বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ



সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ
সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ

পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মাধ্যমে চার দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে।

বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘বদর মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে দেশগুলো। পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের পক্ষে খাজা আসিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের বিকাশে এই সমঝোতা ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি।

সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা ‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কী কী অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা কোনও যৌথ সামরিক বাহিনী বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চার দেশের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানের সঙ্গে কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সক্রিয় হয়েছে।

পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটেরও সদস্য। ওই জোটের মূল নীতিতে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর কোনও একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জোটটির লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা।

এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল কাতার। দেশটি তখন এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।

তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে ‘বদর’ সমঝোতার সম্পর্ক কী হবে, কিংবা নতুন চুক্তিটি ওই জোটের কাঠামোর সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

চার দেশের নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার পরিধি বাড়তে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই এর কার্যকর প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। 

সূত্র: ডন নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি

বিষয় : পাকিস্তান তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া কাতার বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি সই চার মুসলিমপ্রধান দেশের

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মাধ্যমে চার দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে।

বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘বদর মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে দেশগুলো। পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের পক্ষে খাজা আসিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের বিকাশে এই সমঝোতা ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি।

সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা ‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কী কী অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা কোনও যৌথ সামরিক বাহিনী বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চার দেশের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানের সঙ্গে কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সক্রিয় হয়েছে।

পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটেরও সদস্য। ওই জোটের মূল নীতিতে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর কোনও একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জোটটির লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা।

এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল কাতার। দেশটি তখন এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।

তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে ‘বদর’ সমঝোতার সম্পর্ক কী হবে, কিংবা নতুন চুক্তিটি ওই জোটের কাঠামোর সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

চার দেশের নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার পরিধি বাড়তে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই এর কার্যকর প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। 

সূত্র: ডন নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream