয়ার পর থেকে সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটি এখনো প্রবেশের সুযোগ সীমিত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভিক্টর চা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণের প্রতিফলন।’ ভিক্টর চা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের কারণেই মূলত এ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় যোগাযোগগুলোর একটি।’

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূতের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সামনে শীতের সময়েও গড়াতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ওই বৈঠক শেষে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনে সফর করলেন। এর আগের দিন তারা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছিলেন। উইটকফ বলেছেন, কিয়েভে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি ‘আশাব্যঞ্জক’ মনে করছেন এবং বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চান, যাতে রাশিয়ার জন্য ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ না থাকে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগিরই আবার বৈঠক করবেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান। উইটকফ বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এখানে একটি ভালো সমাধান আসবে।’ তিনি আরো বলেন, মস্কোতে তাদের আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’। মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুশনার বলেন, মার্কিন দল এমন অনেক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ‘এখন পর্যন্ত কাজ করেনি’। এরপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে ‘খুব ভালো সংলাপ’ হয়েছে। পুতিন অনেক প্রশ্ন করেছেন এবং তারাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে তারা পুতিনের সাথে দেখা করেছিলেন, কারণ ‘তার অবস্থান কী, সেটা আমাদের জানতে হতো’। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি মনে করেন, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন মার্কিন-নির্মিত প্যাট্টিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক মজুত ব্যবহার করেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর উৎপাদন বাড়াবে এবং ইউক্রেন সেটির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন দূতরা বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভ যান। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিমানের অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কিয়েভে নামানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সময় তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিলেন পুতিন ও জেলেনস্কি। জেলেনস্কি কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান। ওই এলাকায় শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত করেছিল। এদিকে রাতভর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানায়, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি এবং দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরো সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তা রুদ্ধদ্বার ছিল বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য ‘পারস্পরিক লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উশাকভ বলেন, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান করা প্রয়োজন বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের শহরগুলো বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে গেলেও যুদ্ধের বেশিভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর ছিল এবং এতে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে- যার বেশিভাগই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর পর এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধি

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় পৌঁছেছেন। তাঁদের বহনকারী বিমান শনিবার (৫ আগস্ট) মস্কোয় অবতরণ করে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র। সূত্রগুলোর মতে, বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে উইটকফ, কুশনার ও দিমিত্রিয়েভকে বহনকারী গাড়িবহর সরকারি বিমানবন্দর থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়। দিমিত্রিয়েভ এর আগেও পুতিন ও মার্কিন প্রতিনিধিদের সব বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি চলতি বছর রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনাতেও ভূমিকা রেখেছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি নতুন ও নির্দিষ্ট শান্তি প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও শুক্রবার বলেন, মস্কো সফর শেষে রোববার উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেন সফর করবেন। তবে সাড়ে চার বছরের এই যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শুক্রবার ক্রেমলিন পুনর্ব্যক্ত করে, ২০২৪ সালে পুতিন যে শর্ত দিয়েছিলেন তা এখনো বহাল আছে। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে ইউক্রেন এসব শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ শান্তি আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। সমুদ্রপথেও সংঘাত বেড়েছে। স্থলযুদ্ধে ফ্রন্টলাইন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও রাশিয়া ধীরে ধীরে দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে প্রায় ৩০টি হামলা ভোক্তা অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও আঘাত হানে। এটি টানা দশম দিনের মতো রাজধানীতে ভারী হামলার ঘটনা। জেলেনস্কি এ হামলার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধি

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সদর দফতরে রুশ ড্রোন হামলা

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দফতরে রাশিয়া ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় নয়জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল এসবিইউ প্রধানের ব্যক্তিগত কার্যালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রথমবারের মতো কিয়েভ সফরের দুই দিন আগে দিনের বেলায় এই হামলা চালানো হলো। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। হামলার পর জেলেনস্কি এসবিইউকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব’ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা এই হামলাকে ‘বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলার সময় এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদ ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন না। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে জানান, কিয়েভের ভলোদিমিরস্কা সড়কে অবস্থিত এসবিইউর কেন্দ্রীয় ভবনে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে। ভবনটি সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। তিনি বলেন, ড্রোনটি সরাসরি ওই ভবনে থাকা এসবিইউ প্রধানের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদায় প্রকাশিত একটি ছবিতে এসবিইউ ভবনের সামনের কমপক্ষে দু’টি জানালা দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ভবনের সামনে একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়িও দেখা গেছে। এএফপির এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পেয়েছেন। জেলেনস্কি জানান, হামলার পর তিনি এসবিইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান পোকলাদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি তাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটি কার্যকর জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা সম্ভব হলে হামলার ধরন ও মাত্রার দিক থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মতো হবে। এসবিইউ হলো ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের ওপর দিনের বেলাতেও রাশিয়ার হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় কখনো কখনো জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা তুলনামূলক কঠিন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ সাড়ে চার বছর ধরে চলছে। এ যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে পরিণত হয়েছে। এতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ও কয়েক লাখ সেনা নিহত হয়েছেন। সূত্র : বাসস

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সদর দফতরে রুশ ড্রোন হামলা

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ গোয়েন্দারা: পিইটি

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে  সরাসরি নাশকতামূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা বলে জানিয়েছে দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা (পিইটি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। পিইটির কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান এমিল গ্রেসহোম ড্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর এবং বার্লিংস্কেকে জানান, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া ডেনমার্কের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া সুনির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই ধরণের হামলার বাস্তব পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ ড্যানিশ নাগরিকদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। ছবি তোলা বা তথ্য সংগ্রহের কাজ দিয়ে পরে সেই তথ্য নাশকতার পরিকল্পনায় ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিইটি ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছে। কনফেডারেশন অব ড্যানিশ ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা প্রধান রাসমুস অ্যান্ডারস্কাউ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফ্লেমিং স্প্লিডসবোয়েল এই হুমকিকে একদম নতুন ও উন্নত মাত্রার বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জ্যাকব কার্সবো জানান, ড্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই আগাম সতর্কবার্তা রাশিয়ার কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ গোয়েন্দারা: পিইটি

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় আজ মঙ্গলবার ৯ জন নিহত এবং প্রায় ডজন খানেকের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভে রুশ হামলার এটি টানা ষষ্ঠ দিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ মহাদেশে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে সমাধান খুঁজতে যখন প্রচেষ্টা চলছে, তখন ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশেই হামলা অব্যাহত রয়েছে। মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জানিয়েছে, কিয়েভে আটজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। কিয়েভ অঞ্চলের বরিসপিল শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এক আবাসিক ভবন এবং একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো। কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার প্রতিদিনের হামলায় লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাশিয়া ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও সরবরাহ-লজিস্টিক অবকাঠামোতেও হামলা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে চালানো এক হামলার কারণে দানিউব নদীর তীরে রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ওরলিভকা সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। অন্যদিকে রাশিয়াতেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনে এক ড্রোন হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায়। একই সময়ে মস্কোতে ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছিল। মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সামারা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে। সেখানে একটি বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনগুলো রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল সোমবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ‘বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য দুই পক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন, মানবতার স্বার্থে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। এর জবাবে ক্রেমলিনের নেতা বলেন, মস্কো ‘এই পথে এগিয়ে যাচ্ছে’। এই সংঘাত ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশকে, বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা বাড়তে থাকার পর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশসীমা নজরদারি মিশনের অংশ হিসেবে লাটভিয়ায় অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান সক্রিয় করা হয়। একই সময়ে ফিনল্যান্ড রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় বিমান ও সামুদ্রিক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছে। এ সময় রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ড্রোন উড়ছিল। উস্ত-লুগা বন্দর এই লেনিনগ্রাদ অঞ্চলেই অবস্থিত। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাহকনা মঙ্গলবার দেশটির আকাশপথে হামলার হুমকির সতর্কতাও জারি করেছিলেন। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ন্যাটো ‘দ্রুত এবং ঠিক যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেভাবেই’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছে।

কিয়েভে রাশিয়ার টানা ষষ্ঠ দিনের হামলা, নিহত ৯

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির দিনে তাঁর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ৩৫ টির বেশি দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ইউক্রেনকে নিজ দেশে ব্রিটিশ ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হবে। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমবিডিএকে ফরাসি ‘স্ক্যাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্য-সংশ্লিষ্ট উপাদান সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। স্ক্যাল্প মূলত স্টর্ম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের এবং ৫ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ মাইল বা ২৪১ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত স্থির লক্ষ্যবস্তুতে দিন বা রাত—সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সক্ষমতার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কম। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদের উন্নত অস্ত্রপ্রযুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ইউক্রেনীয় জনগণকে সরাসরি আশ্বস্ত করতে চান, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন। ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশায় রয়েছে। দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অন্যতম জরুরি প্রয়োজন। বার্নহ্যাম ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে প্রথম বৈঠক হয়েছিল। কিয়েভ সফরে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

রাশিয়া-ইউক্রেনের হামলায় নিহত ১৩

শনিবার পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১৩ নিহত হয়েছে। এদিকে রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় ফ্রান্স ইউক্রেনকে নতুন করে মিসাইল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইউক্রেনে সাতজন, রাশিয়ায় চারজন এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় দুজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।  বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা গত সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে রুশ হামলায় মস্কোর আগ্রাসন শুরুর কয়েক মাস পরের তুলনায় এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরে উদ্ধারকর্মীরা সর্বশেষ প্রাণঘাতী হামলার সময় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ক্রিভি রিগ একটি আংশিক ধসে পড়া শপিং সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এর একদিন আগে রুশ ড্রোন হামলায় সেখানে ১৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়। সোমবার বৈঠকে বসবে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর সদস্য ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো। মস্কোর ওপর রাশিয়াকে আগ্রাসন বন্ধে বাধ্য করতে কিভাবে আরো চাপ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কয়েক দফা আলোচনা হলেও কূটনৈতিক তৎপরতা এখন থমকে আছে। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সেদিকে চলে গেছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সহজেই এই সংঘাতের সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আগে দাবি করেছিলেন, বাস্তবে তা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও হতাশ হয়েছে। নতুন মিসাইল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনকে তার আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনে, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে, ব্যাপকভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। অত্যন্ত দ্রুতগতির এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা কঠিন। লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এগুলোর মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। ফলে কিয়েভের বাসিন্দাদের পক্ষে সময়মতো ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শনিবার রাশিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের একটি বাড়িতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত এবং তাদের বাবা-মা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ। তিনি বলেন, সকালে ইয়েস্ক জেলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দুই শিশু নিহত এবং দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে শনিবার দুপুরে কিয়েভের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া। ওই সময় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের জন্য জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে ছিলেন। শহরের পূর্ব প্রান্তের বোরিসপিল এলাকায় ওই হামলায় দুজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভের কাছে দূরপাল্লার ড্রোন পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক এবং কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপের জানিয়েছেন, একটি বাড়ি ও শস্য সংরক্ষণাগারে দীর্ঘস্থায়ী ও সমন্বিত হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উন্নত মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্রব্যবস্থা রাশিয়ার নিক্ষেপ করা উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অনেকগুলো ঠেকাতে সক্ষম নয়। জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিগে শুক্রবার বিকেলে একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারে রুশ ড্রোন হামলার পর এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। এ হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। হামলায় শপিং সেন্টারে আগুন ধরে যায়। রক্তাক্ত আহত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে দ্বিতীয় একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ‘দ্বৈত হামলাকে’ ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার শপিং সেন্টারের বাইরে ঘাসের ওপর ফুল ও চিঠি রেখে একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরি করেন। এএফপির এক সাংবাদিক জানান, তিনি সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও আগুনে পোড়া ধাতব কাঠামোর স্তূপ দেখতে পেয়েছেন। আগুনে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া পণ্যভর্তি সুপারমার্কেটের তাকগুলো ধসে পড়া ছাদ ও ভেঙে যাওয়া জানালার নিচে পড়ে ছিল। সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ এসব হামলা সংঘাতকে আরো তীব্র করে তুলেছে। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সূত্র : বাসস

রাশিয়া-ইউক্রেনের হামলায় নিহত ১৩

সিরিয়ার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ফ্ল্যাটে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাশার আল-আসাদের পতনের কয়েক মাস পর দামেস্কে সিরিয়ার কুখ্যাত সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান হিসসাম লুকিয়ার পরিত্যক্ত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যাপার্টমেন্টটিতে পাওয়া গেছে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং আসাদের সঙ্গে লুকিয়ারের বিভিন্ন ছবি।তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল একটি সাদামাটা নোটবুক। সাংবাদিকরা সেখানে হাতে লেখা ১৫৫টি নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে পেয়েছেন। ‘দ্য স্পাইডার’ নামে পরিচিত লুকিয়ার যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।আসাদের পতনের পর রাতারাতি উধাও হয়ে যান তিনি। সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।লুকিয়াকে খুঁজে বের করতে লন্ডনে ফিরে নোটবুকের নম্বরগুলো যাচাই শুরু করেন সাংবাদিকরা। সামরিক কমান্ডার ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে সাড়া না পেয়ে একজন রিপোর্টার সিরিয়ায় গিয়ে নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান মেলে।মাহমুদ জানান, সরকার পতনের আগের রাতে রাজধানী থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন লুকিয়া। পরবর্তীতে লেবাননের সূত্র এবং অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার ও নববর্ষের কার্ডের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি ভিন্ন নামে রাশিয়ান পাসপোর্ট নিয়ে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে গেছেন।তদন্তকারীরা অবশেষে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে কল করে নিশ্চিত হন যে লাইনটিতে তিনিই কথা বলছেন। পরে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে কল করলে লুকিয়া ফোন ধরে ভয়ের সুরে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কথা বলার মতো ঝুঁকিতে নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে আরেকটি সিরিয়ান নম্বর ও মেসেজিং অ্যাপের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয় যে হিসসাম লুকিয়া এখন মস্কোর উপকণ্ঠে দুটি আলাদা উপশহরে লুকিয়ে আছেন।রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণ বা কোনো মন্তব্য না পাওয়ায়, হোমসের নিহত শিশু ওয়ায়েলের বাবা মোহাম্মদের মতো যারা ন্যায়বিচারের আশায় আছেন, তাদের জন্য এই খবর নতুন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সূত্র: বিবিসি

সিরিয়ার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ফ্ল্যাটে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে আবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শনিবার রাজধানী কিয়েভজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পর রাজধানীর দুটি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য কিয়েভের বাসিন্দারা জানান, বিকট বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের কাছে বোরিসপিল এলাকার তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে আবাসিক ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি ভবনে আগুনও ধরে যায়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, একটি ভবন ও একটি জ্বালানি ট্যাংকে লাগা আগুন নেভাতে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। কিয়েভের গ্যারেজ, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ভবনে আগুন লাগার ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা ডিএসএনএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ক্রমেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হলো। এতে রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং কিয়েভের সেই হামলা ঠেকানোর সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে যায় এবং অত্যন্ত খাড়া পথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার জন্য অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনের হাতে থাকা একমাত্র অস্ত্র, যা এসব ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভরযোগ্যভাবে প্রতিহত করতে পারে। তবে কিয়েভের কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজেদের শহরগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তিনি এর জন্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে দায়ী করেন। ওই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে জানান তিনি। ইউক্রেন সরকারের উপদেষ্টাদের ধারণা, রাশিয়া এখন মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। আর শীত শুরু হলে মস্কো তাদের আক্রমণ আরও জোরালো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সর্বশেষ রুশ হামলার সময় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে এমন লজিস্টিকস বা সরবরাহকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হন।

ইউক্রেনে ফের রুশ হামলা, শিশুসহ নিহত ৩

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬, আহত বহু মানুষ

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ লক্ষ্য করে উড়ে আসা শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ ড্রোন হামলায় খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুমি শহরে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমার হামলায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, ওডেসার গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, কৃষ্ণ সাগরে রুশ হামলায় গমবাহী একটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় জানায়, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘মেরা কুইন’ নামের জাহাজটি বুধবার গভীর রাতে রাশিয়ার হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বাণিজ্য ও রফতানি পথ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে এবং দেশটির কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী বন্দরগুলোতে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে।এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ বাহিনী গত বুধবার রাতে ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬, আহত বহু মানুষ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream